কায়রোর পরিচিত রাতের প্রাণচাঞ্চল্য এখন যেন ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। নতুন সরকারি নির্দেশে রাত নামার আগেই দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের দীর্ঘদিনের ব্যস্ত রাতের জীবন থমকে পড়েছে। একসময় যে শহর গভীর রাত পর্যন্ত আলো আর মানুষের ভিড়ে মুখর থাকত, এখন সেখানে সন্ধ্যার পরই নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।
আগেভাগে বন্ধ দোকান, থমকে ব্যবসা
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সপ্তাহের দিনে রাত নয়টার মধ্যে এবং সপ্তাহান্তে দশটার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। বিশেষ কিছু উৎসবের সময় সামান্য ছাড় থাকলেও ব্যবসায়ীদের জন্য এই পরিবর্তন বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
কায়রোর এক দোকানির ভাষায়, পর্যটকেরা যখন সন্ধ্যার পর শহরে আসেন, তখন মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, বিক্রি কমছে, আর আয় দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির চাপ

এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে জ্বালানি সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সরকার খরচ কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রাস্তার আলো কমানো এবং কিছু সরকারি প্রকল্প ধীরগতিতে চালানোর মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত
ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সন্ধ্যার পরই যাদের মূল ব্যবসা শুরু হত, তারা এখন কার্যত আয়ের বড় অংশ হারাচ্ছেন। অনেক দোকানে ইতোমধ্যেই কর্মীদের পালা করে কাজ করানো হচ্ছে, যাতে খরচ কিছুটা কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ যেহেতু অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাই এই সময়সীমা কমানো মানে সরাসরি আয় কমে যাওয়া।
সিনেমা ও পর্যটনে ধাক্কা
শুধু দোকানপাট নয়, সিনেমা হল এবং পর্যটন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। রাতের শো বন্ধ হওয়ায় সিনেমা শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক চলচ্চিত্রের মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, কায়রোর ঐতিহ্যবাহী বাজার ও দর্শনীয় স্থানগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকেরা হতাশ হচ্ছেন। শহরের রাতের প্রাণচাঞ্চল্য কমে যাওয়ায় পর্যটকদের আগ্রহও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বদলে যাচ্ছে শহরের পরিচিত জীবন
একসময় গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকা কায়রো এখন অনেকটাই নীরব। সন্ধ্যার পর দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট। অনেকেই এই পরিস্থিতিকে অতীতের মহামারি সময়ের সঙ্গে তুলনা করছেন।
তবু কিছু ব্যবসায়ী আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে মানুষ নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















