০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

ইরানের সাইবার যুদ্ধের দুর্বলতা, কিন্তু বাস্তব যুদ্ধে শক্ত অবস্থান

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতে একটি অদ্ভুত বাস্তবতা সামনে এসেছে। ডিজিটাল যুদ্ধ বা সাইবার আক্রমণে প্রত্যাশিত শক্তি দেখাতে না পারলেও, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে দেশটি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধে সাইবার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একমাত্র নির্ধারক নয়।

সাইবার হামলায় প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
গত মাসে ইরানি হ্যাকার গ্রুপ ‘হান্দালা’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে কিছু ডিভাইস অচল করে দেয়। এই ঘটনার পর তারা এটিকে নতুন যুগের সাইবার যুদ্ধের সূচনা বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তব চিত্র তেমন শক্তিশালী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সাইবার হামলাগুলো মূলত ছোটখাটো বিঘ্ন সৃষ্টি, তথ্য চুরি বা প্রচারণামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সাইবার যুদ্ধ নিয়ে যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হচ্ছে।

NYT Opinion: Iran Is Losing the Cyberwar, Not the Real War | School of  Cybersecurity and Privacy

গোপন প্রস্তুতি নাকি সীমাবদ্ধতা
একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইরান কি বড় কোনো সাইবার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি তাদের সক্ষমতাই সীমিত? কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, অনেক কার্যক্রম হয়তো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বড় ধরনের আক্রমণ হলে তা গোপন রাখা কঠিন হতো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ হামলাই দ্রুত এবং পরিকল্পনাহীন। এতে বোঝা যায়, সাইবার ক্ষেত্রে ইরানের সংগঠিত সক্ষমতা এখনও পরিপক্ক নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা চাপ
এই দুর্বলতার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্ত প্রতিরোধ। যুদ্ধ চলাকালে তারা ইরানের সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর আঘাত হানে। এতে ইরানি হ্যাকারদের কার্যক্রমে বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সাইবার যুদ্ধকে সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে এই ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

Iranian hackers' targeting of US critical infrastructure has escalated  since start of war, US says | Reuters

বাস্তব যুদ্ধেই ইরানের শক্তি
সাইবার যুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এই বাস্তব সামরিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ভবিষ্যৎ সংঘাতের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সংঘাত আবার শুরু হয়, তাহলে ইরান তাদের সাইবার প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—সাইবার যুদ্ধ একা কোনো দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না।

আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শেষ পর্যন্ত বাস্তব সামরিক শক্তি এবং কৌশলই বড় ভূমিকা রাখে।

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

ইরানের সাইবার যুদ্ধের দুর্বলতা, কিন্তু বাস্তব যুদ্ধে শক্ত অবস্থান

০৩:১৯:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতে একটি অদ্ভুত বাস্তবতা সামনে এসেছে। ডিজিটাল যুদ্ধ বা সাইবার আক্রমণে প্রত্যাশিত শক্তি দেখাতে না পারলেও, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে দেশটি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধে সাইবার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা একমাত্র নির্ধারক নয়।

সাইবার হামলায় প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
গত মাসে ইরানি হ্যাকার গ্রুপ ‘হান্দালা’ যুক্তরাষ্ট্রের একটি চিকিৎসা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে কিছু ডিভাইস অচল করে দেয়। এই ঘটনার পর তারা এটিকে নতুন যুগের সাইবার যুদ্ধের সূচনা বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তব চিত্র তেমন শক্তিশালী নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সাইবার হামলাগুলো মূলত ছোটখাটো বিঘ্ন সৃষ্টি, তথ্য চুরি বা প্রচারণামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সাইবার যুদ্ধ নিয়ে যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত বলে মনে করা হচ্ছে।

NYT Opinion: Iran Is Losing the Cyberwar, Not the Real War | School of  Cybersecurity and Privacy

গোপন প্রস্তুতি নাকি সীমাবদ্ধতা
একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইরান কি বড় কোনো সাইবার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি তাদের সক্ষমতাই সীমিত? কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, অনেক কার্যক্রম হয়তো এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বড় ধরনের আক্রমণ হলে তা গোপন রাখা কঠিন হতো।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ হামলাই দ্রুত এবং পরিকল্পনাহীন। এতে বোঝা যায়, সাইবার ক্ষেত্রে ইরানের সংগঠিত সক্ষমতা এখনও পরিপক্ক নয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা চাপ
এই দুর্বলতার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্ত প্রতিরোধ। যুদ্ধ চলাকালে তারা ইরানের সাইবার ইউনিট ও গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর আঘাত হানে। এতে ইরানি হ্যাকারদের কার্যক্রমে বিভ্রান্তি ও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে সাইবার যুদ্ধকে সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে এই ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

Iranian hackers' targeting of US critical infrastructure has escalated  since start of war, US says | Reuters

বাস্তব যুদ্ধেই ইরানের শক্তি
সাইবার যুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান ভিন্ন চিত্র দেখিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

এই বাস্তব সামরিক শক্তিই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ভবিষ্যৎ সংঘাতের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সংঘাত আবার শুরু হয়, তাহলে ইরান তাদের সাইবার প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—সাইবার যুদ্ধ একা কোনো দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না।

আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শেষ পর্যন্ত বাস্তব সামরিক শক্তি এবং কৌশলই বড় ভূমিকা রাখে।