জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর মর্যাদাপূর্ণ ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে পদকগুলো হস্তান্তর করেন।
ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান ছয় শান্তিরক্ষী
সম্মাননা পাওয়া ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক মো. সবুজ মিয়া, সৈনিক মো. মোমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা এবং সৈনিক সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় নিহত হন।

জাতিসংঘের পতাকার অধীনে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা
অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এসব শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।
এ সময় মহাসচিব বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তারা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সংঘাতপ্রবণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের গর্ব ও অবদান
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
নিহত ছয় শান্তিরক্ষীর এই সম্মাননা তাদের আত্মত্যাগকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















