দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। এবার তিনি আগের তুলনায় আরও ব্যক্তিগতভাবে এবং ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মধ্যেই প্রার্থীদের বাছাই করছেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম মেয়াদে কিছু নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক তার প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা না রাখায় ট্রাম্প এখন নিজেই প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং প্রার্থীদের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সরাসরি যোগাযোগে নিয়োগ
সাম্প্রতিক সময়ে বিচারক হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিদের অনেককেই ট্রাম্প নিজেই ফোন করে নিয়োগের খবর জানিয়েছেন। এমনকি অপেক্ষাকৃত ছোট আদালতের ক্ষেত্রেও এই ব্যক্তিগত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

এই পদ্ধতি দেখাচ্ছে, বিচারক নির্বাচনের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস এখন আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে।
ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রাধান্য
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে আপিল আদালতের জন্য মনোনীতদের একটি বড় অংশই পূর্বে তার হয়ে কাজ করেছেন বা প্রশাসনের অংশ ছিলেন।
এছাড়া সামাজিক ইস্যুতে রক্ষণশীল অবস্থান রয়েছে—এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফেডারেলিস্ট সোসাইটির প্রভাব থাকছেই
যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে Federalist Society-এর সম্পর্ক আগের মতো ঘনিষ্ঠ নেই, তবুও এই সংগঠনের প্রভাব এখনো বিচারক নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয় মেয়াদে নিশ্চিত হওয়া ৩৭ জন বিচারকের মধ্যে ৩০ জনই কোনো না কোনোভাবে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট নিয়েও জল্পনা
এই নতুন কৌশল ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়েও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বিচারপতি Samuel Alito অবসর নেবেন কি না—এ নিয়ে জল্পনা চলছে, যদিও তিনি এখনই সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন না বলে জানা গেছে।
বিচার বিভাগের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ২৩৪ জন বিচারক নিয়োগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। নতুন কৌশল অনুসরণ করলে দ্বিতীয় মেয়াদেও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিয়োগ পদ্ধতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রাধান্য পায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















