মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের বেলুরান এলাকার একটি বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে ৫২ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁবুর নিচে পাঠ নিচ্ছিল, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্যালয়টি নতুন করে গড়ে তুলতে অর্থ অনুমোদন দিয়েছে।
বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে বড় পরিকল্পনা
উপশিক্ষামন্ত্রী ওং কাহ ওহ জানান, এসকে বালাবান জয়া বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের এই বরাদ্দ গত বছরই অনুমোদন করা হয়। এটি দেশটির দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনার পঞ্চম রোলিং পরিকল্পনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ, একটি প্রশাসনিক ভবন, বিশেষ কক্ষ, শিক্ষকদের জন্য চারটি আবাসিক ইউনিট এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি ভবন নির্মাণ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।

কাজ শুরুর আগে প্রস্তুতি চলছে
বর্তমানে প্রকল্পটি নির্মাণ-পূর্ব ধাপে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ মাটির অবস্থা পরীক্ষা করেছে। এর পরপরই দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে। জানানো হয়েছে, আগামী মাসেই দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী স্থানান্তরের আলোচনা
এদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাবাহ শিক্ষা বিভাগ ও বেলুরান জেলা শিক্ষা অফিস অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। প্রস্তাব রয়েছে, আপাতত শিক্ষার্থীদের এসকে পেকান বেলুরান বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে অভিভাবক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মতামতও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কেন এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল

সম্প্রতি জানা যায়, ভূমি সরে যাওয়া এবং ঢালের অস্থিতিশীলতার কারণে বিদ্যালয়টির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের কখনও তাঁবুতে, কখনও মসজিদে ক্লাস করতে হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে।
এর পরই বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসে। সরকারের এই নতুন বরাদ্দ সেই সংকট নিরসনেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা অবকাঠামো নিয়ে নতুন বার্তা
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি বিদ্যালয়ের পুনর্গঠন নয়, বরং জরাজীর্ণ শিক্ষা অবকাঠামো মোকাবিলায় সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের প্রশ্নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















