০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
চীনের হুয়াংইয়ান দাওয়ে মিলল ৫০টির বেশি বিপন্ন সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ শ্বেতপত্র প্রকাশ, বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নতুন বার্তা নওগাঁয় রেলস্টেশনের কাছে কলেজশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের হেফাজতকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ: ‘ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করেছি’ দাবি রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর দেড় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে কারাগারে দুই বছরের শিশু, কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দি জীবনের বাস্তবতা যুদ্ধাপরাধের বিচার নাকি মতপ্রকাশের শাস্তি? বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ট্রাম্প-সমর্থিত ‘টাইগার’ প্রার্থীকে ঘিরে কলম্বিয়ায় বিতর্ক, নারীদের ভোটে স্পষ্ট বিভাজন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবিত্ত, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ছাত্র আন্দোলন “দেউলিয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া” রাজপথে আরও তীব্র টেক্সাসের ছোট শহরে স্পেসএক্সের অর্থবৃষ্টি: আইপিও-পরবর্তী উচ্ছ্বাসে বদলে যাচ্ছে বাস্ত্রপ

সাইবারস্পেসের স্বাধীনতার ঘোষণা

শিল্পোন্নত বিশ্বের সরকারগুলো, তোমরা ক্লান্ত দেহ ও ইস্পাতের দৈত্যরা—আমি সাইবারস্পেস থেকে কথা বলছি, যা এখন মনের নতুন আবাস। ভবিষ্যতের পক্ষ থেকে অতীতের তোমাদের বলছি—আমাদের একা থাকতে দাও। তোমাদের এখানে স্বাগত নয়। যেখানে আমরা একত্রিত হই, সেখানে তোমাদের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

আমাদের কোনো নির্বাচিত সরকার নেই, এবং ভবিষ্যতেও থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই আমি এমন কোনো ক্ষমতা নিয়ে কথা বলছি না, যা স্বাধীনতার স্বাভাবিক শক্তির চেয়ে বড়। আমরা যে বৈশ্বিক সামাজিক পরিসর গড়ে তুলছি, তা তোমাদের চাপিয়ে দেওয়া অত্যাচার থেকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীন। আমাদের শাসন করার কোনো নৈতিক অধিকার তোমাদের নেই, এবং এমন কোনো প্রয়োগক্ষমতা তোমাদের নেই, যা আমাদের ভীত করতে পারে।

সরকার তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পায় শাসিতদের সম্মতি থেকে। আমাদের কাছ থেকে তোমরা সেই সম্মতি পাওনি, এমনকি চাওয়াও হয়নি। আমরা তোমাদের আমন্ত্রণ জানাইনি। তোমরা আমাদের চেনো না, আমাদের জগতও না। সাইবারস্পেস কোনো সীমান্তের মধ্যে পড়ে না। এটিকে কোনো সরকারি নির্মাণ প্রকল্প ভেবে তৈরি করা যাবে না। এটি প্রকৃতির মতোই একটি স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি, যা আমাদের সম্মিলিত কর্মকাণ্ডে নিজেই বিকশিত হয়।

তোমরা আমাদের চলমান কথোপকথনে অংশ নাওনি, আমাদের বাজারের সম্পদও তোমরা তৈরি করোনি। আমাদের সংস্কৃতি, নীতি বা সেই অলিখিত নিয়মগুলো তোমরা জানো না, যা আমাদের সমাজে এমন এক শৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা তোমাদের আরোপিত নিয়মের চেয়ে বেশি কার্যকর।

Cyberspace and its impact | 3 Year LLB Degree College

তোমরা দাবি করো—আমাদের মধ্যে সমস্যা আছে, যেগুলো সমাধান করতে তোমাদের আসা দরকার। এই দাবি ব্যবহার করেই তোমরা আমাদের জগতে হস্তক্ষেপ করতে চাও। অথচ এই সমস্যাগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবে নেই। যেখানে প্রকৃত দ্বন্দ্ব আছে, আমরা নিজেরাই তা চিহ্নিত করে আমাদের উপায়ে সমাধান করব। আমরা আমাদের নিজস্ব সামাজিক চুক্তি তৈরি করছি—যা আমাদের জগতের বাস্তবতা অনুযায়ী গড়ে উঠবে, তোমাদের নয়। আমাদের জগত আলাদা।

