যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। দামের দ্রুত পতনে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। এখন সবার নজর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে।
তেলের দামে তীব্র পতন
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে এসেছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে। যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৬ ডলারে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ পতনের ইঙ্গিত দেয়। এই দুই সূচকই বাজারে দ্রুত পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালী এখন বিনিয়োগকারীদের মূল চিন্তার জায়গা। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে সাধারণ সময়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রভাব
ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতি তেলের দামে তাৎক্ষণিক পতন এনে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও সরবরাহ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















