চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে হঠাৎ করে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়ে গেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জন শিশুকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই আসছে নতুন রোগী
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জ্বর, গায়ে ফুসকুড়ি এবং সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু হাসপাতালে আসছে। এতে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি চাপের মুখে পড়েছে।
আইসোলেশন চালু, তবুও শয্যা সংকট

পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি আলাদা আইসোলেশন কর্নার চালু করেছে। তবে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সুস্থ হয়ে ফিরছে অনেকে, গুরুতর রোগী স্থানান্তর
গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে গুরুতর অবস্থায় থাকা তিনজন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৭৫ জন শিশু একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
বছরের শুরু থেকে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭২১ জন শিশু হামের মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এ সময়ে চারজন শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সব উপসর্গই হাম নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জানান, সব রোগীই যে হাম আক্রান্ত তা নিশ্চিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে গরমের কারণে হওয়া ফুসকুড়ি, জ্বর ও সর্দি-কাশিকে হাম ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছেন অভিভাবকরা।
তিনি বলেন, সব সন্দেহজনক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। হালকা উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি, বিশেষ করে শয্যা সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















