০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে নিজের পানির বোতল নিষিদ্ধ, পানির জন্য অর্থ গুনতে হবে দর্শকদের এভারেস্টে ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরলেন শেরপা গাইড, বিস্ময়ে পর্বতারোহণ বিশ্ব স্বামীর দীর্ঘ থেরাপি ‘অকার্যকর’ মনে হলেও কেন ভিন্নভাবে ভাবতে বললেন মনোচিকিৎসক? আর্মেনিয়ার নির্বাচন ঘিরে বৈশ্বিক নজর: ট্রাম্প-সমর্থিত বাণিজ্য করিডোরে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির আগমন: যা বদলাচ্ছে, আর যা বদলাচ্ছে না মিয়ানমারের সংকটে ভারতের বাস্তববাদ: মিন অং হ্লাইংয়ের সফরের আড়ালে যে হিসাব রুপিয়ার ঐতিহাসিক পতন, ডলারের বিপরীতে ১৮ হাজারে নেমে নতুন রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাপপ্রবাহের বিস্তার, ১৫ কোটি মানুষের ওপর প্রভাবের আশঙ্কা বিচারক পদ হারালেন ‘অশোভন আচরণে’ অভিযুক্ত বিচারক, কর্মীদের পাঠিয়েছিলেন যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি চীন সফরে নিষেধাজ্ঞা: তাইওয়ান সফরের জেরে চার নিউজিল্যান্ড এমপিকে কালোতালিকাভুক্ত করল বেইজিং

অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘোষণা

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা তদারকি এবং নবজাতক পরিচর্যায় গুরুতর গাফিলতির বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন অচল ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ওয়ার্ডে নবজাতকরা ভর্তি ছিল সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল অবস্থায় ছিল। ফলে ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় শীতল পরিবেশ ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। তদন্ত কমিটির মতে, এই পরিস্থিতি নবজাতকদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সদের মধ্যেও গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা যায়, তারা নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং নবজাতকদের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

অতিরিক্ত রোগীর চাপেও বেড়েছে ঝুঁকি

তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, হাসপাতালের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ওয়ার্ডটি ছিল ছোট ও বদ্ধ পরিবেশের। কিন্তু সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী রাখা হয়েছিল।

অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এতে আগে থেকেই বিদ্যমান সংকট তীব্রতর হয় এবং নবজাতকদের জন্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি

এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি-পরবর্তী ওয়ার্ডে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে নিজের পানির বোতল নিষিদ্ধ, পানির জন্য অর্থ গুনতে হবে দর্শকদের

অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘোষণা

০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা তদারকি এবং নবজাতক পরিচর্যায় গুরুতর গাফিলতির বিষয় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন অচল ছিল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে ওয়ার্ডে নবজাতকরা ভর্তি ছিল সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল অবস্থায় ছিল। ফলে ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় শীতল পরিবেশ ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ অবস্থায় সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। তদন্ত কমিটির মতে, এই পরিস্থিতি নবজাতকদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্বে অবহেলা

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সদের মধ্যেও গুরুতর অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা যায়, তারা নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি এবং নবজাতকদের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ধরনের অব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

অতিরিক্ত রোগীর চাপেও বেড়েছে ঝুঁকি

তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, হাসপাতালের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ওয়ার্ডটি ছিল ছোট ও বদ্ধ পরিবেশের। কিন্তু সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী রাখা হয়েছিল।

অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এতে আগে থেকেই বিদ্যমান সংকট তীব্রতর হয় এবং নবজাতকদের জন্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি

এর আগে গত সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি-পরবর্তী ওয়ার্ডে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।