যুক্তরাজ্যে এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্কুলে ভর্তি এক বছর পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এ বিষয়ে অনেক অভিভাবকই জানেন না। সন্তানকে কখন বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে—এ নিয়ে ভুল তথ্য ও নিয়ম সম্পর্কে বিভ্রান্তির কারণে অনেক পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে।
পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ
নিয়ম অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্কুলে ভর্তি তাদের পঞ্চম জন্মদিনের পরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া যায়। অর্থাৎ কোনো শিশু চার বছর বয়সে স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যালয়ে না গিয়ে পাঁচ বছর বয়সে প্রথমবার প্রাথমিকের অভ্যর্থনা শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারে।
তবে অভিভাবকদের অনেকেই বিষয়টি জানতে পারেন নিজেদের উদ্যোগে খোঁজাখুঁজি করার পর। কারও ধারণা, এক বছর পিছিয়ে দিলে শিশুকে সরাসরি পরের শ্রেণিতে ভর্তি হতে হবে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বয়স বাড়ার কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগই হারিয়ে যেতে পারে। এসব ভুল ধারণা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
‘অনেক ভুল তথ্য রয়েছে’

সুইন্ডনের ভিক্টোরিয়া তার ছেলে জ্যাকবকে এক বছর দেরিতে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। এখন ছয় বছর বয়সী জ্যাকবের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত এক বছর অপেক্ষা করাকে তিনি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করেন।
ভিক্টোরিয়ার ভাষ্য, তিনি জানতে পারেন এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশুর জন্য এই সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে সবাই বলেছিল, শিশু ঠিকই মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু পরিবারের মনে হয়েছিল, আরও এক বছর সময় পেলে জ্যাকব বিদ্যালয়ের পরিবেশে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে। পরবর্তী সময়ে তাদের সেই সিদ্ধান্ত সফল হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সুইন্ডনের অভ্যর্থনা শ্রেণির শিক্ষক মারিয়া বলেন, স্কুলে ভর্তি পিছিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, এক বছর দেরিতে ভর্তি করলে শিশুকে সরাসরি প্রথম শ্রেণিতে যেতে হবে।
গবেষণায় বয়সের পার্থক্যের প্রভাব
বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একই শিক্ষাবর্ষে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য তাদের শিক্ষাগত অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে জন্ম নেওয়া শিশুরা গড়ে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বড় সহপাঠীদের চেয়ে পিছিয়ে থাকতে পারে।
তবে স্কুলে ভর্তি এক বছর পিছিয়ে দিলেই এই পার্থক্য পুরোপুরি দূর হয় কি না, সে বিষয়ে এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত নয়

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন, গ্রীষ্মে জন্মানো প্রতিটি শিশুর জন্য স্কুলে ভর্তি পিছিয়ে দেওয়া যে ভালো হবে, এমন নয়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত কম বয়সী কিছু শিশু চার বছর বয়সেই বিদ্যালয়ের পরিবেশে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। তাই শিশুর ব্যক্তিগত বিকাশ, মানসিক প্রস্তুতি ও প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যর্থনা শ্রেণিতে শিক্ষার বড় অংশই খেলাধুলাভিত্তিক হওয়ায় কোনো শিশু নিজের নাম লিখতে না পারলেও সেটিকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার অযোগ্যতার লক্ষণ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।
বিশেষ প্রয়োজনের শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সময় উপকারী হতে পারে
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যাদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, এক বছর অপেক্ষা করা উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত সময় পেলে তারা ভাষা, আচরণ, সামাজিক যোগাযোগ ও অন্যান্য দক্ষতায় আরও প্রস্তুত হয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারে।

তবে ভর্তি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া সব জায়গায় সমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় আবেদন সহজে অনুমোদন করা হলেও অন্য এলাকায় অভিভাবকদের বেশি প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
সিদ্ধান্তের আগে আলোচনা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু শিশুর জন্মের মাস বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে তার সামগ্রিক প্রস্তুতি দেখা উচিত। অভিভাবকদের নার্সারি, প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং যে বিদ্যালয়ে সন্তানকে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানকার শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
এক বছর অপেক্ষা করা কোনো শিশুর জন্য বড় সুবিধা হতে পারে, আবার অন্য কোনো শিশুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়েই বিদ্যালয়ে যাওয়া বেশি উপযোগী হতে পারে। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















