০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
মৃতদের সংখ্যা নয়, সত্যের অনুসন্ধানই আসল বিচার ফরিদপুরে পদ্মায় উল্টে ট্রাক্টর, প্রাণ গেল চালকের আইএসএসে বায়ু লিক আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছেন নভোচারীরা গণতন্ত্র রক্ষায় ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান ফখরুলের, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ ভারতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিল্লিতে চিকিৎসা করতে এসে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, ‘আরবান ভিলেজ’গুলো কেন অগ্নিকাণ্ডে মরণফাঁদ হয়ে ওঠে? ইংল্যান্ডের ‘ঘরে ফেরানোর’ বিশ্বকাপ দলে কারা কারা আছেন? পদ্মায় বাসডুবি: ফেরিঘাটে নামতে রাজি ছিলেন না অনেক যাত্রী নতুন শ্রমজীবী কারা? অর্থনীতির বদলে যাওয়া বাস্তবতায় এক পুরোনো পরিচয়ের সংকট ছাত্রলীগের মিছিল ঘিরে নোয়াখালীতে উত্তেজনা, বাধা দিয়ে সরে গেলো পুলিশ

মৃতদের সংখ্যা নয়, সত্যের অনুসন্ধানই আসল বিচার

ফিলিপাইনের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঠিক কত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আজও কোনো সর্বসম্মত হিসাব নেই। কেউ এক সংখ্যা বলেন, কেউ আরেকটি। কিন্তু এই অমিলকে তদন্তের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং এটাই হওয়া উচিত সত্য অনুসন্ধানের সূচনা বিন্দু। যখন একটি রাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না, তখন বোঝা যায় যে ঘটনাগুলোর প্রকৃত বিবরণ এখনও অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধ ফিলিপাইনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, রাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহারের প্রশ্ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা কখনোই পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন রাজনৈতিক সংকট সামনে এসেছে, কিন্তু পুরোনো ক্ষতগুলো রয়ে গেছে অমীমাংসিত।

বর্তমানে দেশটির জনপরিসর নানা ইস্যুতে ব্যস্ত। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দুর্নীতির অভিযোগ, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বিচার এবং আন্তর্জাতিক আদালতের প্রক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় মনোযোগ বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, এখন কি সত্য অনুসন্ধানের জন্য কমিশন গঠনের উপযুক্ত সময়? কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ভিড়ে অতীতের সহিংসতার স্মৃতি আরও দ্রুত চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

সমস্যা হলো, আমরা প্রায়ই এক সংকট থেকে আরেক সংকটে চলে যাই, কিন্তু কোনো ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের কাজটি শেষ করি না। ফলে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও হারিয়ে যায়। সমাজ ধীরে ধীরে এমন এক অবস্থায় পৌঁছে, যেখানে অসমাপ্ত বিচার ও অমীমাংসিত ট্র্যাজেডি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হতে শুরু করে। এটিকে অনেকে সহনশীলতা বা স্থিতিস্থাপকতা বলে ব্যাখ্যা করেন, কিন্তু বাস্তবে তা প্রায়ই বিস্মৃতির সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে।

এই কারণেই একটি স্বাধীন সত্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় শুনানি, রাজনৈতিক বিতর্ক কিংবা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে উত্তপ্ত বক্তব্য অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু সেগুলো সচরাচর সত্য অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের বিকল্প নয়। একটি নির্দিষ্ট ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত কমিশন ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ঘটনার সামগ্রিক চিত্র নির্মাণের সুযোগ পায়।

I have no reason to stay silent' – relative of 'war on drugs' victim tells  of fight for justice - Amnesty International

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার স্বাধীনতার ওপর। সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে মানুষ প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখে। ফলে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই যদি একটি কমিশন গড়ে ওঠে, তবে তা জনআস্থার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। অবশ্য সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া তথ্য সংগ্রহের কাজ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আইনসম্মত সীমার মধ্যে রাষ্ট্রের সহযোগিতা এই উদ্যোগের সফলতার জন্য অপরিহার্য।

