ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বালিকাতান সামরিক মহড়ায় জাপানের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হতে যাচ্ছে। দেশটির যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, এ মাসের শেষ দিকে প্রায় ১,৪০০ সেনা সদস্য, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হবে।
বড় পরিসরে অংশগ্রহণ
২০ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সেনা সংখ্যার দিক থেকে জাপান তৃতীয় অবস্থানে থাকবে। ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের পরই রয়েছে তাদের অবস্থান। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার ও চিকিৎসা ইউনিট থেকেও সদস্য নেওয়া হয়েছে, যা এই অংশগ্রহণকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।
নতুন চুক্তির প্রভাব

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া টোকিও ও ম্যানিলার মধ্যে সেনা উপস্থিতি সংক্রান্ত চুক্তির ফলে এই বড় মোতায়েন সম্ভব হয়েছে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জাপান এখন নিজেদের নিরাপত্তা ভূমিকা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। বিশেষ করে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত
এবারের মহড়ায় নৌ অভিযান, বিমান পরিবহন, উভচর যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও সাইবার প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন জটিল কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরাসরি গুলি চালনার মহড়াও হবে। এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাত পরিস্থিতি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য সংঘাতের অনুশীলন
মহড়ার বিভিন্ন অংশে বহুজাতিক সমুদ্র অভিযান, উপকূলে আক্রমণ প্রতিহত করা, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সাইবার হামলার জবাব দেওয়ার অনুশীলন থাকবে। পাশাপাশি যৌথ চিকিৎসা সহায়তা ও রানওয়ে মেরামতের মতো কার্যক্রমও থাকবে, যা বড় ধরনের সংঘাত পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের গুরুত্ব
এই মহড়ায় জাপানের স্থলবাহিনীর টাইপ-৮৮ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাল্লার এই অস্ত্র উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা শত্রু জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সমুদ্র প্রতিরক্ষা ও দ্বীপ রক্ষার কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া জাপানের অন্যতম বড় যুদ্ধজাহাজ ইসে হেলিকপ্টারবাহী রণতরীও মোতায়েন করা হবে। এটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি হেলিকপ্টার পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে, যা উভচর অভিযান, সরবরাহ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার
জাপান বলছে, এই মহড়ার মাধ্যমে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে। একই সঙ্গে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















