০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

এআই বিদ্যুতের চাপে ফের কয়লার দিকে যুক্তরাষ্ট্র, দূষণে শ্বাসরুদ্ধ সেন্ট লুইস

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে—বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আবারও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে, বিশেষ করে সেন্ট লুইস শহরের মতো এলাকায়, যেখানে আগেই বায়ুদূষণ বড় সমস্যা হয়ে ছিল।

দূষণ কমার আশা ভেঙে গেল

কয়েক বছর আগে কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে আশা তৈরি হয়েছিল যে, পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হয় বন্ধ হবে, নয়তো তাদের দূষণ কমাতে বাধ্য করা হবে। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আবার উল্টো পথে হাঁটছে। ফলে বহু বছর ধরে পরিষ্কার বাতাসের জন্য আন্দোলন করা মানুষদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এআই ও ডেটা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ চাহিদা

Beth Gutzler views air quality data on the AirWatchSTL website on a laptop in Florissant, Missouri, in February. Last year, metro St. Louis residents had

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে বিশাল ডেটা কেন্দ্র প্রয়োজন, আর এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুৎ লাগে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে দ্রুত ও সস্তা জ্বালানি হিসেবে আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার যতটা দ্রুত হওয়ার কথা ছিল, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেন্ট লুইসে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

সেন্ট লুইস শহর ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দূষিত শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বছরের বড় সময়জুড়ে বাতাসের মান খারাপ থাকে। শহরের কাছে অবস্থিত বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সূক্ষ্ম কণার দূষণ ছড়াচ্ছে, যা মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দূষণের কারণে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

Barbara Johnson stands beside her husband as he uses an oxygen concentrator inside their home in Florissant, Missouri, in February.

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি প্রভাব

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিম্নআয়ের ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা বেশি সংখ্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাস করেন এবং দূষণের সরাসরি প্রভাব সহ্য করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষণের কারণে তাদের মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।

বিদ্যুৎ বনাম পরিবেশ—দ্বন্দ্ব বাড়ছে

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু পরিবেশবিদরা বলছেন, সস্তা বিদ্যুতের আড়ালে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তার খরচ অনেক বেশি।

সামনে কী

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডেটা কেন্দ্রের বিস্তার অব্যাহত থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দীর্ঘদিন চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

এআই বিদ্যুতের চাপে ফের কয়লার দিকে যুক্তরাষ্ট্র, দূষণে শ্বাসরুদ্ধ সেন্ট লুইস

০১:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে—বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে আবারও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে, বিশেষ করে সেন্ট লুইস শহরের মতো এলাকায়, যেখানে আগেই বায়ুদূষণ বড় সমস্যা হয়ে ছিল।

দূষণ কমার আশা ভেঙে গেল

কয়েক বছর আগে কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে আশা তৈরি হয়েছিল যে, পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হয় বন্ধ হবে, নয়তো তাদের দূষণ কমাতে বাধ্য করা হবে। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি আবার উল্টো পথে হাঁটছে। ফলে বহু বছর ধরে পরিষ্কার বাতাসের জন্য আন্দোলন করা মানুষদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এআই ও ডেটা কেন্দ্রের বিদ্যুৎ চাহিদা

Beth Gutzler views air quality data on the AirWatchSTL website on a laptop in Florissant, Missouri, in February. Last year, metro St. Louis residents had

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে বিশাল ডেটা কেন্দ্র প্রয়োজন, আর এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুৎ লাগে। এই বাড়তি চাহিদা পূরণে দ্রুত ও সস্তা জ্বালানি হিসেবে আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার যতটা দ্রুত হওয়ার কথা ছিল, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেন্ট লুইসে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

সেন্ট লুইস শহর ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দূষিত শহরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বছরের বড় সময়জুড়ে বাতাসের মান খারাপ থাকে। শহরের কাছে অবস্থিত বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও সূক্ষ্ম কণার দূষণ ছড়াচ্ছে, যা মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দূষণের কারণে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

Barbara Johnson stands beside her husband as he uses an oxygen concentrator inside their home in Florissant, Missouri, in February.

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি প্রভাব

এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন নিম্নআয়ের ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা বেশি সংখ্যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি বসবাস করেন এবং দূষণের সরাসরি প্রভাব সহ্য করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দূষণের কারণে তাদের মৃত্যুহার জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।

বিদ্যুৎ বনাম পরিবেশ—দ্বন্দ্ব বাড়ছে

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু পরিবেশবিদরা বলছেন, সস্তা বিদ্যুতের আড়ালে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তার খরচ অনেক বেশি।

সামনে কী

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডেটা কেন্দ্রের বিস্তার অব্যাহত থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দীর্ঘদিন চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।