সরকারের বাড়তি অর্থের চাহিদা মেটাতে আবারও ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ নিলামে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো এই নিলামের মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির তারল্য পরিস্থিতিকেও নতুনভাবে সামনে এনেছে।
আবারও বিশেষ নিলামের সিদ্ধান্ত
আগামী ৮ তারিখ ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে এই বিশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে চলতি মাসে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ হাজার কোটি টাকা। সাধারণ সময়সূচির বাইরে গিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের জরুরি অর্থের প্রয়োজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কেন বাড়ছে ঋণের প্রয়োজন
অর্থনীতির ভেতরে রাজস্ব ঘাটতি এবং সরকারের বাড়তি ব্যয়ের চাপ এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি ও ভর্তুকিমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কোষাগারে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাত এখন সরকারের প্রধান নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছে।

ব্যাংকে বাড়তি তারল্য, সুযোগ নিচ্ছে সরকার
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কম থাকায় সেই অর্থের বড় অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অর্থ রাখছে। এতে সরকার সহজেই বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে।
ডলার কেনা ও বাজারে টাকার প্রবাহ
বছরের শুরু থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে আসছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে টাকার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এই বাড়তি তারল্যই সরকারের জন্য ঋণ নেওয়ার পথকে সহজ করেছে।
ঋণ পরিকল্পনা আরও বড় পরিসরে
এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে সরকার ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার কোটি টাকার মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঋণ নেওয়ার বাস্তব চিত্র
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঋণ সরকারের নিট ঋণ নয়। কারণ পুরোনো বিল ও বন্ডের মেয়াদ শেষ হলে নতুন নিলামের মাধ্যমে সেগুলো নবায়ন করা হয়। ফলে মোট ঋণের হিসাব বুঝতে হলে এই বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়।
বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি
বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি খুবই কম। নতুন বিনিয়োগের অভাব এবং ব্যবসায়ীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এতে ব্যাংকের হাতে থাকা অর্থ সরকার সহজেই টেনে নিতে পারছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