সাইবারস্পেস হলো লেনদেন, সম্পর্ক এবং চিন্তার সমষ্টি—যা আমাদের যোগাযোগের জালে এক স্থায়ী তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে আছে। এটি এমন এক জগত, যা সর্বত্র এবং কোথাও নয়—কিন্তু এটি মানুষের দেহের বসবাসের জায়গা নয়।

আমরা এমন একটি জগত তৈরি করছি, যেখানে বর্ণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, সামরিক শক্তি বা জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিশেষাধিকার বা বৈষম্য থাকবে না।

আমরা এমন একটি জগত তৈরি করছি, যেখানে যে কেউ, যে কোনো জায়গা থেকে, নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করতে পারবে—ভয় বা জোরপূর্বক নীরবতার আশঙ্কা ছাড়াই।

তোমাদের আইনি ধারণাগুলো—সম্পত্তি, প্রকাশ, পরিচয়, চলাচল বা প্রেক্ষাপট—আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ সেগুলো বস্তুগত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, আর এখানে কোনো বস্তুগত বাস্তবতা নেই।

আমাদের পরিচয়ের কোনো দেহ নেই। তাই তোমাদের মতো আমরা শারীরিক জোর প্রয়োগ করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারি না। আমরা বিশ্বাস করি—নৈতিকতা, আত্মসচেতন স্বার্থ এবং সামষ্টিক কল্যাণ থেকেই আমাদের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে। আমাদের পরিচয় বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় ছড়িয়ে থাকতে পারে। তবে একটি নিয়ম, যা আমাদের সব সংস্কৃতি স্বীকার করতে পারে, তা হলো—সোনালী নীতি। আমরা সেই ভিত্তিতেই আমাদের সমাধান গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু তোমাদের চাপিয়ে দেওয়া সমাধান আমরা গ্রহণ করতে পারি না।

ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ মিলছে ৪২ দেশের নাগরিকদের | কালবেলা

যুক্তরাষ্ট্রে আজ তোমরা যে আইন তৈরি করেছ, তা তোমাদের নিজেদের সংবিধানকেই অস্বীকার করে এবং অতীতের মহান চিন্তাবিদদের স্বপ্নকে অপমান করে। সেই স্বপ্নগুলো এখন আমাদের মধ্যেই নতুন করে জন্ম নিতে হবে।

তোমরা তোমাদের সন্তানদের ভয় পাও—কারণ তারা এমন এক জগতের অধিবাসী, যেখানে তোমরা চিরকালই নবাগত। সেই ভয়ের কারণে তোমরা দায়িত্ব তুলে দাও আমলাতন্ত্রের হাতে। অথচ আমাদের জগতে মানবিক অনুভূতি ও প্রকাশ—নিচু থেকে মহান—সবই এক অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের অংশ। আমরা বাতাসকে আলাদা করতে পারি না—যা আমাদের দম বন্ধ করে, আর যা ডানাকে উড়তে সাহায্য করে।

চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র—তোমরা সাইবারস্পেসের সীমানায় প্রহরা বসিয়ে স্বাধীনতার বিস্তার ঠেকাতে চাইছ। হয়তো কিছু সময়ের জন্য তা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যর্থ হবে।

তোমাদের পুরনো তথ্যশিল্পগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এমন আইন প্রস্তাব করছে, যা বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের ওপর মালিকানা দাবি করে। এই আইনগুলো ধারণাকে শিল্পপণ্যে রূপ দিতে চায়। অথচ আমাদের জগতে মানুষের চিন্তা অসীমভাবে বিনামূল্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে—কারখানার প্রয়োজন নেই।

এই শত্রুতাপূর্ণ ও ঔপনিবেশিক পদক্ষেপ আমাদের সেই সব স্বাধীনতাপ্রেমীদের মতো অবস্থায় দাঁড় করায়, যারা দূরের অজ্ঞ ক্ষমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাই আমরা ঘোষণা করছি—আমাদের ভার্চুয়াল সত্তা তোমাদের সার্বভৌমত্ব থেকে মুক্ত। যদিও আমাদের দেহ তোমাদের নিয়ম মানতে পারে, আমাদের চিন্তা কখনোই বন্দী হবে না।

