নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলাটি মূলত জঙ্গি দমনের উদ্দেশ্যে চালানো হলেও সেটি ভুলবশত একটি স্থানীয় বাজারে আঘাত হানে বলে জানা গেছে। এতে শিশুদেরসহ বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও অনেকে।
ভুল লক্ষ্যবস্তুতে প্রাণহানি
স্থানীয় সূত্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইয়োবি প্রদেশের একটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি বর্নো প্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি তৎপরতা চলছে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না লেগে হামলাটি একটি ব্যস্ত বাজারে পড়ে, ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতি
মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় বাজারে প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিল, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অন্তত কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা
ইয়োবির একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, অন্তত ২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামরিক অভিযানে বারবার ভুলের অভিযোগ
নাইজেরিয়ায় জঙ্গি দমনে প্রায়ই বিমান হামলা চালানো হয়। তবে অতীতে এমন ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এ ধরনের অভিযানে শত শত বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যা সামরিক কৌশল ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সরকারি কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘ভুল আঘাত’ হিসেবে স্বীকার করলেও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে জঙ্গি দমনে সামরিক কৌশলের ঝুঁকি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















