০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা সয়াবিন তেলের সংকটে বাজারে চাপ, আমদানি-ব্যাংকিং ও বৈশ্বিক দামের বড় পরীক্ষা কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু সহ নিহত ৩, আহত অন্তত ১১ হবিগঞ্জ হাওরে জ্বালানি সংকট ও বৃষ্টির ধাক্কা: ধানের দাম অর্ধেকে নেমে কৃষকের দুশ্চিন্তা ইরান যুদ্ধ থামাবে না যুদ্ধবিরতি, বরং নতুন এক অন্তহীন সংঘাতের পথ খুলে দিল যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা দরপত্রেও সাড়া কম, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সার বাজারে গভীর সংকট গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্বে ঢাবির সাবেক ভিসি নিয়াজ আহমদ খান পশ্চিমবঙ্গের ভোটে চূড়ান্ত লড়াই, কারচুপির অভিযোগে উত্তপ্ত শেষ ধাপ নাহিদ ইসলাম দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁনের মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে আজ লড়াই, সিমিওনের দুর্গ ভাঙতে পারবে কি আর্সেনাল?

তাইওয়ান-চীন সম্পর্ক নতুন মোড়ে, বেইজিং সফরে বিরোধী নেতার পদক্ষেপে উত্তপ্ত বিতর্ক

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের চেয়ারপারসন চেং লি-উনের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক একদিকে যেমন রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে, অন্যদিকে এটি তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহাসিক বৈঠক, কিন্তু প্রশ্নও অনেক

দশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কুওমিনতাংয়ের কোনো চেয়ারপারসন চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করলেন। চেং এই বৈঠকে শান্তি ও সংলাপের কথা বললেও তার এই উদ্যোগকে অনেকেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছেন।

বিশেষ করে সমালোচকদের মতে, চেং কোনো সরকারি পদে না থাকায় তাইওয়ানের পক্ষ থেকে আলোচনার ক্ষমতা তার নেই। ফলে এই বৈঠককে অনেকে প্রতীকী বলেই দেখছেন।

China should abandon threats against Taiwan, US diplomat says | Reuters

চীনমুখী কৌশল ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

চেং ও তার দলের একাংশ মনে করছে, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নই নিরাপদ পথ। তারা মনে করে, সামরিক প্রতিযোগিতার চেয়ে সংলাপ বেশি কার্যকর হতে পারে।

কিন্তু এই অবস্থান তাইওয়ানের বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হলেও বিরোধী দল সেই বাজেট আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

‘১৯৯২ ঐকমত্য’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

চেং তার বক্তব্যে তথাকথিত ‘১৯৯২ ঐকমত্য’-এর ওপর জোর দিয়েছেন, যা একসময় চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই ধারণাটি নিয়ে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে এই ঐকমত্যকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’-র সঙ্গে যুক্ত করার পর এটি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই পুরনো কাঠামোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।

Chinese President Xi to meet Taiwan's KMT chief for first time in decade |  The Straits Times

অর্থনৈতিক প্রস্তাব, কিন্তু বাস্তবায়নে বাধা

চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকের পর বেশ কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো, পর্যটন পুনরায় চালু করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি।

তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনিশ্চিত। ফলে প্রস্তাবগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক লাভ না ক্ষতি?

চেংয়ের এই সফর তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে এটি তার জন্য রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে।

Cheng's visit contributes to peaceful devt of cross-Straits ties - Global  Times

তবে একই সঙ্গে চীনের প্রতি তার এই ঝোঁক ভবিষ্যতে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

বড় সুবিধা পেল কে?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে চীনের। কারণ, এতে তারা দেখাতে পেরেছে যে, তাইওয়ানের ভেতরেই তাদের সঙ্গে সংলাপের পক্ষপাতী শক্তি রয়েছে।

এছাড়া, এই বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।

 

১৩ পাউন্ডের ব্রোকলি নিয়ে ক্ষোভ, ‘শো’ হয়ে যাচ্ছে খাবার—রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি নিয়ে পপি ও’টুলের তীব্র সমালোচনা

তাইওয়ান-চীন সম্পর্ক নতুন মোড়ে, বেইজিং সফরে বিরোধী নেতার পদক্ষেপে উত্তপ্ত বিতর্ক

০১:২৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের চেয়ারপারসন চেং লি-উনের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক একদিকে যেমন রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে, অন্যদিকে এটি তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহাসিক বৈঠক, কিন্তু প্রশ্নও অনেক

দশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কুওমিনতাংয়ের কোনো চেয়ারপারসন চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করলেন। চেং এই বৈঠকে শান্তি ও সংলাপের কথা বললেও তার এই উদ্যোগকে অনেকেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছেন।

বিশেষ করে সমালোচকদের মতে, চেং কোনো সরকারি পদে না থাকায় তাইওয়ানের পক্ষ থেকে আলোচনার ক্ষমতা তার নেই। ফলে এই বৈঠককে অনেকে প্রতীকী বলেই দেখছেন।

China should abandon threats against Taiwan, US diplomat says | Reuters

চীনমুখী কৌশল ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

চেং ও তার দলের একাংশ মনে করছে, বর্তমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নই নিরাপদ পথ। তারা মনে করে, সামরিক প্রতিযোগিতার চেয়ে সংলাপ বেশি কার্যকর হতে পারে।

কিন্তু এই অবস্থান তাইওয়ানের বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হলেও বিরোধী দল সেই বাজেট আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

‘১৯৯২ ঐকমত্য’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

চেং তার বক্তব্যে তথাকথিত ‘১৯৯২ ঐকমত্য’-এর ওপর জোর দিয়েছেন, যা একসময় চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই ধারণাটি নিয়ে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

বিশেষ করে চীনের পক্ষ থেকে এই ঐকমত্যকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’-র সঙ্গে যুক্ত করার পর এটি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই পুরনো কাঠামোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়।

Chinese President Xi to meet Taiwan's KMT chief for first time in decade |  The Straits Times

অর্থনৈতিক প্রস্তাব, কিন্তু বাস্তবায়নে বাধা

চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকের পর বেশ কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো, পর্যটন পুনরায় চালু করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি।

তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন, যা বর্তমানে অনিশ্চিত। ফলে প্রস্তাবগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক লাভ না ক্ষতি?

চেংয়ের এই সফর তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের আগে এটি তার জন্য রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে।

Cheng's visit contributes to peaceful devt of cross-Straits ties - Global  Times

তবে একই সঙ্গে চীনের প্রতি তার এই ঝোঁক ভবিষ্যতে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

বড় সুবিধা পেল কে?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সবচেয়ে বড় লাভ হয়েছে চীনের। কারণ, এতে তারা দেখাতে পেরেছে যে, তাইওয়ানের ভেতরেই তাদের সঙ্গে সংলাপের পক্ষপাতী শক্তি রয়েছে।

এছাড়া, এই বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।