০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট, তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে: আইইএ প্রধানের সতর্কতা টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-খুলনায় ভোগান্তি, দ্বিতীয় দিনেও দুর্ভোগ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত, সহযোগিতায় বাড়ছে জোর জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে নৃশংস পরিণতি, ফুলপুরে দাদিকে কুপিয়ে হত্যা নাতির চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ফিরছেন জেলেরা, ইলিশের আশায় নতুন শুরু হরমুজ প্রণালী বন্ধে জাপানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত খাদ্যে শূন্য কর নিয়ে জাপানে জটিলতা, বিকল্প হিসেবে উঠছে ১% প্রস্তাব ভারতের রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগে নামছে জাপানের বৃহত্তম ব্যাংক ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি ইউক্রেন, যুদ্ধ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে বিশ্বজোটের হাতিয়ার তেহরানে হিজাব শিথিলতার আভাস, বাস্তবে নারীর স্বাধীনতায় বড় পরিবর্তন নেই

মোদির বক্তব্যে দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ, নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাল্টা জবাব মমতার

মোদির অভিযোগের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় ভাষণে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভ্রূণ হত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার একদিন পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

মমতা বলেন, সংসদে না গিয়ে দূরদর্শনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়া ছিল “ভীতু ও দ্বিমুখী আচরণ”। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে সংসদের মেঝে থেকেই বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান, যেখানে জবাবদিহি ও বিতর্কের সুযোগ থাকে।

নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে অবস্থান

গত সপ্তাহে বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের কারণে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাস হয়নি। এই বিলের লক্ষ্য ছিল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাড়ানো এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পথ তৈরি করা।

Deeply unfortunate that PM chose to mislead nation over women's quota bill:  Mamata - The Hindu

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন, তাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস কখনও নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি। বরং তাদের দলে নারীদের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি।

তিনি তুলে ধরেন, লোকসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ নারী এবং রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ নারী। তার দাবি, নারী প্রতিনিধিত্বে তার দলই দেশের মধ্যে শীর্ষে।

বিরোধিতার আসল কারণ: ডিলিমিটেশন বিতর্ক

মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের আপত্তি মূলত নারী সংরক্ষণ নয়, বরং ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে।

তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার নারী সংরক্ষণকে সামনে রেখে রাজনৈতিক স্বার্থে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চায়, যাতে শাসক দলের নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো বেশি সুবিধা পায়।

তিনি এটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপর আঘাত এবং ফেডারেল গণতন্ত্রকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

Unfortunate': Mamata accuses PM Modi of misleading nation on women's  reservation bill

মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সরকার সত্যিই নারী সংরক্ষণ নিয়ে আন্তরিক হতো, তাহলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করা হলো কেন।

তার প্রশ্ন, একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন সময়েই কেন হঠাৎ করে এই বিল আনার তাড়া দেওয়া হলো এবং কেন এটি ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হলো।

রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ ও সতর্কবার্তা

একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, সংসদে সাম্প্রতিক পরাজয়ই প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক পতনের সূচনা। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণকে “সংখ্যালঘু সরকার হয়েও অহংকারী” বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

সবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে তাদের দল সবসময় সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, তবে এই বিষয়ে তারা কারও কাছ থেকে শিক্ষা নেবে না।

বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট, তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে: আইইএ প্রধানের সতর্কতা

মোদির বক্তব্যে দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ, নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাল্টা জবাব মমতার

০২:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মোদির অভিযোগের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় ভাষণে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভ্রূণ হত্যা’র মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার একদিন পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

মমতা বলেন, সংসদে না গিয়ে দূরদর্শনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়া ছিল “ভীতু ও দ্বিমুখী আচরণ”। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে সংসদের মেঝে থেকেই বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান, যেখানে জবাবদিহি ও বিতর্কের সুযোগ থাকে।

নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে অবস্থান

গত সপ্তাহে বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের কারণে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাস হয়নি। এই বিলের লক্ষ্য ছিল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাড়ানো এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পথ তৈরি করা।

Deeply unfortunate that PM chose to mislead nation over women's quota bill:  Mamata - The Hindu

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন, তাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস কখনও নারী সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি। বরং তাদের দলে নারীদের অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি।

তিনি তুলে ধরেন, লোকসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ নারী এবং রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ নারী। তার দাবি, নারী প্রতিনিধিত্বে তার দলই দেশের মধ্যে শীর্ষে।

বিরোধিতার আসল কারণ: ডিলিমিটেশন বিতর্ক

মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধীদের আপত্তি মূলত নারী সংরক্ষণ নয়, বরং ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে।

তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার নারী সংরক্ষণকে সামনে রেখে রাজনৈতিক স্বার্থে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চায়, যাতে শাসক দলের নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো বেশি সুবিধা পায়।

তিনি এটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপর আঘাত এবং ফেডারেল গণতন্ত্রকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

Unfortunate': Mamata accuses PM Modi of misleading nation on women's  reservation bill

মমতা আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সরকার সত্যিই নারী সংরক্ষণ নিয়ে আন্তরিক হতো, তাহলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিল পাস হওয়ার পর প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করা হলো কেন।

তার প্রশ্ন, একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন সময়েই কেন হঠাৎ করে এই বিল আনার তাড়া দেওয়া হলো এবং কেন এটি ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হলো।

রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ ও সতর্কবার্তা

একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, সংসদে সাম্প্রতিক পরাজয়ই প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজনৈতিক পতনের সূচনা। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণকে “সংখ্যালঘু সরকার হয়েও অহংকারী” বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

সবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নারীর অধিকার নিয়ে তাদের দল সবসময় সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, তবে এই বিষয়ে তারা কারও কাছ থেকে শিক্ষা নেবে না।