দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসা গ্রুপ একসময় ছিল হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্র, রফতানি আয়ের বড় উৎস এবং মানবিক সহায়তার নির্ভরতা। কিন্তু এক ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে সেই বিশাল কাঠামো এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিক, রোগী, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জীবনে।
শিল্প থেকে মানবিক সেবা, বিস্তৃত ছিল কার্যক্রম
নাসা গ্রুপের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রফতানি হতো। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে ছিল বড় অবদান।
শুধু শিল্প নয়, মানবিক দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি ছিল উল্লেখযোগ্য। দুটি হাসপাতালের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য চালু ছিল ৬০ শয্যার একটি হাসপাতাল। এছাড়া রাজাপুরে একটি মাদ্রাসায় শত শত অসচ্ছল শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষা, আবাসন ও খাবার পেত।
প্রতি বছর শীতবস্ত্র বিতরণ এবং ঈদে অসহায় মানুষের মাঝে পোশাক দেওয়ার মতো কার্যক্রমও ছিল নিয়মিত।

গ্রেফতারের পর ধস নেমেছে কার্যক্রমে
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় নাসা গ্রুপের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। একসময় যেখানে কর্মী সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারের বেশি, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় এক হাজারে।
কর্মহীন হয়ে পড়া হাজারো শ্রমিক এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা আর হতাশা স্পষ্ট।
থমকে গেছে হাসপাতাল ও শিক্ষা কার্যক্রম
প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোও এখন প্রায় বন্ধ। ফলে বিনামূল্যে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত হাসপাতালের সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাদের শিক্ষাজীবনও এখন অনিশ্চয়তায়।

শ্রমিকদের বাঁচার আকুতি
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাদের দুর্দশার শুরু। তারা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এখন একজন মানুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তার অনুপস্থিতিতে ধ্বংসের মুখে পড়েছে পুরো কাঠামো।
তারা দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি ও নিজেদের জীবিকা রক্ষার স্বার্থে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। তাদের কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রফতানি আয় কমে যায়, বাড়ে বেকারত্ব।
তাই মানবিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















