১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

পটুয়াখালীর পর মাতারবাড়িতেও কয়লা সংকট, উৎপাদন কমে বাড়ছে লোডশেডিং

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি আরও চাপে পড়েছে, কারণ পটুয়াখালীর বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার পর এবার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও দেখা দিয়েছে কয়লার সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে সারাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মাতারবাড়িতে উৎপাদন কমে গেছে

কক্সবাজারের মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্বাভাবিকভাবে এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াটে, যা গত কয়েক দিন ধরেই সীমিত অবস্থায় রয়েছে।

পটুয়াখালী কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ

কয়লা সংকটে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমেছে | The Business Standard

অন্যদিকে পটুয়াখালীর এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়লার অভাবই এর প্রধান কারণ। দরপত্র জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকেই কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এটি আবার চালু হতে পারে।

গ্রীষ্মে চাহিদা বাড়ায় সংকট তীব্র

শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্মের শুরুতেই তা দ্রুত বেড়েছে। এ সময় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রগুলো চালু থাকলে গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি ফিরতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিচালনাগত দুর্বলতার অভিযোগ

একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে দেশের অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যখন স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু কেন্দ্র কেন পারছে না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

কয়লা আমদানিতে বৈশ্বিক চাপ

বাংলাদেশে বেশিরভাগ কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় কয়লার বাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর সীমিত পরিমাণে রফতানি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি কার্যত বন্ধ রেখেছে।

তিন দেশ থেকে কয়লা আনার চিন্তা

যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেনি, তারা এখন বড় সংকটে পড়েছে। পটুয়াখালী কেন্দ্রও এই কারণেই বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

আগাম প্রস্তুতির অভাব

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই সংকট আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। যারা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে তারা সমস্যায় পড়েনি, কিন্তু যাদের প্রস্তুতি ছিল না তারা এখন বিপাকে পড়েছে।

কয়লার অভাবে মাতারবাড়ির সীমাবদ্ধতা

মাতারবাড়ি কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে। কয়েক দিন আগে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করতে পেরেছিল।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ | Barta Bazar

অন্যান্য কেন্দ্র স্বাভাবিক

দেশের অন্যান্য বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন রামপাল, পায়রা ও চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যেখানে একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

সারা দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং চলছে। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে সংকটও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

পটুয়াখালীর পর মাতারবাড়িতেও কয়লা সংকট, উৎপাদন কমে বাড়ছে লোডশেডিং

০২:২০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি আরও চাপে পড়েছে, কারণ পটুয়াখালীর বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার পর এবার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও দেখা দিয়েছে কয়লার সংকট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে সারাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মাতারবাড়িতে উৎপাদন কমে গেছে

কক্সবাজারের মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্বাভাবিকভাবে এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ৩১৫ মেগাওয়াটে, যা গত কয়েক দিন ধরেই সীমিত অবস্থায় রয়েছে।

পটুয়াখালী কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ

কয়লা সংকটে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমেছে | The Business Standard

অন্যদিকে পটুয়াখালীর এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়লার অভাবই এর প্রধান কারণ। দরপত্র জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকেই কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ এটি আবার চালু হতে পারে।

গ্রীষ্মে চাহিদা বাড়ায় সংকট তীব্র

শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্মের শুরুতেই তা দ্রুত বেড়েছে। এ সময় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ বা সীমিত উৎপাদনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রগুলো চালু থাকলে গ্রাহক পর্যায়ে স্বস্তি ফিরতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিচালনাগত দুর্বলতার অভিযোগ

একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে দেশের অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যখন স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু কেন্দ্র কেন পারছে না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

কয়লা আমদানিতে বৈশ্বিক চাপ

বাংলাদেশে বেশিরভাগ কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় কয়লার বাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর সীমিত পরিমাণে রফতানি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি কার্যত বন্ধ রেখেছে।

তিন দেশ থেকে কয়লা আনার চিন্তা

যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেনি, তারা এখন বড় সংকটে পড়েছে। পটুয়াখালী কেন্দ্রও এই কারণেই বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

আগাম প্রস্তুতির অভাব

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই সংকট আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব ছিল। যারা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে তারা সমস্যায় পড়েনি, কিন্তু যাদের প্রস্তুতি ছিল না তারা এখন বিপাকে পড়েছে।

কয়লার অভাবে মাতারবাড়ির সীমাবদ্ধতা

মাতারবাড়ি কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে। কয়েক দিন আগে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করতে পেরেছিল।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ | Barta Bazar

অন্যান্য কেন্দ্র স্বাভাবিক

দেশের অন্যান্য বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন রামপাল, পায়রা ও চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার কেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্র উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, যেখানে একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

সারা দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং চলছে। রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, ফলে সংকটও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না গেলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।