০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের আইএসএসে বায়ু লিক আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছেন নভোচারীরা গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান ফখরুলের, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ভারতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিল্লিতে চিকিৎসা করতে এসে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, ‘আরবান ভিলেজ’গুলো কেন অগ্নিকাণ্ডে মরণফাঁদ হয়ে ওঠে? ইংল্যান্ডের ‘ঘরে ফেরানোর’ বিশ্বকাপ দলে কারা কারা আছেন? পদ্মায় বাসডুবি: ফেরিঘাটে নামতে রাজি ছিলেন না অনেক যাত্রী নতুন শ্রমজীবী কারা? অর্থনীতির বদলে যাওয়া বাস্তবতায় এক পুরোনো পরিচয়ের সংকট ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ জন্মদিন

অসুস্থতার চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধেই কেন পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো এমন রোগের বিস্তার, যেগুলোর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য বা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা কিংবা শিশুপুষ্টির সমস্যা—এসব নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পরও কেন স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল মনোযোগ এখনো রোগ প্রতিরোধের বদলে রোগের চিকিৎসায় আটকে আছে?

স্বাস্থ্যখাতে সীমিত ব্যয়ের যুক্তি প্রায়ই সামনে আনা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি কমানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি সাধারণত উন্নত চিকিৎসা বা জটিল হাসপাতালে ভর্তির চেয়ে অনেক কম ব্যয়বহুল। তবু নীতিনির্ধারণে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। ফলাফল হিসেবে লাখো মানুষ এমন রোগে আক্রান্ত হন, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল।

ডায়াবেটিস এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। যখন একটি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে সরকারিভাবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রাথমিক পরীক্ষার ওপর ব্যাপক প্রচারণা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ রোগ ধরা পড়ার পরই চিকিৎসকের কাছে যান। অর্থাৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগুন লাগার আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার চেয়ে আগুন নেভানোর দিকেই বেশি মনোযোগী।

একই চিত্র হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বহু মানুষ বছরের পর বছর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে জীবনযাপন করেন, কিন্তু তা জানতেই পারেন না। যখন হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য জটিলতা দেখা দেয়, তখন রোগ শনাক্ত হয়। এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং পরিবারও আর্থিক চাপের মুখে পড়ে। অথচ নিয়মিত পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঝুঁকির বড় অংশ কমানো সম্ভব।

তামাক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। প্যাকেটের গায়ে সতর্কবার্তা কিংবা বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এগুলো যথেষ্ট নয়। জনমনে আচরণগত পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রচারণা দরকার। কিন্তু সেই বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম।

শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। মাতৃদুগ্ধপান সম্পর্কে সচেতনতা, নতুন মায়েদের সহায়তা, নিরাপদ শিশুখাদ্য এবং পুষ্টি শিক্ষা—এসব উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু এগুলোর অভাবের কারণে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর মতো বড় সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি শুরু হওয়ার আগেই যে সহায়তা দেওয়া দরকার, তা প্রায়ই অনুপস্থিত।

এই পরিস্থিতির পেছনে বাজারব্যবস্থারও একটি ভূমিকা রয়েছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসাকেন্দ্রিক সেবায় বেশি বিনিয়োগ করে, কারণ সেখানেই আর্থিক লাভের সুযোগ বেশি। একজন রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলে হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারীর জন্য তা একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করে। বিপরীতে, সফল প্রতিরোধ কর্মসূচি রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে বাজারের স্বাভাবিক প্রণোদনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করে না।

স্বাস্থ্য খাতে আস্থার সংকট | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসাকেন্দ্রিক সেবাও অসম্পূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে হৃদরোগের পর পুনর্বাসন সেবা। বিশ্বের বহু দেশে রোগীকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক সহায়তা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সমন্বিত কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে এখনো এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। রোগীকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছে আলাদাভাবে যেতে হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন কাঠামো তৈরি হয় না।

খাদ্যশিল্পের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, স্থূলতা কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজলভ্য খাদ্যের পরিসর এখনো সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে কিছু তথ্য যুক্ত করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। অথচ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য উপযোগী, সুস্বাদু এবং সাশ্রয়ী খাদ্য বিকাশের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বাজার দ্রুত বিস্তৃত হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক স্থানে সেই পরিবর্তন এখনো ধীরগতির।

মূল সমস্যা হলো, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুফল দীর্ঘমেয়াদে আসে, কিন্তু এর জন্য বর্তমানেই বিনিয়োগ করতে হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তা প্রায়ই অগ্রাধিকার পায় না। হাসপাতাল নির্মাণ বা নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম দৃশ্যমান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা সহজ, কিন্তু সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতের রোগ কমিয়ে আনার সাফল্য অনেক কম দৃশ্যমান।

ফলে এমন এক চক্র তৈরি হয়েছে যেখানে রোগ বাড়ে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, কিন্তু প্রতিরোধে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কমই থাকে। অথচ জন্মের পর শিশুর পুষ্টি থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনযাত্রা—প্রতিটি ধাপে সঠিক নীতি ও সচেতনতার মাধ্যমে বিপুল রোগের বোঝা কমানো সম্ভব।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই সবচেয়ে বেশি। বাজারের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিলে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি কখনোই যথেষ্ট বিস্তৃত হবে না। কারণ এর সামাজিক লাভ অনেক বড় হলেও আর্থিক লাভ তাৎক্ষণিক নয়। তাই জনস্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসার প্রশ্ন হিসেবে নয়, প্রতিরোধ, শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে। অন্যথায় রোগের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে, আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমাগত ব্যয়বহুল কিন্তু অসম্পূর্ণ একটি চক্রে আটকে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের

অসুস্থতার চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধেই কেন পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা

০৬:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো এমন রোগের বিস্তার, যেগুলোর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য বা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা কিংবা শিশুপুষ্টির সমস্যা—এসব নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পরও কেন স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল মনোযোগ এখনো রোগ প্রতিরোধের বদলে রোগের চিকিৎসায় আটকে আছে?

