মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নারী হঠাৎ করেই ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পরে ওই ব্যাগে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি বড় তদন্তে রূপ নেয়। পুলিশ এখন ওই নারীকে খুঁজছে এবং ঘটনাটিকে একটি বড় মাদক চক্রের অংশ হিসেবে দেখছে।
স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ে বিপুল মাদক
বিমানবন্দরের নিয়মিত ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক একটি লাগেজ ধরা পড়ে। পরে সেটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভেতরে ২৩টি প্যাকেটে প্রায় ২৪.৫ কেজি মেথামফেটামিন রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ রিঙ্গিতের বেশি।
নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ব্যাগের মালিককে ডেকে পাঠালে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই নারী দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। তিনি আর নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠেননি।
সন্দেহভাজন নারীকে খুঁজছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন নারীর নাম সিয়াজওয়ানি ফারহানা দ্রোন। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে তিনি কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার করা মাদক সাবাহ অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।
একই সময়ে ভাঙা হলো দুই মাদক চক্র
এদিকে একই সময়ে বিমানবন্দর ঘিরে আরও দুটি মাদক পাচার চক্র ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। এসব অভিযানে প্রায় ৪২ লাখ রিঙ্গিত মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযানে ৪৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ রিঙ্গিত। এসব মাদক আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ও তদন্তে নতুন তথ্য

এই ঘটনায় তিনজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বয়স ২৬ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী এবং দুইজন নিরাপত্তাকর্মী।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, দুইজনের শরীরে মাদক সেবনের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে দুজনের আগেও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
অন্য একটি ঘটনায়, বিমানবন্দরের কাছের একটি শপিং মলের পার্কিং এলাকা থেকে ১৯ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যাগে ১২.৫ কেজি মেথামফেটামিন পাওয়া যায়, যার মূল্য প্রায় ৬ লাখ ২৫ হাজার রিঙ্গিত।
মাদক পাচার রোধে জোরদার অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এসব ঘটনার পেছনে সংগঠিত আন্তর্জাতিক মাদক চক্র জড়িত থাকতে পারে। পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















