০১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                 ব্রিজেট জোন্সের আগের রেনি জেলওয়েগার: পুরনো ছবিতে ফিরে দেখা তার শুরুর দিনগুলো জোই ক্রাভিটজের আঙুলে রহস্যময় আংটি, হ্যারি স্টাইলসকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় টানাপোড়েন: একসঙ্গে আয়োজন, কিন্তু সম্পর্কের ভাঙন আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদে ভাটা: গণভোটের আগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা পেরুর নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা: ভোটের উৎসব থেকে অনিশ্চয়তার গভীর সংকট সুদানে যুদ্ধের মাঝেই আরএসএফের উত্থান, সামরিক শক্তি থেকে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য জার্মানির সামরিক পুনরুত্থান: ইউরোপের নেতৃত্বে এগোতে চায় নতুন কৌশল ইউক্রেনের নতুন কূটনৈতিক জোট: তুরস্ক-সিরিয়ার দিকে ঝুঁকে বদলে যাচ্ছে ভূরাজনীতি রাশিয়ার গ্রামে টিকে থাকার লড়াই: বাজেট কাটছাঁটের মাঝেও নিকোলস্কের অদম্য প্রতিরোধ

মার্কিন অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের প্রভাব কতটা—আসলে কি বাড়ছে, নাকি শুধু দেখানোর খেলা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশটি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই ধারণার বড় অংশই অতিরঞ্জিত।

রাষ্ট্র বনাম বাজার: কার দাপট বেশি

বর্তমান প্রশাসনের নানা ঘোষণা ও পদক্ষেপ দেখে অনেকের মনে হয়েছে, সরকার বাজারকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। বাড়ির ঋণের সুদ, জ্বালানির দাম কিংবা শেয়ারবাজার—সব ক্ষেত্রেই সরকারের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে বাজারের প্রভাবই বেশি কার্যকর থেকে গেছে। সুদের হার বা জ্বালানির দাম সরকার চাইলেই কমেনি, বরং বাজারের নিজস্ব গতিতেই চলেছে।

প্রযুক্তি খাতে সরকারের সীমাবদ্ধতা

প্রযুক্তি খাতেও সরকারের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবই বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এমনকি নিরাপত্তা ইস্যুতেও সরকারকে অনেক সময় নিজেদের অবস্থান বদলাতে হয়েছে।

What lower global interest rates mean for a reforming Bangladesh | The  Daily Star

ঘোষণা আর বাস্তবতার ফারাক

সরকার বিভিন্ন সময় সুদের হার কমানো বা করপোরেট লাভ সীমিত করার মতো ঘোষণা দিলেও সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ খুব কম দেখা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নই হয়নি। এতে বোঝা যায়, সরকারের ঘোষণার চেয়ে বাজারের প্রতিক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিনিয়োগে সরকারের অংশগ্রহণ

তবে এটাও সত্য, কিছু ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি বিনিয়োগ করছে। খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার নেওয়া বা প্রকল্পে অর্থ দেওয়া—এসব পদক্ষেপ রাষ্ট্রের ভূমিকা কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও বৈশ্বিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে ছোট।

ইউরোপের তুলনায় ভিন্ন চিত্র

ইউরোপে যেখানে সরকার বড় বড় শিল্পকে সরাসরি সুরক্ষা দেয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়া অনেকটাই আলাদা। এখানে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং বাজারের স্বাধীনতা বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে রাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকলেও তা পুরো অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নয়।

Finding a long-term place for 'place-based' development strategy | Brookings

ভয় ও প্রভাবের রাজনীতি

অনেক ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব আসে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, বরং ভয় ও চাপের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই প্রভাবও সবখানে সমানভাবে কাজ করে না, বিশেষ করে যেখানে অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেশি।

আসল চিত্র কী বলছে

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতির ধারণা যতটা জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা শক্ত নয়। সরকারের ভূমিকা বাড়লেও বাজারের স্বাধীনতা এবং করপোরেট শক্তিই এখনও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে রয়েছে।

U.S. Economy: Mixing Capitalism and Socialism

সেজ সবুজে বসন্তের নরম ছোঁয়া, ফ্যাশনে নতুন ভারসাম্যের গল্প                

মার্কিন অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের প্রভাব কতটা—আসলে কি বাড়ছে, নাকি শুধু দেখানোর খেলা?

১১:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশটি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই ধারণার বড় অংশই অতিরঞ্জিত।

রাষ্ট্র বনাম বাজার: কার দাপট বেশি

বর্তমান প্রশাসনের নানা ঘোষণা ও পদক্ষেপ দেখে অনেকের মনে হয়েছে, সরকার বাজারকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। বাড়ির ঋণের সুদ, জ্বালানির দাম কিংবা শেয়ারবাজার—সব ক্ষেত্রেই সরকারের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে বাজারের প্রভাবই বেশি কার্যকর থেকে গেছে। সুদের হার বা জ্বালানির দাম সরকার চাইলেই কমেনি, বরং বাজারের নিজস্ব গতিতেই চলেছে।

প্রযুক্তি খাতে সরকারের সীমাবদ্ধতা

প্রযুক্তি খাতেও সরকারের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবই বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এমনকি নিরাপত্তা ইস্যুতেও সরকারকে অনেক সময় নিজেদের অবস্থান বদলাতে হয়েছে।

What lower global interest rates mean for a reforming Bangladesh | The  Daily Star

ঘোষণা আর বাস্তবতার ফারাক

সরকার বিভিন্ন সময় সুদের হার কমানো বা করপোরেট লাভ সীমিত করার মতো ঘোষণা দিলেও সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ খুব কম দেখা গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নই হয়নি। এতে বোঝা যায়, সরকারের ঘোষণার চেয়ে বাজারের প্রতিক্রিয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিনিয়োগে সরকারের অংশগ্রহণ

তবে এটাও সত্য, কিছু ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি বিনিয়োগ করছে। খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের উপস্থিতি বেড়েছে। বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার নেওয়া বা প্রকল্পে অর্থ দেওয়া—এসব পদক্ষেপ রাষ্ট্রের ভূমিকা কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও বৈশ্বিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে ছোট।

ইউরোপের তুলনায় ভিন্ন চিত্র

ইউরোপে যেখানে সরকার বড় বড় শিল্পকে সরাসরি সুরক্ষা দেয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রক্রিয়া অনেকটাই আলাদা। এখানে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং বাজারের স্বাধীনতা বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে রাষ্ট্রের উপস্থিতি থাকলেও তা পুরো অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো নয়।

Finding a long-term place for 'place-based' development strategy | Brookings

ভয় ও প্রভাবের রাজনীতি

অনেক ক্ষেত্রে সরকারের প্রভাব আসে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, বরং ভয় ও চাপের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই প্রভাবও সবখানে সমানভাবে কাজ করে না, বিশেষ করে যেখানে অর্থনৈতিক ঝুঁকি বেশি।

আসল চিত্র কী বলছে

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতির ধারণা যতটা জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা শক্ত নয়। সরকারের ভূমিকা বাড়লেও বাজারের স্বাধীনতা এবং করপোরেট শক্তিই এখনও অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে রয়েছে।

U.S. Economy: Mixing Capitalism and Socialism