বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা তৈরি হয়েছে ইরান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকিকে কেন্দ্র করে। একদিকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দার ভয় তৈরি হওয়ায় ব্রেন্ট তেলের দাম কিছুটা কমেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
তেলের দামে ভিন্নমুখী প্রবণতা
সাম্প্রতিক লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কোনো সমাধান না হয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ সংকটের সম্ভাবনাই এখন বাজারকে বেশি প্রভাবিত করছে। ফলে তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দামেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু পরিশোধনাগার তাৎক্ষণিক তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনেক বেশি দাম দিচ্ছে, যা বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও হরমুজ প্রণালী সংকট
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি। তিনি ইরানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সময়সীমার মধ্যে শর্ত না মানলে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে, যা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
হামলা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব
সময়ের সাথে সাথে ইরানে হামলার মাত্রা বেড়েছে। রেলপথ, সেতু, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্রেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে বাজারে দাম বাড়ছে এবং কিছু দেশ অস্বাভাবিক মুনাফা পেলেও অন্যরা ক্ষতির মুখে পড়ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়াবে, অন্যদিকে ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সামনে কী হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেলের বাজার এখন পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করছে। যদি সংঘাত আরও বাড়ে, তবে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং দাম আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান এলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা খুব স্পষ্ট নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















