দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সীমান্তবর্তী একটি বিশাল প্রতারণা কেন্দ্র ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে অবস্থিত একটি কমপ্লেক্সে অন্তত ১০ হাজার মানুষ কাজ করছেন, যাদের বড় অংশই অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশাল প্রতারণা কমপ্লেক্সের চিত্র
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী সম্প্রতি ও’সমাচ এলাকায় অবস্থিত একটি রিসোর্ট কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের নিয়ে গেলে এর ব্যাপ্তি স্পষ্ট হয়। প্রায় ১৯৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা, যা প্রায় ১৫০টি ফুটবল মাঠের সমান।
অঞ্চলে এর আগে প্রতারণা কেন্দ্র থাকলেও এই কমপ্লেক্স আকার ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার দিক থেকে অনেক বড় এবং উন্নত। করোনাভাইরাস মহামারির সময় এসব প্রতারণা কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যেখানে কর্মীরা জটিল অনলাইন কৌশল ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে টার্গেট করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলে প্রায় তিন লাখ মানুষ এই ধরনের প্রতারণা শিল্পে জড়িত।

মালিকানা ও বিতর্ক
এই কমপ্লেক্সটি গত ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে আসে। জানা গেছে, এটি কম্বোডিয়ার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল, যিনি একই স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছেন।
কমপ্লেক্সজুড়ে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। এখানে মোট ১৫৭টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে প্রতারণা পরিচালনার অফিস, কর্মীদের থাকার জায়গা এবং বিলাসবহুল আবাসনও আছে। কর্মকর্তাদের মতে, অন্তত ১০ হাজার মানুষ এখানে বসবাস করছে।
প্রতারণার কৌশল ও লক্ষ্য
একটি চারতলা অফিসে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মীরা বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের লক্ষ্য করছিল। ২০২৫ সালে এসব প্রতারণায় আমেরিকানদের প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
অফিসের টেবিলগুলোতে চীনা ভাষায় লেখা স্ক্রিপ্ট, নোট এবং আমেরিকান সিম কার্ড পাওয়া গেছে। একটি স্ক্রিপ্টে ‘মিলা’ নামে একটি কাল্পনিক চরিত্র তৈরি করে মানুষকে স্বর্ণ ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রলোভনে ফেলার পরিকল্পনা ছিল।
কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
এই কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অঞ্চলের চীনা কর্মীদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে চীনা খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক স্বাদের খাবার পরিবেশন করা হয়।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতারণা
থাই সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই সমস্যার সমাধানে শুধু দুই দেশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিশ্বজুড়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গড়ে ওঠা প্রতারণা নেটওয়ার্ক এখন একটি বড় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমস্যা, যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















