গাজা যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বেতসেলেমের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ জন শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। নয় বছরের মোহাম্মদের মৃত্যু
নিহতদের একজন ছিল নয় বছর বয়সী মোহাম্মদ। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের আল-রিহিয়া গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের টহল দেখে দৌড়ে পালানোর সময় গুলিতে সে নিহত হয় বলে তার মা আলিয়া আল-হাল্লাক জানিয়েছেন।
ছেলেকে হারানোর পরও আলিয়া নিজেকে চার সন্তানের মা হিসেবে ভাবতে পারেন না। তিনি বলেন, এখনো মোহাম্মদের মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি। বাড়ির উঠানে বসে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে তিনি কাঁদেন, তবে চেষ্টা করেন অন্য সন্তানরা যেন তাকে কাঁদতে না দেখে।

যুদ্ধের বাইরে থেকেও প্রাণ যাচ্ছে
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। নাবলুসের কাছে জালুদে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় মুখোশধারী হামলাকারীরা একটি সংবাদ দলের ওপর হামলা চালায়। একই সময়ে কুসরায় ফিলিস্তিনি বাড়িঘরেও হামলার অভিযোগ ওঠে।
সহিংসতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের সহিংসতা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হামলা, উচ্ছেদ ও প্রাণহানির ঘটনা আরও গভীর সংকট তৈরি করছে।
শিশুদের মৃত্যুর এই সংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত শৈশব এবং এমন এক বাস্তবতা, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও ফিলিস্তিনি শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















