০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পথে কেন এত বাধা মানুষের গল্প ক্যামেরায়: দূরত্ব পেরিয়ে চিকিৎসার খোঁজে এক মানবিক যাত্রা নিয়ম ভেঙে সুরের নতুন ভাষা, মঞ্চে একা দাঁড়িয়ে সঙ্গীতের সীমানা বদলে দিচ্ছেন আলিসা ওয়াইলারস্টাইন লোডশেডিং চরমে, গরমে নাজেহাল জনজীবন ও উৎপাদন ব্যাহত ইউয়ানে লৌহ আকরিকের দাম নির্ধারণে নতুন অধ্যায়, ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ লোম্বক প্রণালীতে চীনা ড্রোন উদ্ধার, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রতলের নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা তীব্র কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি সংকট, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি মির্জা ফখরুলের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে বাড়ছে সংক্রমণ বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা ঝিনাইদহে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল গৃহবধূর

জাপানে একাকী মৃত্যুর করুণ চিত্র: ২০২৫ সালে বাড়িতে একা অবস্থায় মৃত মিলল প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ

জাপানে ক্রমবর্ধমান সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নতুন পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৬ হাজার ৯৪১ জন মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে একা অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দ্রুত বদলে যাওয়া সমাজব্যবস্থা ও একাকীত্বের গভীর সংকটের প্রতিফলন।

একাকী মৃত্যুর পরিসংখ্যান কতটা বড়

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৫৬২টি মৃতদেহের ঘটনা সামলানো হয়। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল একাকী মৃত্যু।

এ থেকে বোঝা যায়, একা বসবাসের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাকী মৃত্যুর ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে।

বয়স্কদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি

এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণরা। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা ছিল মোট ঘটনার ৭৬.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৯১৯ জন।

২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা আরও ৮৭৫ জন বেড়েছে, যা বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর একাকীত্বের সংকটকে আরও স্পষ্ট করে।

জাপানে চলতি বছর বাড়িতে একাকী মারা গেছেন ৪০ হাজার মানুষ

কত দ্রুত মিলছে মৃতদেহ

অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর পর দ্রুতই দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মোট ২৮ হাজার ৩৯৮ জনকে মৃত্যুর দিন অথবা পরদিনই খুঁজে পাওয়া যায়।
২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১৫ হাজার ৮৬৫ জনকে।
৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১০ হাজার ৪৫৬ জনের দেহ।

তবে এই চিত্রের বিপরীতে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে অজানা পড়ে থাকার বহু ঘটনা।

Elderly life in japan | 40 thousand Old people died alone in Japan this  year dgtl - Anandabazar

‘একাকী মৃত্যু’ বা দীর্ঘদিন অজানা থাকা ঘটনা

সরকারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২২ হাজার ২২২টি দেহ, অর্থাৎ প্রায় ২৮.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে, মৃত্যুর অন্তত ৮ দিন পর খুঁজে পাওয়া গেছে। এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘একাকী মৃত্যু’।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যেও প্রবীণদের সংখ্যাই বেশি—প্রায় ৭১.৬ শতাংশ।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, অন্তত ৭ হাজার ১৪৮ জনের মৃত্যু ঘটেছিল এক মাসেরও বেশি আগে, অথচ পরে তাদের দেহ উদ্ধার করা হয়। এমনকি ২০৮টি ঘটনায় এক বছরেরও বেশি সময় পর মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

Elderly life in japan | 40 thousand Old people died alone in Japan this  year dgtl - Anandabazar

পুরুষদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি

এই দীর্ঘ সময় অজানা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

মোট ১৭ হাজার ৬২০ জন পুরুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নারীদের তুলনায় প্রায় ৩.৮ গুণ বেশি।

এটি বিশেষ করে প্রবীণ পুরুষদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার গভীর সমস্যার দিকটি তুলে ধরে।

