দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদ ও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালক ও নির্মাণশ্রমিকদের মতো খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপপ্রবাহ আরও একদিন
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে তাপপ্রবাহ আরও অন্তত একদিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জুন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু এবং ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আর্দ্রতায় বাড়ছে কষ্ট
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও গরমের অনুভূতি বেশি হচ্ছে।
রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার রিকশাচালক আহসাহউল্লাহ বলেন, অতিরিক্ত গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘাম ঝরছে অবিরাম, আয়ও কমে গেছে আগের তুলনায় অনেকটা। সংসারের প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই এমন পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে কৃষিকাজে প্রভাব
উত্তরাঞ্চলেও কয়েক দিনের টানা তাপপ্রবাহে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চম্পারতাল গ্রামের কৃষিশ্রমিক এন্তাজ আলী জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে আগেই অনেক কাজ পিছিয়ে ছিল। এখন বৃষ্টি থেমে গেলেও গত কয়েক দিনের তীব্র গরমে মাঠে একটানা কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ঘণ্টাখানেক কাজ করলেই বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত পাঁচ দিন ধরে অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৬ থেকে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। একই সময়ে গত বছর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রির মধ্যে। বৃষ্টির অভাব এবং উচ্চ আর্দ্রতাই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা
দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন তাপজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতও হতে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমজনিত অস্বস্তি দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম।
তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর পেশার মানুষদের আয় কমে যাওয়া, কৃষিকাজে ধীরগতি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
তাপপ্রবাহ বাংলাদেশ
তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ছে ভোগান্তি। কৃষি, শ্রমজীবী মানুষ ও জনস্বাস্থ্যে পড়ছে এর সরাসরি প্রভাব।
Sarakhon Report 



















