১১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

ফুটেনমা ঘাঁটি ফেরত নিয়ে ৩০ বছরেও অগ্রগতি নেই, ওকিনাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে

জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ফুটেনমা ফেরত দেওয়ার চুক্তির তিন দশক পার হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালে টোকিও ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে ঘাঁটিটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়নি।

চুক্তি ও বাস্তবতার ফারাক

১৯৯৫ সালে একটি গুরুতর অপরাধের পর ওকিনাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষ তীব্র হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে ফুটেনমা ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শুরু থেকেই একটি শর্ত ছিল—ঘাঁটিটি ওকিনাওয়ার মধ্যেই অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। এই শর্তই পরে নতুন করে বিতর্ক ও বিরোধের জন্ম দেয়।

হেনোকোতে স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

সরকার ফুটেনমা ঘাঁটিকে নাগো শহরের হেনোকো উপকূলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বিরোধিতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। বিভিন্ন সরকার এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত একই সিদ্ধান্তে ফিরে এসেছে, যা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

বর্তমান ওকিনাওয়া গভর্নরও এই স্থানান্তরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের গণভোটে অধিকাংশ ভোটার হেনোকোতে স্থানান্তরের বিরোধিতা করেন, যা এই ইস্যুর গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ও দুর্ঘটনার ইতিহাস

ফুটেনমা ঘাঁটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি বলা হয়, কারণ এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। স্কুল ও বসতবাড়ির কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ২০০৪ সালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার কাছের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘসূত্রতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জাপান সরকার এখন ২০৩৬ সালের মধ্যে ঘাঁটি ফেরত দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে হেনোকোতে নতুন ঘাঁটি নির্মাণ অত্যন্ত জটিল, কারণ সমুদ্রের নিচের নরম মাটি শক্ত করতে হাজার হাজার খুঁটি বসানোর কাজ করতে হচ্ছে।

30 yrs after accord with Japan, return of US Futenma base still far off -  The Mainichi

স্থানীয়দের হতাশা ও বিভক্তি

দীর্ঘ ৩০ বছরে কোনো বাস্তব পরিবর্তন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নেওয়া মানে অন্য এলাকার মানুষের ওপর একই সমস্যা চাপিয়ে দেওয়া।

এদিকে নির্মাণকাজ ঘিরে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই প্রতিবাদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও এই ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

সমাধান এখনো অনিশ্চিত

সরকারের মতে, হেনোকোতেই স্থানান্তরই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। তবে স্থানীয়দের বড় একটি অংশ এখনো এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। ফলে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ফুটেনমা ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 

 

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

ফুটেনমা ঘাঁটি ফেরত নিয়ে ৩০ বছরেও অগ্রগতি নেই, ওকিনাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে

১২:৩০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ফুটেনমা ফেরত দেওয়ার চুক্তির তিন দশক পার হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালে টোকিও ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে ঘাঁটিটি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়নি।

চুক্তি ও বাস্তবতার ফারাক

১৯৯৫ সালে একটি গুরুতর অপরাধের পর ওকিনাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষ তীব্র হয়ে ওঠে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে ফুটেনমা ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শুরু থেকেই একটি শর্ত ছিল—ঘাঁটিটি ওকিনাওয়ার মধ্যেই অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। এই শর্তই পরে নতুন করে বিতর্ক ও বিরোধের জন্ম দেয়।

হেনোকোতে স্থানান্তর নিয়ে বিতর্ক

সরকার ফুটেনমা ঘাঁটিকে নাগো শহরের হেনোকো উপকূলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বিরোধিতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধার মুখে পড়ে। বিভিন্ন সরকার এই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত একই সিদ্ধান্তে ফিরে এসেছে, যা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

বর্তমান ওকিনাওয়া গভর্নরও এই স্থানান্তরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের গণভোটে অধিকাংশ ভোটার হেনোকোতে স্থানান্তরের বিরোধিতা করেন, যা এই ইস্যুর গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ও দুর্ঘটনার ইতিহাস

ফুটেনমা ঘাঁটিকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি বলা হয়, কারণ এটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। স্কুল ও বসতবাড়ির কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ২০০৪ সালে একটি সামরিক হেলিকপ্টার কাছের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘসূত্রতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জাপান সরকার এখন ২০৩৬ সালের মধ্যে ঘাঁটি ফেরত দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে হেনোকোতে নতুন ঘাঁটি নির্মাণ অত্যন্ত জটিল, কারণ সমুদ্রের নিচের নরম মাটি শক্ত করতে হাজার হাজার খুঁটি বসানোর কাজ করতে হচ্ছে।

30 yrs after accord with Japan, return of US Futenma base still far off -  The Mainichi

স্থানীয়দের হতাশা ও বিভক্তি

দীর্ঘ ৩০ বছরে কোনো বাস্তব পরিবর্তন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, এক জায়গা থেকে সরিয়ে অন্য জায়গায় নেওয়া মানে অন্য এলাকার মানুষের ওপর একই সমস্যা চাপিয়ে দেওয়া।

এদিকে নির্মাণকাজ ঘিরে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই প্রতিবাদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও এই ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

সমাধান এখনো অনিশ্চিত

সরকারের মতে, হেনোকোতেই স্থানান্তরই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। তবে স্থানীয়দের বড় একটি অংশ এখনো এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। ফলে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও ফুটেনমা ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।