০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আট মাস পর সংকুচিত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি যারা সার্কের ঐক্য চায় না, শুধু দুই দেশের ঐক্যের কথা বললে সন্দেহ থাকবে: তথ্যমন্ত্রী ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন ধীরাজ শেঠ, দায়িত্ব নেবেন ৩০ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের দাবি, কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, ফিনল্যান্ডগামী মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের কান্না বিশ্বকাপ ঘিরে চীনে ফুটবল উন্মাদনা, চাঙ্গা হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে জরুরি বিভাগ বন্ধ, সড়ক অবরোধে উত্তেজনা যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার, সোনারগাঁয়ে নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্নে উড়ান, শক্তিশালী সূচনায় ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়ল স্বাগতিকরা

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন এক বার্তা দিয়েছে, যা শুধু সমর্থকদের নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে তারা দেখিয়েছে, এবার শুধু অংশগ্রহণ নয়, আরও বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে জিও রেইনার দুর্দান্ত গোল জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্বাগতিকদের দাপুটে শুরু

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। বলের দখল, গতি এবং সংগঠিত আক্রমণে তারা প্যারাগুয়েকে চাপে রাখে। প্রথমার্ধে তাদের আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে প্রতিপক্ষ কার্যত ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে স্বাগতিক দলের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। তবে সেই চাপকে শক্তিতে পরিণত করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। দর্শকদের উচ্ছ্বাসও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

পচেত্তিনোর ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া দল

কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের খেলায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তার অধীনে দলটি আরও সংগঠিত, আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

পচেত্তিনো খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন মানসিকতা গড়ে তুলেছেন যেখানে তারা নিজেদের আর আন্ডারডগ হিসেবে দেখে না। বরং বড় দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

USA Start World Cup In Style - But Will They Finally Join The Elite? -  Capital Sports

ইউরোপে খেলা তারকাদের শক্তি

বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বহু ফুটবলার রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার অভ্যাস দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তৈরি দলটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিণত। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নও অনেক বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে।

পুলিসিচ ও বালোগুনের গুরুত্ব

ম্যাচে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন দুটি গোল করেন এবং দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুজনের একজন মাঠ ছাড়ার পর আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে টুর্নামেন্টে গভীর পর্যন্ত যেতে হলে এই দুই তারকার ফিটনেস ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি ম্যাচ দিয়েই কোনো দলকে শিরোপার দাবিদার বলা কঠিন। তবুও এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা এবং বর্তমান দলের আত্মবিশ্বাস তাদের বড় সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

আগামী ম্যাচগুলোতে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে চমক দেখানোর আলোচনাও আরও জোরালো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আট মাস পর সংকুচিত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্নে উড়ান, শক্তিশালী সূচনায় ফুটবল বিশ্বের নজর কাড়ল স্বাগতিকরা

০৬:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন এক বার্তা দিয়েছে, যা শুধু সমর্থকদের নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে তারা দেখিয়েছে, এবার শুধু অংশগ্রহণ নয়, আরও বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। অতিরিক্ত সময়ে জিও রেইনার দুর্দান্ত গোল জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মঞ্চে এত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্বাগতিকদের দাপুটে শুরু

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। বলের দখল, গতি এবং সংগঠিত আক্রমণে তারা প্যারাগুয়েকে চাপে রাখে। প্রথমার্ধে তাদের আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে প্রতিপক্ষ কার্যত ম্যাচে ফিরতে পারেনি।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে স্বাগতিক দলের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। তবে সেই চাপকে শক্তিতে পরিণত করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। দর্শকদের উচ্ছ্বাসও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

পচেত্তিনোর ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া দল

কোচ মরিসিও পচেত্তিনো দায়িত্ব নেওয়ার পর গত প্রায় দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের খেলায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তার অধীনে দলটি আরও সংগঠিত, আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

পচেত্তিনো খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন মানসিকতা গড়ে তুলেছেন যেখানে তারা নিজেদের আর আন্ডারডগ হিসেবে দেখে না। বরং বড় দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

USA Start World Cup In Style - But Will They Finally Join The Elite? -  Capital Sports

ইউরোপে খেলা তারকাদের শক্তি

বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বহু ফুটবলার রয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার অভ্যাস দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তৈরি দলটি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিণত। ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নও অনেক বেশি বাস্তব মনে হচ্ছে।

পুলিসিচ ও বালোগুনের গুরুত্ব

ম্যাচে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন দুটি গোল করেন এবং দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ একটি গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুজনের একজন মাঠ ছাড়ার পর আক্রমণের ধার কিছুটা কমে যায়। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে টুর্নামেন্টে গভীর পর্যন্ত যেতে হলে এই দুই তারকার ফিটনেস ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি ম্যাচ দিয়েই কোনো দলকে শিরোপার দাবিদার বলা কঠিন। তবুও এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা এবং বর্তমান দলের আত্মবিশ্বাস তাদের বড় সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

আগামী ম্যাচগুলোতে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে চমক দেখানোর আলোচনাও আরও জোরালো হবে।