০৭:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
BSF হত্যা কি আর ‘সীমান্ত হত্যা’ নয়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ঝড় হামে ৬০০ শিশু মরল, সংসদে একটি আলোচনাও হলো না খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ৯৯ ভোটে জিতলেন সাইপ্রাসকে হারিয়ে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা, হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা ভারতের দুর্বল মৌসুমি বায়ু কি বাংলাদেশের বর্ষাকে বদলে দেবে? আমেরিকার জন্মদিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ঘিরে রহস্য: কে ছাপিয়েছিল ঐতিহাসিক সেই দলিল? – নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ব্যাংকককে ঘিরে নতুন বন্যা সতর্কতা, ২০৩০-৩৪ সালকে উচ্চ ঝুঁকির সময় বলছেন বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা হুমকির মুখে গোয়েন্দা কাঠামো বদলাচ্ছে জাপান, গঠিত হচ্ছে জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো বিয়ে থেকে পালাচ্ছে না তরুণেরা, তারা খুঁজছে এমন এক নিশ্চয়তা যা আদৌ নেই জয়-পরাজয়ের বাইরে: খেলার প্রকৃত অর্থ এবং আমাদের সমাজ

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ফিলিপাইনের কিছু রাজনীতিকের প্রতি সতর্কবার্তা

সম্প্রতি ফিলিপাইনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আবারও সতর্কবার্তা জারি করেছে। দূতাবাসের মতে, দেশটিতে চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর তল্লাশি, হয়রানি ও বেছে বেছে আইন প্রয়োগের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ফিলিপাইনে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ চীনা নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক তথাকথিত “আইন প্রয়োগমূলক অভিযান” পরিচালনা করেছে, তা উদ্বেগজনকভাবে নিয়মিত ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে।

বর্তমানে মার্কোস প্রশাসন নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তারা সাবেক মিত্র দুতার্তে পরিবারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে গুরুতর বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কঠিন। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফিলিপাইনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, আর পেসোর মূল্য ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। দেশটিকে “জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা” ঘোষণাও করতে হয়েছে। উচ্চ সরকারি ঋণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভোক্তা আস্থার পতন এবং বিনিয়োগ হ্রাস—সব মিলিয়ে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির যুগপৎ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে মার্কোস প্রশাসন জনসমর্থন ধরে রাখতে বারবার “চীন হুমকি” তত্ত্বকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেই মনে হয়।

চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়া বলা কঠিন। বরং এগুলো শক্তিশালীর দুর্বলের ওপর চাপ প্রয়োগের উদাহরণ। মে মাসের মাঝামাঝি মিসামিস ওরিয়েন্টাল প্রদেশের একটি ইস্পাত কারখানায় পরিচালিত অভিযানের কথাই ধরা যাক। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো। সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও জাতীয় তদন্ত ব্যুরোসহ প্রায় পুরো নিরাপত্তা কাঠামো এতে অংশ নেয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল স্থানীয়ভাবে প্রভাবহীন কিছু সাধারণ চীনা শ্রমিক। চীনা দূতাবাসের তীব্র প্রতিবাদের পর তাদের অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া হলেও ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে অভিযানটি “কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার বিরুদ্ধে” ছিল না। ভুলভাবে আটক ব্যক্তিদের কাছে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। বরং অভিযান শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর প্রশংসা করে বিবৃতি প্রকাশ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যানিলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায়ই নিজেকে দুর্বল পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং “চীন ছোট দেশকে হয়রানি করছে” বা “আক্রমণাত্মক সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ” এর মতো বর্ণনা প্রচার করেছে। কিন্তু আজ ফিলিপাইনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যেভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণ করছে, তাতে এসব বর্ণনার উৎস কোথায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

China adheres to non-interference, hopes German side to refrain from hyping  so-called 'espionage': FM spokesperson - Global Times

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু রাজনীতিক এখন মানবিক সহায়তাকেও রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রাখতে রাজি নন। কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও জ্বালানি সংকটের সময় চীন যে সার ও জ্বালানি সরবরাহ করেছিল, তা ফিলিপাইনের কৃষক ও সাধারণ পরিবারের জন্য বাস্তব সহায়তা ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো প্রকাশ্যে এই সহায়তাকে “প্রতারণামূলক উপস্থাপন” বলে আখ্যা দেন। এতে বোঝা যায়, কিছু রাজনীতিকের কাছে জনগণের কল্যাণও চীনবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানে পরিণত হয়েছে।

আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র ক্ষমতায় আসার পর যখনই চীন-ফিলিপাইন সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে, তখনই কিছু চীনবিরোধী শক্তি তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে।

সম্প্রতি দুই দেশ কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে, নতুন সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু ফিলিপিনো রাজনীতিক তথাকথিত “আইন প্রয়োগের নাটক” মঞ্চস্থ করছেন। এটি প্রমাণ করে যে চীনবিরোধী মনোভাব ফিলিপাইনের মূলধারার জনমত নয়; বরং অল্প কয়েকজন রাজনীতিকের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থের ফল। এসব কর্মকাণ্ড ফিলিপাইনের ব্যবসায়িক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই দেশের সম্পর্কে নতুন বিভাজন তৈরি করছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে চীন নির্দিষ্ট ফিলিপিনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করতে পারে।

ম্যানিলা যেন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা সম্ভবত মনে করছে, জাপানের মতো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এবং অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা গ্রহণ করে “প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপ-শেরিফ” হিসেবে চীনের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব। কিন্তু নিজেদের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে প্রকৃত লাভ কী—তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা হয়তো এই নীতির সমর্থকেরাও দিতে পারবেন না।

তবে এর পরিণতি স্পষ্ট। মার্কোস জুনিয়র ক্ষমতায় আসার পর ফিলিপাইনের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আরও অস্থিতিশীল হয়েছে এবং ভূরাজনৈতিক পরিবেশও জটিলতর হয়েছে। ৩ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ নির্বাচনে কিরগিজস্তান ১৪২ ভোট পেয়ে ফিলিপাইনকে ৪৯ ভোটে পরাজিত করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আসনটি লাভ করে। যদিও এই ফল সরাসরি চীন-ফিলিপাইন সম্পর্কের অবনতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবুও এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ফিলিপাইনের অবস্থান সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত দেয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করেছে।

ফিলিপাইনের নেতারা বারবার বলেছেন যে তারা চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। আশা করা যায়, তারা কথার সঙ্গে কাজেরও মিল রাখবেন, কিছু কর্মকর্তার আচরণ ও বক্তব্যের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবেন এবং কয়েকজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিকে স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রচেষ্টা নষ্ট করার সুযোগ দেবেন না।

চীন তার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। ম্যানিলার এখনও সময় আছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার। যারা বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগিয়ে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করে লাভবান হতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই সেই আগুনে দগ্ধ হতে পারে, যা তারা নিজের হাতে জ্বালিয়েছে। তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

BSF হত্যা কি আর ‘সীমান্ত হত্যা’ নয়? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ঝড়

আগুন নিয়ে খেলবেন না: ফিলিপাইনের কিছু রাজনীতিকের প্রতি সতর্কবার্তা

০৫:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সম্প্রতি ফিলিপাইনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আবারও সতর্কবার্তা জারি করেছে। দূতাবাসের মতে, দেশটিতে চীনা নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর তল্লাশি, হয়রানি ও বেছে বেছে আইন প্রয়োগের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ফিলিপাইনে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ চীনা নাগরিক, প্রতিষ্ঠান এবং চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক তথাকথিত “আইন প্রয়োগমূলক অভিযান” পরিচালনা করেছে, তা উদ্বেগজনকভাবে নিয়মিত ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে।

বর্তমানে মার্কোস প্রশাসন নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তারা সাবেক মিত্র দুতার্তে পরিবারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে গুরুতর বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি কঠিন। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফিলিপাইনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি মহামারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, আর পেসোর মূল্য ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। দেশটিকে “জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা” ঘোষণাও করতে হয়েছে। উচ্চ সরকারি ঋণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ভোক্তা আস্থার পতন এবং বিনিয়োগ হ্রাস—সব মিলিয়ে স্থবিরতা ও মূল্যস্ফীতির যুগপৎ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে মার্কোস প্রশাসন জনসমর্থন ধরে রাখতে বারবার “চীন হুমকি” তত্ত্বকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেই মনে হয়।