সমাজে বাড়ছে একাকীত্ব

সরকারি তথ্য প্রকাশের এই উদ্যোগটি দ্বিতীয়বারের মতো নেওয়া হয়েছে, যাতে এই সমস্যার প্রকৃতি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ের হার কমে যাওয়া এবং একক পরিবার বৃদ্ধির ফলে এই প্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্রবীণদের, বিশেষ করে পুরুষদের, সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়াও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জাপানের এই চিত্র শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়—বরং আধুনিক নগরজীবনে বাড়তে থাকা একাকীত্বের একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

জীবনরক্ষাকারী ওষুধের পথে কেন এত বাধা

জাপানে একাকী মৃত্যুর করুণ চিত্র: ২০২৫ সালে বাড়িতে একা অবস্থায় মৃত মিলল প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ

০৩:৩০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জাপানে ক্রমবর্ধমান সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে নতুন পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ৭৬ হাজার ৯৪১ জন মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে একা অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দ্রুত বদলে যাওয়া সমাজব্যবস্থা ও একাকীত্বের গভীর সংকটের প্রতিফলন।

একাকী মৃত্যুর পরিসংখ্যান কতটা বড়

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৫৬২টি মৃতদেহের ঘটনা সামলানো হয়। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল একাকী মৃত্যু।

এ থেকে বোঝা যায়, একা বসবাসের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাকী মৃত্যুর ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে।

বয়স্কদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি

এই ধরনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন প্রবীণরা। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সংখ্যা ছিল মোট ঘটনার ৭৬.৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৯১৯ জন।

২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা আরও ৮৭৫ জন বেড়েছে, যা বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর একাকীত্বের সংকটকে আরও স্পষ্ট করে।

জাপানে চলতি বছর বাড়িতে একাকী মারা গেছেন ৪০ হাজার মানুষ

কত দ্রুত মিলছে মৃতদেহ

অনেক ক্ষেত্রেই মৃত্যুর পর দ্রুতই দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মোট ২৮ হাজার ৩৯৮ জনকে মৃত্যুর দিন অথবা পরদিনই খুঁজে পাওয়া যায়।
২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১৫ হাজার ৮৬৫ জনকে।
৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১০ হাজার ৪৫৬ জনের দেহ।

তবে এই চিত্রের বিপরীতে রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে অজানা পড়ে থাকার বহু ঘটনা।

Elderly life in japan | 40 thousand Old people died alone in Japan this  year dgtl - Anandabazar

‘একাকী মৃত্যু’ বা দীর্ঘদিন অজানা থাকা ঘটনা

সরকারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২২ হাজার ২২২টি দেহ, অর্থাৎ প্রায় ২৮.৯ শতাংশ ক্ষেত্রে, মৃত্যুর অন্তত ৮ দিন পর খুঁজে পাওয়া গেছে। এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘একাকী মৃত্যু’।

এই ঘটনাগুলোর মধ্যেও প্রবীণদের সংখ্যাই বেশি—প্রায় ৭১.৬ শতাংশ।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, অন্তত ৭ হাজার ১৪৮ জনের মৃত্যু ঘটেছিল এক মাসেরও বেশি আগে, অথচ পরে তাদের দেহ উদ্ধার করা হয়। এমনকি ২০৮টি ঘটনায় এক বছরেরও বেশি সময় পর মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

Elderly life in japan | 40 thousand Old people died alone in Japan this  year dgtl - Anandabazar

পুরুষদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি

এই দীর্ঘ সময় অজানা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

মোট ১৭ হাজার ৬২০ জন পুরুষের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নারীদের তুলনায় প্রায় ৩.৮ গুণ বেশি।

এটি বিশেষ করে প্রবীণ পুরুষদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার গভীর সমস্যার দিকটি তুলে ধরে।

সমাজে বাড়ছে একাকীত্ব

সরকারি তথ্য প্রকাশের এই উদ্যোগটি দ্বিতীয়বারের মতো নেওয়া হয়েছে, যাতে এই সমস্যার প্রকৃতি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ের হার কমে যাওয়া এবং একক পরিবার বৃদ্ধির ফলে এই প্রবণতা বাড়ছে। পাশাপাশি প্রবীণদের, বিশেষ করে পুরুষদের, সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়াও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, জাপানের এই চিত্র শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়—বরং আধুনিক নগরজীবনে বাড়তে থাকা একাকীত্বের একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।