মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কা বিশ্ববাজারকে নাড়া দিলেও চীন আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। তেল মজুদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং শিল্পখাতে স্বনির্ভরতার কৌশল চীনকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রেখেছে।
জ্বালানি সংকটেও কেন টিকে আছে চীন
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক হওয়া সত্ত্বেও চীন এই ধাক্কা সামাল দিতে পারছে। দীর্ঘদিন ধরে তেল মজুদ বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়া এবং শিল্প উৎপাদনে পরিবর্তন আনা—এই তিনটি কৌশল চীনকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ
চীন গত এক দশকে সৌর ও বায়ু শক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ফলে ডিজেল, পেট্রলসহ পরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমেছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও চীন এখন শীর্ষে, যা তেলের ব্যবহার আরও কমিয়ে দিয়েছে।
কয়লার ব্যবহার ও বিকল্প শিল্প কৌশল
চীন শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেই থেমে থাকেনি, বরং কয়লা ব্যবহার করে রাসায়নিক উৎপাদনেও এগিয়েছে। এই পদ্ধতিতে তেলের বিকল্প হিসেবে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলেও উৎপাদন থেমে যাচ্ছে না।
স্বনির্ভরতার পথে নীতি পরিবর্তন

চীনের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পখাতকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার পর থেকে দেশটি স্বনির্ভরতার দিকে আরও জোর দিয়েছে। এতে বিদেশি নির্ভরতা কমে গেছে এবং নিজস্ব উৎপাদনশীলতা বেড়েছে।
তেল মজুদ ও কৌশলগত প্রস্তুতি
চীন বহু বছর ধরে জরুরি তেল মজুদ বাড়িয়ে আসছে। মালাক্কা প্রণালীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই মজুদ আরও দ্রুত বাড়ানো হয়েছে, যা সংকটকালে বড় সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে প্রভাব তুলনামূলক কম পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতা চীনকে ভবিষ্যতে আরও স্বনির্ভর হওয়ার পথে উৎসাহ দেবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