চীনা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়া বলা কঠিন। বরং এগুলো শক্তিশালীর দুর্বলের ওপর চাপ প্রয়োগের উদাহরণ। মে মাসের মাঝামাঝি মিসামিস ওরিয়েন্টাল প্রদেশের একটি ইস্পাত কারখানায় পরিচালিত অভিযানের কথাই ধরা যাক। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো। সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও জাতীয় তদন্ত ব্যুরোসহ প্রায় পুরো নিরাপত্তা কাঠামো এতে অংশ নেয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল স্থানীয়ভাবে প্রভাবহীন কিছু সাধারণ চীনা শ্রমিক। চীনা দূতাবাসের তীব্র প্রতিবাদের পর তাদের অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া হলেও ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ দাবি করে যে অভিযানটি “কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার বিরুদ্ধে” ছিল না। ভুলভাবে আটক ব্যক্তিদের কাছে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। বরং অভিযান শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর প্রশংসা করে বিবৃতি প্রকাশ করে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যানিলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায়ই নিজেকে দুর্বল পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং “চীন ছোট দেশকে হয়রানি করছে” বা “আক্রমণাত্মক সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ” এর মতো বর্ণনা প্রচার করেছে। কিন্তু আজ ফিলিপাইনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যেভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণ করছে, তাতে এসব বর্ণনার উৎস কোথায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

China adheres to non-interference, hopes German side to refrain from hyping  so-called 'espionage': FM spokesperson - Global Times

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু রাজনীতিক এখন মানবিক সহায়তাকেও রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রাখতে রাজি নন। কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও জ্বালানি সংকটের সময় চীন যে সার ও জ্বালানি সরবরাহ করেছিল, তা ফিলিপাইনের কৃষক ও সাধারণ পরিবারের জন্য বাস্তব সহায়তা ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো প্রকাশ্যে এই সহায়তাকে “প্রতারণামূলক উপস্থাপন” বলে আখ্যা দেন। এতে বোঝা যায়, কিছু রাজনীতিকের কাছে জনগণের কল্যাণও চীনবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণার উপাদানে পরিণত হয়েছে।

আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র ক্ষমতায় আসার পর যখনই চীন-ফিলিপাইন সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে, তখনই কিছু চীনবিরোধী শক্তি তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করেছে।

সম্প্রতি দুই দেশ কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে, নতুন সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু ফিলিপিনো রাজনীতিক তথাকথিত “আইন প্রয়োগের নাটক” মঞ্চস্থ করছেন। এটি প্রমাণ করে যে চীনবিরোধী মনোভাব ফিলিপাইনের মূলধারার জনমত নয়; বরং অল্প কয়েকজন রাজনীতিকের নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থের ফল। এসব কর্মকাণ্ড ফিলিপাইনের ব্যবসায়িক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দুই দেশের সম্পর্কে নতুন বিভাজন তৈরি করছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে চীন নির্দিষ্ট ফিলিপিনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করতে পারে।

ম্যানিলা যেন বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা সম্ভবত মনে করছে, জাপানের মতো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এবং অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনা গ্রহণ করে “প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপ-শেরিফ” হিসেবে চীনের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব। কিন্তু নিজেদের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে প্রকৃত লাভ কী—তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা হয়তো এই নীতির সমর্থকেরাও দিতে পারবেন না।

তবে এর পরিণতি স্পষ্ট। মার্কোস জুনিয়র ক্ষমতায় আসার পর ফিলিপাইনের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আরও অস্থিতিশীল হয়েছে এবং ভূরাজনৈতিক পরিবেশও জটিলতর হয়েছে। ৩ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ নির্বাচনে কিরগিজস্তান ১৪২ ভোট পেয়ে ফিলিপাইনকে ৪৯ ভোটে পরাজিত করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আসনটি লাভ করে। যদিও এই ফল সরাসরি চীন-ফিলিপাইন সম্পর্কের অবনতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবুও এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ফিলিপাইনের অবস্থান সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত দেয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করেছে।

ফিলিপাইনের নেতারা বারবার বলেছেন যে তারা চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী। আশা করা যায়, তারা কথার সঙ্গে কাজেরও মিল রাখবেন, কিছু কর্মকর্তার আচরণ ও বক্তব্যের ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবেন এবং কয়েকজন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিকে স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রচেষ্টা নষ্ট করার সুযোগ দেবেন না।

চীন তার নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কোনো দ্বিধা করবে না। ম্যানিলার এখনও সময় আছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার। যারা বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগিয়ে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করে লাভবান হতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই সেই আগুনে দগ্ধ হতে পারে, যা তারা নিজের হাতে জ্বালিয়েছে। তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।