স্বাস্থ্যখাতে সীমিত ব্যয়ের যুক্তি প্রায়ই সামনে আনা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি কমানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি সাধারণত উন্নত চিকিৎসা বা জটিল হাসপাতালে ভর্তির চেয়ে অনেক কম ব্যয়বহুল। তবু নীতিনির্ধারণে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। ফলাফল হিসেবে লাখো মানুষ এমন রোগে আক্রান্ত হন, যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল।

ডায়াবেটিস এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। যখন একটি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করা যায় যে সরকারিভাবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রাথমিক পরীক্ষার ওপর ব্যাপক প্রচারণা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ রোগ ধরা পড়ার পরই চিকিৎসকের কাছে যান। অর্থাৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগুন লাগার আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার চেয়ে আগুন নেভানোর দিকেই বেশি মনোযোগী।

একই চিত্র হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। বহু মানুষ বছরের পর বছর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে জীবনযাপন করেন, কিন্তু তা জানতেই পারেন না। যখন হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য জটিলতা দেখা দেয়, তখন রোগ শনাক্ত হয়। এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়, কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং পরিবারও আর্থিক চাপের মুখে পড়ে। অথচ নিয়মিত পরীক্ষা ও জনসচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঝুঁকির বড় অংশ কমানো সম্ভব।

তামাক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নীতিগত সীমাবদ্ধতা দেখা যায়। প্যাকেটের গায়ে সতর্কবার্তা কিংবা বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এগুলো যথেষ্ট নয়। জনমনে আচরণগত পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রচারণা দরকার। কিন্তু সেই বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম।

শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্ট। মাতৃদুগ্ধপান সম্পর্কে সচেতনতা, নতুন মায়েদের সহায়তা, নিরাপদ শিশুখাদ্য এবং পুষ্টি শিক্ষা—এসব উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু এগুলোর অভাবের কারণে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর মতো বড় সমস্যাগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি শুরু হওয়ার আগেই যে সহায়তা দেওয়া দরকার, তা প্রায়ই অনুপস্থিত।

এই পরিস্থিতির পেছনে বাজারব্যবস্থারও একটি ভূমিকা রয়েছে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসাকেন্দ্রিক সেবায় বেশি বিনিয়োগ করে, কারণ সেখানেই আর্থিক লাভের সুযোগ বেশি। একজন রোগী দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিলে হাসপাতাল, ওষুধ কোম্পানি ও বিভিন্ন সেবা প্রদানকারীর জন্য তা একটি স্থায়ী বাজার তৈরি করে। বিপরীতে, সফল প্রতিরোধ কর্মসূচি রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে বাজারের স্বাভাবিক প্রণোদনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করে না।

স্বাস্থ্য খাতে আস্থার সংকট | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসাকেন্দ্রিক সেবাও অসম্পূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে হৃদরোগের পর পুনর্বাসন সেবা। বিশ্বের বহু দেশে রোগীকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক ব্যায়াম, মানসিক সহায়তা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সমন্বিত কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে এখনো এ ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। রোগীকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছে আলাদাভাবে যেতে হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন কাঠামো তৈরি হয় না।

খাদ্যশিল্পের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, স্থূলতা কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজলভ্য খাদ্যের পরিসর এখনো সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে কিছু তথ্য যুক্ত করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়। অথচ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য উপযোগী, সুস্বাদু এবং সাশ্রয়ী খাদ্য বিকাশের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বাজার দ্রুত বিস্তৃত হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক স্থানে সেই পরিবর্তন এখনো ধীরগতির।

মূল সমস্যা হলো, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুফল দীর্ঘমেয়াদে আসে, কিন্তু এর জন্য বর্তমানেই বিনিয়োগ করতে হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তা প্রায়ই অগ্রাধিকার পায় না। হাসপাতাল নির্মাণ বা নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম দৃশ্যমান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা সহজ, কিন্তু সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতের রোগ কমিয়ে আনার সাফল্য অনেক কম দৃশ্যমান।

ফলে এমন এক চক্র তৈরি হয়েছে যেখানে রোগ বাড়ে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, কিন্তু প্রতিরোধে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কমই থাকে। অথচ জন্মের পর শিশুর পুষ্টি থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনযাত্রা—প্রতিটি ধাপে সঠিক নীতি ও সচেতনতার মাধ্যমে বিপুল রোগের বোঝা কমানো সম্ভব।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই সবচেয়ে বেশি। বাজারের ওপর সবকিছু ছেড়ে দিলে প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি কখনোই যথেষ্ট বিস্তৃত হবে না। কারণ এর সামাজিক লাভ অনেক বড় হলেও আর্থিক লাভ তাৎক্ষণিক নয়। তাই জনস্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসার প্রশ্ন হিসেবে নয়, প্রতিরোধ, শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে। অন্যথায় রোগের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে, আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্রমাগত ব্যয়বহুল কিন্তু অসম্পূর্ণ একটি চক্রে আটকে থাকবে।