আমরা সাইবারস্পেসে মনের এক নতুন সভ্যতা গড়ে তুলব—যা তোমাদের তৈরি পৃথিবীর চেয়ে আরও মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের হুয়াংইয়ান দাওয়ে মিলল ৫০টির বেশি বিপন্ন সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ

সাইবারস্পেসের স্বাধীনতার ঘোষণা

০৪:০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শিল্পোন্নত বিশ্বের সরকারগুলো, তোমরা ক্লান্ত দেহ ও ইস্পাতের দৈত্যরা—আমি সাইবারস্পেস থেকে কথা বলছি, যা এখন মনের নতুন আবাস। ভবিষ্যতের পক্ষ থেকে অতীতের তোমাদের বলছি—আমাদের একা থাকতে দাও। তোমাদের এখানে স্বাগত নয়। যেখানে আমরা একত্রিত হই, সেখানে তোমাদের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

আমাদের কোনো নির্বাচিত সরকার নেই, এবং ভবিষ্যতেও থাকার সম্ভাবনা নেই। তাই আমি এমন কোনো ক্ষমতা নিয়ে কথা বলছি না, যা স্বাধীনতার স্বাভাবিক শক্তির চেয়ে বড়। আমরা যে বৈশ্বিক সামাজিক পরিসর গড়ে তুলছি, তা তোমাদের চাপিয়ে দেওয়া অত্যাচার থেকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীন। আমাদের শাসন করার কোনো নৈতিক অধিকার তোমাদের নেই, এবং এমন কোনো প্রয়োগক্ষমতা তোমাদের নেই, যা আমাদের ভীত করতে পারে।

সরকার তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষমতা পায় শাসিতদের সম্মতি থেকে। আমাদের কাছ থেকে তোমরা সেই সম্মতি পাওনি, এমনকি চাওয়াও হয়নি। আমরা তোমাদের আমন্ত্রণ জানাইনি। তোমরা আমাদের চেনো না, আমাদের জগতও না। সাইবারস্পেস কোনো সীমান্তের মধ্যে পড়ে না। এটিকে কোনো সরকারি নির্মাণ প্রকল্প ভেবে তৈরি করা যাবে না। এটি প্রকৃতির মতোই একটি স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি, যা আমাদের সম্মিলিত কর্মকাণ্ডে নিজেই বিকশিত হয়।

তোমরা আমাদের চলমান কথোপকথনে অংশ নাওনি, আমাদের বাজারের সম্পদও তোমরা তৈরি করোনি। আমাদের সংস্কৃতি, নীতি বা সেই অলিখিত নিয়মগুলো তোমরা জানো না, যা আমাদের সমাজে এমন এক শৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা তোমাদের আরোপিত নিয়মের চেয়ে বেশি কার্যকর।

Cyberspace and its impact | 3 Year LLB Degree College

তোমরা দাবি করো—আমাদের মধ্যে সমস্যা আছে, যেগুলো সমাধান করতে তোমাদের আসা দরকার। এই দাবি ব্যবহার করেই তোমরা আমাদের জগতে হস্তক্ষেপ করতে চাও। অথচ এই সমস্যাগুলোর অনেকগুলোই বাস্তবে নেই। যেখানে প্রকৃত দ্বন্দ্ব আছে, আমরা নিজেরাই তা চিহ্নিত করে আমাদের উপায়ে সমাধান করব। আমরা আমাদের নিজস্ব সামাজিক চুক্তি তৈরি করছি—যা আমাদের জগতের বাস্তবতা অনুযায়ী গড়ে উঠবে, তোমাদের নয়। আমাদের জগত আলাদা।

সাইবারস্পেস হলো লেনদেন, সম্পর্ক এবং চিন্তার সমষ্টি—যা আমাদের যোগাযোগের জালে এক স্থায়ী তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে আছে। এটি এমন এক জগত, যা সর্বত্র এবং কোথাও নয়—কিন্তু এটি মানুষের দেহের বসবাসের জায়গা নয়।

