০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩.৪১ শতাংশ পতন, ১১ মাসে আয় ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৪১ শতাংশ। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে খাতটি থেকে মোট ৩৫.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রপ্তানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাত ঐতিহ্যবাহী ও উদীয়মান বেশিরভাগ বাজারেই কিছুটা সংকোচনের মুখে পড়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কানাডার বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো শীর্ষ বাজার

শিল্প বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোট রপ্তানির ৪৯.১৫ শতাংশই গেছে এ বাজারে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এ বাজারে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪.৮৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও ধীরগতি

বাংলাদেশি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৯.৯০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭.০৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তবে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ০.০৪ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

অন্যদিকে, মোট রপ্তানির ১১.৩৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ৪.০২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৫০ শতাংশ।

কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশীদারিত্ব ৩.৪৭ শতাংশ।

উদীয়মান বাজারেও রপ্তানি কমেছে

অপ্রচলিত বা উদীয়মান বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় কমেছে। এসব বাজার থেকে সম্মিলিত আয় ৫.৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬.০৯ শতাংশ।

নিট ও ওভেন—দুই খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পণ্যের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের দুটি প্রধান উপখাতই সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৪.২৬ শতাংশ, আর ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৪২ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার চাপ ও বাজারভিত্তিক ধীরগতির প্রভাব মোকাবিলা করেছে। যদিও কিছু বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, তবু সামগ্রিক রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩.৪১ শতাংশ পতন, ১১ মাসে আয় ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার

০৮:২৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩.৪১ শতাংশ। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে খাতটি থেকে মোট ৩৫.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের রপ্তানি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাত ঐতিহ্যবাহী ও উদীয়মান বেশিরভাগ বাজারেই কিছুটা সংকোচনের মুখে পড়েছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কানাডার বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো শীর্ষ বাজার

শিল্প বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোট রপ্তানির ৪৯.১৫ শতাংশই গেছে এ বাজারে।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এ বাজারে বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ৪.৮৮ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারেও ধীরগতি

বাংলাদেশি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানির ১৯.৯০ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৭.০৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। তবে আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ০.০৪ শতাংশ ঋণাত্মক হয়েছে।

অন্যদিকে, মোট রপ্তানির ১১.৩৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকা যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে ৪.০২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে ০.৫০ শতাংশ।

কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশটিতে রপ্তানি বেড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বছরওয়ারি হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে কানাডার অংশীদারিত্ব ৩.৪৭ শতাংশ।

উদীয়মান বাজারেও রপ্তানি কমেছে

অপ্রচলিত বা উদীয়মান বাজারগুলোতেও রপ্তানি আয় কমেছে। এসব বাজার থেকে সম্মিলিত আয় ৫.৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫.৬৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্ব ১৬.০৯ শতাংশ।

নিট ও ওভেন—দুই খাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পণ্যের ধরনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের দুটি প্রধান উপখাতই সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৪.২৬ শতাংশ, আর ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ২.৪২ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার চাপ ও বাজারভিত্তিক ধীরগতির প্রভাব মোকাবিলা করেছে। যদিও কিছু বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, তবু সামগ্রিক রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।