০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
ফটিকছড়িতে বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা স্বাধীনতার খোঁজে নির্ভরতার ফাঁদ: মধ্যপ্রাচ্যে আমিরাতের নতুন ঝুঁকি ক্রিকেটের মাঠ, যুদ্ধের শিক্ষা এবং রাষ্ট্রের প্রস্তুতি ফরিদপুরে হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ তামিলনাড়ু নিয়ে মতের অমিল, রাজ্য বিজেপি সভাপতির পদ ও দল ছাড়লেন কে অন্নামালাই লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ সীমান্তে ফের ‘পুশ-ইন’ উত্তেজনা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে শূন্যরেখায় আটকে ২৮ জন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৯৫ দোকান, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে ঝরল চার প্রাণ, নিহতদের মধ্যে মা ও পাঁচ বছরের ছেলে চীনের লাতিন আমেরিকা কৌশলের নতুন বাস্তবতা: অর্থনৈতিক উপস্থিতি কি রাজনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করতে পারে?

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৯৫ দোকান, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৫টি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঈদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন পর ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি কাপড়ের দোকানে প্রথম আগুনের দেখা মেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ

বাজারের অধিকাংশ দোকানে দাহ্য পণ্য ও মালামাল থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। স্থানীয়দের প্রাথমিক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

নাগেশ্বরী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কাপড়ের দোকান

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ছিল কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এছাড়া ফল, জুতা, প্রসাধনী ও বইয়ের দোকানসহ আরও ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজারসংলগ্ন জাকের পার্টির একটি কার্যালয়ও আগুনে পুড়ে গেছে।

ঘটনার পরপরই ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃতা দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৯৫টি দোকান আগুনে ধ্বংস হয়েছে এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের উদ্যোগ

ইউএনও আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে তারা নতুন পণ্য মজুত করেছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে সেই বিনিয়োগ ও পণ্য একসঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

ভুরুঙ্গামারী বাজার ক্ষুদ্র বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তুতুল মিয়া বলেন, ঈদের আগে অধিকাংশ ব্যবসায়ী নতুন মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

#কুড়িগ্রাম #ভুরুঙ্গামারী #অগ্নিকাণ্ড #বাজারে_আগুন #ফায়ারসার্ভিস #বাংলাদেশ #ব্যবসায়ী #দোকানপুড়ে_ছাই #সারাক্ষণ_রিপোর্ট #Kurigram #BangladeshNews

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে বিশ্রামাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৯৫ দোকান, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা

০২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৫টি দোকান পুড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঈদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন পর ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি কাপড়ের দোকানে প্রথম আগুনের দেখা মেলে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ

বাজারের অধিকাংশ দোকানে দাহ্য পণ্য ও মালামাল থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। স্থানীয়দের প্রাথমিক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

নাগেশ্বরী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কাপড়ের দোকান

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ছিল কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এছাড়া ফল, জুতা, প্রসাধনী ও বইয়ের দোকানসহ আরও ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজারসংলগ্ন জাকের পার্টির একটি কার্যালয়ও আগুনে পুড়ে গেছে।

ঘটনার পরপরই ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃতা দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৯৫টি দোকান আগুনে ধ্বংস হয়েছে এবং মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুনর্বাসনের উদ্যোগ

ইউএনও আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে তারা নতুন পণ্য মজুত করেছিলেন। অনেকেই ব্যাংক ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে সেই বিনিয়োগ ও পণ্য একসঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

ভুরুঙ্গামারী বাজার ক্ষুদ্র বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তুতুল মিয়া বলেন, ঈদের আগে অধিকাংশ ব্যবসায়ী নতুন মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

#কুড়িগ্রাম #ভুরুঙ্গামারী #অগ্নিকাণ্ড #বাজারে_আগুন #ফায়ারসার্ভিস #বাংলাদেশ #ব্যবসায়ী #দোকানপুড়ে_ছাই #সারাক্ষণ_রিপোর্ট #Kurigram #BangladeshNews