জাপান দ্রুত বদলে দিচ্ছে তার সামরিক কৌশল। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটির স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী নতুন করে ড্রোন ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই গঠন করা হয়েছে ড্রোনকেন্দ্রিক দুটি নতুন দপ্তর, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরনকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।
নতুন ড্রোন দপ্তরের সূচনা
টোকিওতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থল আত্মরক্ষা বাহিনী দুটি নতুন অফিস চালু করেছে। একটি দপ্তর কাজ করবে ড্রোন প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নে, আর অন্যটি দায়িত্ব নেবে ড্রোন কেনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের।
এই দুটি দপ্তরে মোট ১৩ জন সদস্য কাজ করবেন, যারা মূলত ড্রোন ব্যবস্থাকে সামরিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার কাজ এগিয়ে নেবেন।

যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা থেকে শিক্ষা
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতগুলোতে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার জাপানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কম খরচে এবং দ্রুত ব্যবহারের সুবিধার কারণে ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
এই অভিজ্ঞতাগুলোই জাপানের নতুন নিরাপত্তা নীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে এবং সেই অনুযায়ী কৌশলও বদলাতে হবে। তিনি বলেন, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে যুদ্ধের নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
এছাড়া, ড্রোন ব্যবহারের ফলে সেনাদের ঝুঁকি কমবে এবং জনবল সংকটের সমস্যাও কিছুটা সমাধান হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনা
চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ রাখা হয়েছে একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক উদ্বেগ বেড়েছে।
ভবিষ্যতের সেনাবাহিনী কেমন হবে
জাপান এখন এমন একটি সেনাবাহিনী গড়তে চায়, যেখানে ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং শ্রম সাশ্রয়ী ব্যবস্থার ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।
বিশেষ করে যুদ্ধের সামনের সারিতে এই প্রযুক্তির প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধের চিত্রই পাল্টে দিতে পারে।
জাপানের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের যুগে টিকে থাকতে হলে সামরিক কৌশলে দ্রুত পরিবর্তন আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















