জাপানের কিয়োটো অঞ্চলের নান্তান শহরের পাহাড়ি এলাকা থেকে তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকা এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর শোক ও রহস্য। সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহটি পাওয়া যায় এবং পরদিন ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়, সেটি ১১ বছর বয়সী ইউকি আদাচির।
নিখোঁজের তিন সপ্তাহ পর সন্ধান
গত ২৩ মার্চ সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাবার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ইউকি। বাবা তাকে স্কুলের কাছে নামিয়ে দেন, কিন্তু পরে দেখা যায় সে আর স্কুলে পৌঁছায়নি। উপস্থিতি নেওয়ার সময় শিক্ষকরা তার অনুপস্থিতি বুঝতে পারেন এবং পরে পরিবারকে জানানো হয়। এরপরই পুলিশে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা অনুসন্ধানের পর সোমবার সন্ধ্যায় স্কুল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি তার বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত।

রহস্য ঘনীভূত করছে ঘটনাস্থল
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি মাটির ওপর উপুড় নয়, বরং চিৎ হয়ে পড়ে ছিল এবং এতে মাটি চাপা দেওয়ার কোনো চিহ্ন ছিল না। ছেলেটির গায়ে ছিল গাঢ় নীল জ্যাকেট, ধূসর সোয়েটশার্ট, বেইজ রঙের প্যান্ট ও মোজা—যা নিখোঁজের দিন তার পরনে ছিল বলে জানা যায়। সোয়েটশার্টে ‘৮৪’ নম্বরটি খোদাই করা ছিল, যা তার পরিচয়ের সঙ্গে মিলে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর কিছু সময় কেটে গেছে। তবে ঘটনাস্থলটি এমন একটি জায়গা, যেখানে কোনো শিশু একা, তাও জুতা ছাড়া পৌঁছানো অস্বাভাবিক। ফলে তদন্তকারীরা বিষয়টিতে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
খোঁজে মিলেছিল ব্যাগ ও জুতা
নিখোঁজের ছয় দিন পর, ২৯ মার্চ, অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া এক আত্মীয় পাহাড়ি এলাকায় তার হলুদ ব্যাগটি খুঁজে পান। সেটি স্কুল থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। আশ্চর্যের বিষয়, সেই এলাকায় আগেও একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কিন্তু তখন কিছুই পাওয়া যায়নি।

এরপর গত রবিবার, তার বাড়ি থেকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তরের পাহাড়ি এলাকা থেকে এক জোড়া কালো জুতা উদ্ধার করা হয়, যা তারই বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্ত চলছে, প্রশ্ন রয়ে গেছে
পুরো ঘটনাটি ঘিরে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কীভাবে এবং কেন সে ওই দুর্গম এলাকায় পৌঁছাল, তা নিয়ে চলছে বিস্তৃত তদন্ত। পুলিশ আশপাশের এলাকায় আরও তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর একটি পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে অসহনীয় বেদনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















