০৯:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের আইএসএসে বায়ু লিক আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছেন নভোচারীরা গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান ফখরুলের, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ভারতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিল্লিতে চিকিৎসা করতে এসে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, ‘আরবান ভিলেজ’গুলো কেন অগ্নিকাণ্ডে মরণফাঁদ হয়ে ওঠে? ইংল্যান্ডের ‘ঘরে ফেরানোর’ বিশ্বকাপ দলে কারা কারা আছেন? পদ্মায় বাসডুবি: ফেরিঘাটে নামতে রাজি ছিলেন না অনেক যাত্রী নতুন শ্রমজীবী কারা? অর্থনীতির বদলে যাওয়া বাস্তবতায় এক পুরোনো পরিচয়ের সংকট ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ জন্মদিন

ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুরুতে পুলিশ মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাধের হাট বাজার এলাকায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে বের হন। পুলিশ আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভকারীরা বাধা অতিক্রম করে মিছিল চালিয়ে যান এবং বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, শুরুতে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে অনেকে সরে যান। পরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোও কর্মসূচিতে বড় ধরনের জনসমাগমের কথা জানিয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা মনে করেন। সেই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানানোকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আগে থেকেই সম্ভাব্য কর্মসূচির বিষয়ে অবগত ছিল এবং একাধিক দল সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে বড় সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন এবং পুলিশের সাময়িক বাধা সত্ত্বেও কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়াকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের

ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ

০৭:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির’ অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শুরুতে পুলিশ মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাধের হাট বাজার এলাকায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ শেষে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে বের হন। পুলিশ আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভকারীরা বাধা অতিক্রম করে মিছিল চালিয়ে যান এবং বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, শুরুতে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে অনেকে সরে যান। পরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোও কর্মসূচিতে বড় ধরনের জনসমাগমের কথা জানিয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্যায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের আন্দোলন চলমান থাকবে এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা মনে করেন। সেই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানানোকে তিনি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আগে থেকেই সম্ভাব্য কর্মসূচির বিষয়ে অবগত ছিল এবং একাধিক দল সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে মিছিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান।

স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে প্রকাশ্যে বড় সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন এবং পুলিশের সাময়িক বাধা সত্ত্বেও কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়াকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।