বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের এক প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমন একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা সফল হলে আকাশ প্রতিরক্ষার খরচ ও কৌশল—দুটিই বদলে যেতে পারে।
নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য
ইউক্রেনের কোম্পানি ফায়ার পয়েন্ট এমন একটি সাশ্রয়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে কাজ করছে, যার মাধ্যমে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে খরচ এক মিলিয়ন ডলারের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই লক্ষ্য অর্জন করা যায়, তাহলে এটি আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
প্যাট্রিয়টের বিকল্প তৈরির চেষ্টা
বর্তমানে ইউক্রেনসহ অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সিস্টেমের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও খুব সীমিত পরিমাণে তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন এই উদ্যোগকে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও সক্ষমতা
ফায়ার পয়েন্ট শুধু প্রতিরক্ষা নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে এবং নতুন দুই ধরনের সুপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে পারবে, আর বড় সংস্করণটি প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হবে। এতে রাশিয়ার রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের পরিমাণ বাড়লে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে।
![]()
বিনিয়োগ ও মহাকাশ পরিকল্পনা
এই প্রকল্পে একটি মধ্যপ্রাচ্যের বড় বিনিয়োগকারী প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণসহ মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নের পথও খুলে যেতে পারে।
তবে এই বিনিয়োগ এখনো সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্ববাজারে নতুন প্রতিযোগিতা
ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কম খরচে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করছে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে এই ধরনের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফল হলে শুধু ইউক্রেন নয়, বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারেও নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