তবে সত্য কমিশনের গুরুত্ব শুধু তথ্য উদ্ঘাটনে সীমাবদ্ধ নয়। এর উদ্দেশ্য আদালতের বিকল্প হওয়া নয়, বরং এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করা, যেখানে ভুক্তভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে জনসমক্ষে স্বীকৃতি দেওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রক্রিয়া।

আইন আদালত অপরাধ নির্ধারণ করতে পারে, দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, শাস্তিও দিতে পারে। কিন্তু সমাজের নৈতিক ক্ষত নিরাময়ের কাজ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। ইতিহাস দেখিয়েছে, অনেক দেশে সত্য কমিশন এমন এক ভূমিকা পালন করেছে যা বিচারিক ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। সেখানে শুধু অপরাধের বিবরণ নয়, মানবিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ও সমাজের মধ্যে একটি নতুন সংলাপ তৈরি হয়। অতীতের ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত বেদনার গণ্ডি থেকে বের করে জাতীয় স্মৃতির অংশে পরিণত করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন দেখিয়েছিল যে প্রকাশ্য পরিসরে সাক্ষ্য গ্রহণ, স্মৃতিচর্চা এবং নৈতিক স্বীকৃতি একটি বিভক্ত সমাজকে নতুনভাবে নিজের দিকে তাকাতে সাহায্য করতে পারে। বিচার সবসময় কারাদণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কখনো কখনো সত্যকে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠা করাও ন্যায়বিচারের একটি অপরিহার্য ধাপ।

ফিলিপাইনের নতুন কমিশন শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোতে পারবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে যদি এটি নিহতদের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের পরিচয়, জীবনকাহিনি এবং মানবিক অস্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ নামহীন মৃতদের নাম ফিরিয়ে দেওয়া মানে শুধু তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানানো নয়; একই সঙ্গে জীবিতদেরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে রাষ্ট্রের নামে সংঘটিত প্রতিটি কাজের একটি নৈতিক মূল্য আছে।

একটি জাতি তখনই পরিপক্ব হয়, যখন সে নিজের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখে। সত্য কমিশনের প্রকৃত তাৎপর্য সেখানেই—অতীতকে দাফন করা নয়, বরং তাকে বুঝে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃতদের সংখ্যা নয়, সত্যের অনুসন্ধানই আসল বিচার

মৃতদের সংখ্যা নয়, সত্যের অনুসন্ধানই আসল বিচার

০৮:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঠিক কত মানুষ নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আজও কোনো সর্বসম্মত হিসাব নেই। কেউ এক সংখ্যা বলেন, কেউ আরেকটি। কিন্তু এই অমিলকে তদন্তের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। বরং এটাই হওয়া উচিত সত্য অনুসন্ধানের সূচনা বিন্দু। যখন একটি রাষ্ট্রের ইতিহাসে এত বড় মানবিক বিপর্যয়ের পরও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না, তখন বোঝা যায় যে ঘটনাগুলোর প্রকৃত বিবরণ এখনও অন্ধকারেই রয়ে গেছে।

প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী যুদ্ধ ফিলিপাইনের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, রাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহারের প্রশ্ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা কখনোই পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন রাজনৈতিক সংকট সামনে এসেছে, কিন্তু পুরোনো ক্ষতগুলো রয়ে গেছে অমীমাংসিত।

বর্তমানে দেশটির জনপরিসর নানা ইস্যুতে ব্যস্ত। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দুর্নীতির অভিযোগ, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক বিচার এবং আন্তর্জাতিক আদালতের প্রক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় মনোযোগ বিভক্ত। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, এখন কি সত্য অনুসন্ধানের জন্য কমিশন গঠনের উপযুক্ত সময়? কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি উল্টো। কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ভিড়ে অতীতের সহিংসতার স্মৃতি আরও দ্রুত চাপা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

