ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বিলাসপণ্যের বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র দুবাই ও আবুধাবিতে বড় বড় ব্র্যান্ডের বিক্রি হঠাৎ কমে গেছে, যা এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
দুবাইয়ের মলে বড় ধাক্কা
মার্চ মাসে দুবাইয়ের অন্যতম বড় শপিং কমপ্লেক্সে বিলাসপণ্যের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ক্রেতাদের উপস্থিতিও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক মাসের ব্যবধানে দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় দোকানগুলোতে বিক্রিও পড়ে গেছে।
আরও বড় ধাক্কা দেখা গেছে শহরের আরেকটি জনপ্রিয় মলে, যেখানে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি। সেখানে ক্রেতা উপস্থিতি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ফলে বিক্রিও ব্যাপকভাবে কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আবুধাবিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা
দুবাইয়ের তুলনায় আবুধাবির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সেখানেও ধাক্কা লেগেছে। মার্চে সামগ্রিক বিক্রি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। পর্যটকের উপর তুলনামূলক কম নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে পতনের হার কম হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
কৌশলগত বাজারে অনিশ্চয়তা
গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্য ছিল বিলাসপণ্যের বাজারে অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অঞ্চল। বৈশ্বিক বিক্রির একটি ছোট অংশ হলেও এই অঞ্চলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত সেই স্থিতিশীলতা ভেঙে দিয়েছে।
২০২২ সালের পর থেকেই বিলাসপণ্যের বাজারে ধীরগতি দেখা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এই সংকট। ফলে বড় বড় কোম্পানির বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সামগ্রিক বিক্রি কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব ও আতঙ্ক
সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ড্রোন হামলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাতকে প্রভাবিত করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কেনাকাটার ওপর।
দুবাই দীর্ঘদিন ধরে যে নিরাপদ ও বিলাসবহুল গন্তব্য হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই ভাবমূর্তিও এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলেও পুরো বাজার ঘুরে দাঁড়াতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, ভ্রমণ খরচ বাড়া এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে।
এছাড়া এই সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ২০২৬ সালে যে পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছিল, তা পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লাভে বড় চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের বাজার আকারে ছোট হওয়ায় তাৎক্ষণিক বিক্রিতে বড় প্রভাব না পড়লেও লাভের ওপর চাপ অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি ছয় মাস অন্তর লাভের হিসাব দেয়, তাদের জন্য এই ধাক্কা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে বিলাসপণ্যের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, যা পুরো শিল্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দুবাই-আবুধাবিতে বিলাসপণ্যের বিক্রি কমে গেছে, বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















