অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশটির জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে আগেই চাপের মুখে থাকা জ্বালানি বাজারে এই ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও প্রাথমিক তথ্য
বুধবার গভীর রাতে মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ভিভা এনার্জির জিলং শোধনাগারে আগুন লাগে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনও সন্দেহজনক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং এতে কেউ আহত হয়নি।
দেশের জ্বালানি সরবরাহে শোধনাগারের গুরুত্ব
এই শোধনাগারটি অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দুটি তেল শোধনাগারের একটি। এখান থেকে দেশের মোট পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। ফলে এই স্থাপনার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সরকারের জরুরি পদক্ষেপ
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার দেশের বড় দুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাম্পল ও ভিভা এনার্জির সঙ্গে চুক্তি করে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গত সপ্তাহেই সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

উৎপাদনে প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা
জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে পেট্রোল উৎপাদনে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। নিরাপত্তার কারণে শোধনাগারটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েল উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি মোটেই ইতিবাচক নয় এবং এর প্রভাব পড়বেই।
আগুন নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু ঝুঁকি রয়ে গেছে
দমকল বাহিনী জানিয়েছে, আগুনটি শোধনাগারের পেট্রোল উৎপাদন ইউনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