সমস্যা হলো, আমরা প্রায়ই এক সংকট থেকে আরেক সংকটে চলে যাই, কিন্তু কোনো ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের কাজটি শেষ করি না। ফলে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগও হারিয়ে যায়। সমাজ ধীরে ধীরে এমন এক অবস্থায় পৌঁছে, যেখানে অসমাপ্ত বিচার ও অমীমাংসিত ট্র্যাজেডি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে মনে হতে শুরু করে। এটিকে অনেকে সহনশীলতা বা স্থিতিস্থাপকতা বলে ব্যাখ্যা করেন, কিন্তু বাস্তবে তা প্রায়ই বিস্মৃতির সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে।

এই কারণেই একটি স্বাধীন সত্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় শুনানি, রাজনৈতিক বিতর্ক কিংবা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে উত্তপ্ত বক্তব্য অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু সেগুলো সচরাচর সত্য অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত ও দীর্ঘমেয়াদি কাজের বিকল্প নয়। একটি নির্দিষ্ট ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত কমিশন ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ঘটনার সামগ্রিক চিত্র নির্মাণের সুযোগ পায়।

I have no reason to stay silent' – relative of 'war on drugs' victim tells  of fight for justice - Amnesty International

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন একটি উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে তার স্বাধীনতার ওপর। সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে মানুষ প্রায়ই সন্দেহের চোখে দেখে। ফলে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই যদি একটি কমিশন গড়ে ওঠে, তবে তা জনআস্থার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। অবশ্য সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া তথ্য সংগ্রহের কাজ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আইনসম্মত সীমার মধ্যে রাষ্ট্রের সহযোগিতা এই উদ্যোগের সফলতার জন্য অপরিহার্য।

তবে সত্য কমিশনের গুরুত্ব শুধু তথ্য উদ্ঘাটনে সীমাবদ্ধ নয়। এর উদ্দেশ্য আদালতের বিকল্প হওয়া নয়, বরং এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করা, যেখানে ভুক্তভোগীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে জনসমক্ষে স্বীকৃতি দেওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রক্রিয়া।

আইন আদালত অপরাধ নির্ধারণ করতে পারে, দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, শাস্তিও দিতে পারে। কিন্তু সমাজের নৈতিক ক্ষত নিরাময়ের কাজ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। ইতিহাস দেখিয়েছে, অনেক দেশে সত্য কমিশন এমন এক ভূমিকা পালন করেছে যা বিচারিক ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। সেখানে শুধু অপরাধের বিবরণ নয়, মানবিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ও সমাজের মধ্যে একটি নতুন সংলাপ তৈরি হয়। অতীতের ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত বেদনার গণ্ডি থেকে বের করে জাতীয় স্মৃতির অংশে পরিণত করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন দেখিয়েছিল যে প্রকাশ্য পরিসরে সাক্ষ্য গ্রহণ, স্মৃতিচর্চা এবং নৈতিক স্বীকৃতি একটি বিভক্ত সমাজকে নতুনভাবে নিজের দিকে তাকাতে সাহায্য করতে পারে। বিচার সবসময় কারাদণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; কখনো কখনো সত্যকে প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠা করাও ন্যায়বিচারের একটি অপরিহার্য ধাপ।

ফিলিপাইনের নতুন কমিশন শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোতে পারবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে যদি এটি নিহতদের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের পরিচয়, জীবনকাহিনি এবং মানবিক অস্তিত্বকে সামনে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ নামহীন মৃতদের নাম ফিরিয়ে দেওয়া মানে শুধু তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানানো নয়; একই সঙ্গে জীবিতদেরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া যে রাষ্ট্রের নামে সংঘটিত প্রতিটি কাজের একটি নৈতিক মূল্য আছে।

একটি জাতি তখনই পরিপক্ব হয়, যখন সে নিজের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতে শেখে। সত্য কমিশনের প্রকৃত তাৎপর্য সেখানেই—অতীতকে দাফন করা নয়, বরং তাকে বুঝে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা।