০১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

একজনের অনুপস্থিতিতে থমকে শিল্প, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার: নাসা গ্রুপ ঘিরে সংকট

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপ একসময় ছিল হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্র, রফতানি আয়ের বড় উৎস এবং মানবিক সহায়তার নির্ভরতা। কিন্তু এক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সেই বিশাল কাঠামো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিক, রোগী, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জীবনে।

শিল্প থেকে মানবিক সেবা, বিস্তৃত ছিল কার্যক্রম

নাসা গ্রুপের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি হতো। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে ছিল বড় অবদান।

শুধু শিল্প নয়, মানবিক দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি ছিল উল্লেখযোগ্য। দুটি হাসপাতালের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য চালু ছিল ৬০ শয্যার একটি হাসপাতাল। এছাড়া রাজাপুরে একটি মাদ্রাসায় শত শত অসচ্ছল শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা, আবাসন ও খাবার পেত।

প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ঈদে অসহায় মানুষের মাঝে পোশাক দেওয়ার মতো কার্যক্রমও ছিল নিয়মিত।

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেপ্তার

গ্রেফতারের পর ধস নেমেছে কার্যক্রমে

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় নাসা গ্রুপের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। একসময় যেখানে কর্মী সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারের বেশি, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় এক হাজারে।

কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা আর হতাশা স্পষ্ট।

থমকে গেছে হাসপাতাল ও শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোও এখন প্রায় বন্ধ। ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত হাসপাতালের সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের শিক্ষাজীবনও এখন অনিশ্চয়তায়।

নাসা গ্রুপকে সরকারিভাবে সহায়তা: চলবে তৈরি পোশাক কারখানার কার্যক্রম, ৩০  হাজারের বেশি শ্রমিকের চাকরি রক্ষায় উদ্যোগ

শ্রমিকদের বাঁচার আকুতি

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাদের দুর্দশার শুরু। তারা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এখন একজন মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে পুরো কাঠামো।

তারা দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি ও নিজেদের জীবিকা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তাদের কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রফতানি আয় কমে যায়, বাড়ে বেকারত্ব।

তাই মানবিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

একজনের অনুপস্থিতিতে থমকে শিল্প, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার: নাসা গ্রুপ ঘিরে সংকট

১১:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপ একসময় ছিল হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্র, রফতানি আয়ের বড় উৎস এবং মানবিক সহায়তার নির্ভরতা। কিন্তু এক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সেই বিশাল কাঠামো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিক, রোগী, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জীবনে।

শিল্প থেকে মানবিক সেবা, বিস্তৃত ছিল কার্যক্রম

নাসা গ্রুপের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি হতো। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে ছিল বড় অবদান।

শুধু শিল্প নয়, মানবিক দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি ছিল উল্লেখযোগ্য। দুটি হাসপাতালের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য চালু ছিল ৬০ শয্যার একটি হাসপাতাল। এছাড়া রাজাপুরে একটি মাদ্রাসায় শত শত অসচ্ছল শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা, আবাসন ও খাবার পেত।

প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ঈদে অসহায় মানুষের মাঝে পোশাক দেওয়ার মতো কার্যক্রমও ছিল নিয়মিত।

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেপ্তার

গ্রেফতারের পর ধস নেমেছে কার্যক্রমে

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় নাসা গ্রুপের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। একসময় যেখানে কর্মী সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারের বেশি, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় এক হাজারে।

কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা আর হতাশা স্পষ্ট।

থমকে গেছে হাসপাতাল ও শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোও এখন প্রায় বন্ধ। ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত হাসপাতালের সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের শিক্ষাজীবনও এখন অনিশ্চয়তায়।

নাসা গ্রুপকে সরকারিভাবে সহায়তা: চলবে তৈরি পোশাক কারখানার কার্যক্রম, ৩০  হাজারের বেশি শ্রমিকের চাকরি রক্ষায় উদ্যোগ

শ্রমিকদের বাঁচার আকুতি

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাদের দুর্দশার শুরু। তারা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এখন একজন মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে পুরো কাঠামো।

তারা দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি ও নিজেদের জীবিকা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তাদের কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রফতানি আয় কমে যায়, বাড়ে বেকারত্ব।

তাই মানবিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।