স্কুল প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কিশোরীর বাবা চালক শিক্ষিকাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
রবিবার দুপুরে স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় দুই শিক্ষার্থী স্কুলের নামাজঘরের সামনে জুতা পরছিল। হঠাৎ একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক কিশোরীর মৃত্যু হয় এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়।
আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
বাবার ক্ষমা, তদন্তের দাবি
![]()
নিহত কিশোরীর বাবা বলেন, একজন বাবা হিসেবে তিনি শিক্ষিকাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনাকে ভাগ্যের নির্মম পরিণতি হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টির তদন্ত পুলিশ করবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি শুধু জানতে চেয়েছিলেন কে তার মেয়েকে আঘাত করেছে। শিক্ষিকা নিজেই চালক হিসেবে পরিচয় দিলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, নীরব ছিলেন।
পরিবারের শোক ও অবস্থান
নিহতের পরিবারের সদস্যরা এখনও গভীর শোকে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীটির দেখাশোনা করা তার এক আত্মীয় জানান, পরিবার এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং তারা স্পষ্টভাবে কিছু ভাবতে পারছেন না। তারা আপাতত পুরো বিষয়টি তদন্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে আটক করে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে দুই দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অসাবধানতাবশত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালক ভুলবশত ব্রেকের পরিবর্তে এক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ায় গাড়িটি সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়।
শেষ বিদায়
নিহত কিশোরীকে রবিবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও সহপাঠীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তার মায়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে, যিনি কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছিলেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