আমরা এমন একটি জগত তৈরি করছি, যেখানে বর্ণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, সামরিক শক্তি বা জন্মপরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিশেষাধিকার বা বৈষম্য থাকবে না।

আমরা এমন একটি জগত তৈরি করছি, যেখানে যে কেউ, যে কোনো জায়গা থেকে, নিজের বিশ্বাস প্রকাশ করতে পারবে—ভয় বা জোরপূর্বক নীরবতার আশঙ্কা ছাড়াই।

তোমাদের আইনি ধারণাগুলো—সম্পত্তি, প্রকাশ, পরিচয়, চলাচল বা প্রেক্ষাপট—আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ সেগুলো বস্তুগত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, আর এখানে কোনো বস্তুগত বাস্তবতা নেই।

আমাদের পরিচয়ের কোনো দেহ নেই। তাই তোমাদের মতো আমরা শারীরিক জোর প্রয়োগ করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারি না। আমরা বিশ্বাস করি—নৈতিকতা, আত্মসচেতন স্বার্থ এবং সামষ্টিক কল্যাণ থেকেই আমাদের শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে। আমাদের পরিচয় বিভিন্ন বিচারব্যবস্থায় ছড়িয়ে থাকতে পারে। তবে একটি নিয়ম, যা আমাদের সব সংস্কৃতি স্বীকার করতে পারে, তা হলো—সোনালী নীতি। আমরা সেই ভিত্তিতেই আমাদের সমাধান গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু তোমাদের চাপিয়ে দেওয়া সমাধান আমরা গ্রহণ করতে পারি না।

ভিসা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ মিলছে ৪২ দেশের নাগরিকদের | কালবেলা

যুক্তরাষ্ট্রে আজ তোমরা যে আইন তৈরি করেছ, তা তোমাদের নিজেদের সংবিধানকেই অস্বীকার করে এবং অতীতের মহান চিন্তাবিদদের স্বপ্নকে অপমান করে। সেই স্বপ্নগুলো এখন আমাদের মধ্যেই নতুন করে জন্ম নিতে হবে।

তোমরা তোমাদের সন্তানদের ভয় পাও—কারণ তারা এমন এক জগতের অধিবাসী, যেখানে তোমরা চিরকালই নবাগত। সেই ভয়ের কারণে তোমরা দায়িত্ব তুলে দাও আমলাতন্ত্রের হাতে। অথচ আমাদের জগতে মানবিক অনুভূতি ও প্রকাশ—নিচু থেকে মহান—সবই এক অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের অংশ। আমরা বাতাসকে আলাদা করতে পারি না—যা আমাদের দম বন্ধ করে, আর যা ডানাকে উড়তে সাহায্য করে।

চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র—তোমরা সাইবারস্পেসের সীমানায় প্রহরা বসিয়ে স্বাধীনতার বিস্তার ঠেকাতে চাইছ। হয়তো কিছু সময়ের জন্য তা সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ব্যর্থ হবে।

তোমাদের পুরনো তথ্যশিল্পগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এমন আইন প্রস্তাব করছে, যা বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের ওপর মালিকানা দাবি করে। এই আইনগুলো ধারণাকে শিল্পপণ্যে রূপ দিতে চায়। অথচ আমাদের জগতে মানুষের চিন্তা অসীমভাবে বিনামূল্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে—কারখানার প্রয়োজন নেই।

এই শত্রুতাপূর্ণ ও ঔপনিবেশিক পদক্ষেপ আমাদের সেই সব স্বাধীনতাপ্রেমীদের মতো অবস্থায় দাঁড় করায়, যারা দূরের অজ্ঞ ক্ষমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাই আমরা ঘোষণা করছি—আমাদের ভার্চুয়াল সত্তা তোমাদের সার্বভৌমত্ব থেকে মুক্ত। যদিও আমাদের দেহ তোমাদের নিয়ম মানতে পারে, আমাদের চিন্তা কখনোই বন্দী হবে না।

আমরা সাইবারস্পেসে মনের এক নতুন সভ্যতা গড়ে তুলব—যা তোমাদের তৈরি পৃথিবীর চেয়ে আরও মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত হবে।