হরমুজ প্রণালির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান বাংলাদেশের জাহাজগুলোর নিরাপদ পথচলার আশ্বাস দিয়েছে। ঢাকায় ইরানি দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরপেক্ষ কূটনৈতিক অবস্থানকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী।
আন্তালিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ
তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহর সাথে বৈঠকে বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার জয়যাত্রার নিরাপদ হরমুজ পারাপারের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ইরান যে ছয়টি দেশের জাহাজকে হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছিল তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
ইরানের জবাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাথে সাথে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং জানান যে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে ইরান হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর ১৭ এপ্রিল রাতে বাংলার জয়যাত্রা যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু মধ্যরাতে ইরানি নৌবাহিনী রেডিও বার্তায় সব জাহাজ থামিয়ে দেয়। তখন থেকে জাহাজটি ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক নিয়ে প্রণালিতে অপেক্ষা করছে।
ইরানে আটকা বাংলাদেশিরাও ফিরেছেন
এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানকে ধন্যবাদ জানান ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আজারবাইজান হয়ে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দেওয়ার জন্য। যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে আটকে পড়া এই নাগরিকদের দেশে ফেরানো ছিল ঢাকার অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক অগ্রাধিকার।
ঢাকার নিরপেক্ষতাই শক্তি
বাংলাদেশ ইসরায়েলের সাথে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। এই কারণেই তেহরান ঢাকার অনুরোধকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল — দেশের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৬৩ শতাংশ আসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক থেকে।
হরমুজ প্রণালি যদি শিগগিরই খুলে দেওয়া হয়, তাহলে কেবল বাংলার জয়যাত্রার ৩৭,০০০ টন সারই নয়, আরও বেশ কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজের পথ সুগম হবে — যা দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও প্রশমন করতে পারবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















