শ্রীলঙ্কায় আবারও বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় দেশটির সরকার এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন দামের চাপ
সোমবার ঘোষণা অনুযায়ী, তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের দাম প্রায় এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত মাসেও গ্যাসের দাম আট শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়কে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বেসরকারি এক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের খুচরা মূল্য ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৭০০ রুপিতে নিয়ে গেছে, যা আগে ছিল ৪৬৩০ রুপি। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ৪৭৬৫ রুপি নির্ধারণ করেছে, যা আগে ছিল ৩৯৯০ রুপি।

যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে শ্রীলঙ্কা অন্যতম।
দেশটি নিজস্বভাবে তেল বা গ্যাস উৎপাদন করে না, ফলে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও কয়লা আমদানি করতে হয়। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই দেশের ভেতরে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নতুন ঝুঁকি
২০২২ সালের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল শ্রীলঙ্কা। তবে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই প্রচেষ্টাকে আবারও হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামগ্রিক প্রভাব
জ্বালানি খাতে এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল রান্নার গ্যাসেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে খাদ্যদ্রব্যের দাম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















