১২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপির বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা নড়াইলে যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২০, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুদ্ধের আগুনে গড়া নতুন ইরান: বিপ্লবের রাষ্ট্র থেকে জাতীয়তাবাদের রাষ্ট্রে রূপান্তর বার্ধক্য উল্টে দেওয়ার দাবিতে বিপুল বিনিয়োগ, ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পেল জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইরানের সম্পদ ব্যবহারের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন উত্তেজনা লেবানন থেকে ফিরছে দুই বাংলাদেশির মরদেহ, ঢাকায় পৌঁছাবে ভোরে ওহাইও উৎসবের কাছে গোলাগুলি, আহত ১২; আতঙ্কে কেঁপে উঠল এলাকা খুলনায় মাদকের অন্ধকার সাম্রাজ্য, আড়ালে থেকে যাচ্ছে মূল নিয়ন্ত্রকেরা ট্রাম্পকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভেতরে বাড়ছে অস্বস্তি, কংগ্রেসে দেখা যাচ্ছে নতুন প্রতিরোধ জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে চাপে বিমান খাত, বাড়ছে দেউলিয়া ও একীভূতকরণের শঙ্কা

অস্ত্রের দৌড় নাকি স্থিতিশীলতার পথ? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামনে নতুন নিরাপত্তা দ্বন্দ্ব

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা স্থাপত্য কয়েক দশক ধরে একটি ভিন্ন দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে যেখানে সামরিক জোট, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তির ভারসাম্যকে স্থিতিশীলতার প্রধান উপাদান হিসেবে দেখা হয়, সেখানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো সংলাপ, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই পদ্ধতি নিখুঁত নয়, কিন্তু এর ফলে অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত থেকে দূরে থাকতে পেরেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এশীয় মিত্র ও অংশীদারদের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান এই প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতাকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তি হচ্ছে, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং পরিবর্তিত কৌশলগত পরিবেশে নিরাপত্তার বোঝা আরও সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে। কিন্তু এই প্রস্তাবের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা জরুরি।

প্রথম প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা কি কেবল সামরিক সক্ষমতার সমার্থক? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। এই অঞ্চলের দেশগুলো বুঝেছে যে স্থিতিশীলতা শুধু যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে নিশ্চিত হয় না। বরং রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার মাধ্যমে সংঘাতের সম্ভাবনা কমানো যায়। আসিয়ানের গুরুত্ব এখানেই। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ছোট ও বড় শক্তি একই টেবিলে বসতে বাধ্য হয়। এই ভূমিকা দুর্বল হতে শুরু করলে অঞ্চলটি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বানকে অনেকেই বাস্তববাদী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ এখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এমন সময়ে সামরিক খাতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় মানে অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে সম্পদ সরিয়ে নেওয়া। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর পড়তে বাধ্য।

বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই চাপ আসছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক উত্তেজনা, সুরক্ষাবাদী নীতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাত ইতোমধ্যে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে আরও নড়বড়ে করে তুলতে পারে।

Is There an Arms Race Underway in Southeast Asia? – The Diplomat

এখানে আরেকটি রাজনৈতিক বাস্তবতাও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে সামরিক প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিকভাবে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যখন প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবও প্রায়শই বাড়ে। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে চলে যেতে পারে। নিরাপত্তার নামে যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়, তা কখনো কখনো উল্টো রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকিও সৃষ্টি করে।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো নিরাপত্তা বিষয়ে উদাসীন থাকবে বা বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করবে। বাস্তবে তারা বহু বছর ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করেছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও গভীর করেছে। এই দ্বৈত কৌশলই তাদেরকে বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কিছুটা কৌশলগত স্বাধীনতা দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, যদি সবাই একযোগে অস্ত্র কেনা বাড়ায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভ কার? ইতিহাস দেখায়, অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রায়ই নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে অবিশ্বাস বাড়ায়। একটি দেশের প্রতিরক্ষা জোরদার করার পদক্ষেপ অন্য দেশের কাছে হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। ফলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলকে একটি ব্যয়বহুল ও অস্থিতিশীল চক্রে আটকে ফেলে।

আরও একটি অসঙ্গতি এখানে চোখে পড়ে। যদি যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের কাছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি তোলে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা যায় যে এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সামরিক ব্যয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই বিপুল ব্যয়বৃদ্ধির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কী? যদি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া এখনো কার্যকর থাকে, তাহলে এত বড় সামরিক সম্প্রসারণের লক্ষ্য কোথায়?

আসলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ অস্ত্রের অভাব নয়; বরং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা। অঞ্চলটির শক্তি সবসময়ই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার সক্ষমতায়। যদি সেই অবস্থান ত্যাগ করে এটি সামরিক মেরুকরণের দিকে এগোয়, তাহলে স্থিতিশীলতার যে ভিত্তি কয়েক দশকে গড়ে উঠেছে তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিরাপত্তাকে শুধুমাত্র সামরিক ব্যয়ের অঙ্কে পরিমাপ করা বিপজ্জনক সরলীকরণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রকৃত প্রশ্ন হলো কত অস্ত্র কেনা হবে তা নয়; বরং কীভাবে এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা বজায় রাখা যাবে, যেখানে প্রতিযোগিতা সংঘাতে রূপ নেবে না এবং উন্নয়নের অর্জন নিরাপত্তার নামে বিসর্জন দিতে হবে না। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অস্ত্রের চেয়ে কূটনীতির মূল্য এখনো কমে যায়নি। — থিতিনান পংসুধিরাক।

জনপ্রিয় সংবাদ

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপির বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা

অস্ত্রের দৌড় নাকি স্থিতিশীলতার পথ? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামনে নতুন নিরাপত্তা দ্বন্দ্ব

১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা স্থাপত্য কয়েক দশক ধরে একটি ভিন্ন দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে যেখানে সামরিক জোট, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তির ভারসাম্যকে স্থিতিশীলতার প্রধান উপাদান হিসেবে দেখা হয়, সেখানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো সংলাপ, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই পদ্ধতি নিখুঁত নয়, কিন্তু এর ফলে অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘাত থেকে দূরে থাকতে পেরেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এশীয় মিত্র ও অংশীদারদের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান এই প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতাকে নতুন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যুক্তি হচ্ছে, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং পরিবর্তিত কৌশলগত পরিবেশে নিরাপত্তার বোঝা আরও সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে। কিন্তু এই প্রস্তাবের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা জরুরি।

প্রথম প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা কি কেবল সামরিক সক্ষমতার সমার্থক? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। এই অঞ্চলের দেশগুলো বুঝেছে যে স্থিতিশীলতা শুধু যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের সংখ্যা দিয়ে নিশ্চিত হয় না। বরং রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার মাধ্যমে সংঘাতের সম্ভাবনা কমানো যায়। আসিয়ানের গুরুত্ব এখানেই। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ছোট ও বড় শক্তি একই টেবিলে বসতে বাধ্য হয়। এই ভূমিকা দুর্বল হতে শুরু করলে অঞ্চলটি আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বানকে অনেকেই বাস্তববাদী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বহু দেশ এখনো অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এমন সময়ে সামরিক খাতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় মানে অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে সম্পদ সরিয়ে নেওয়া। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর পড়তে বাধ্য।

বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই চাপ আসছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্যিক উত্তেজনা, সুরক্ষাবাদী নীতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাত ইতোমধ্যে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে আরও নড়বড়ে করে তুলতে পারে।

Is There an Arms Race Underway in Southeast Asia? – The Diplomat

এখানে আরেকটি রাজনৈতিক বাস্তবতাও রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে সামরিক প্রতিষ্ঠান ঐতিহাসিকভাবে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যখন প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তখন সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবও প্রায়শই বাড়ে। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে চলে যেতে পারে। নিরাপত্তার নামে যে কাঠামো গড়ে তোলা হয়, তা কখনো কখনো উল্টো রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করার ঝুঁকিও সৃষ্টি করে।

অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো নিরাপত্তা বিষয়ে উদাসীন থাকবে বা বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করবে। বাস্তবে তারা বহু বছর ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করেছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও গভীর করেছে। এই দ্বৈত কৌশলই তাদেরকে বৃহৎ শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে কিছুটা কৌশলগত স্বাধীনতা দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো, যদি সবাই একযোগে অস্ত্র কেনা বাড়ায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভ কার? ইতিহাস দেখায়, অস্ত্র প্রতিযোগিতা প্রায়ই নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে অবিশ্বাস বাড়ায়। একটি দেশের প্রতিরক্ষা জোরদার করার পদক্ষেপ অন্য দেশের কাছে হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। ফলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলকে একটি ব্যয়বহুল ও অস্থিতিশীল চক্রে আটকে ফেলে।

আরও একটি অসঙ্গতি এখানে চোখে পড়ে। যদি যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের কাছে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি তোলে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা যায় যে এতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও সামরিক ব্যয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই বিপুল ব্যয়বৃদ্ধির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কী? যদি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া এখনো কার্যকর থাকে, তাহলে এত বড় সামরিক সম্প্রসারণের লক্ষ্য কোথায়?

আসলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ অস্ত্রের অভাব নয়; বরং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা। অঞ্চলটির শক্তি সবসময়ই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার সক্ষমতায়। যদি সেই অবস্থান ত্যাগ করে এটি সামরিক মেরুকরণের দিকে এগোয়, তাহলে স্থিতিশীলতার যে ভিত্তি কয়েক দশকে গড়ে উঠেছে তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নিরাপত্তাকে শুধুমাত্র সামরিক ব্যয়ের অঙ্কে পরিমাপ করা বিপজ্জনক সরলীকরণ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য প্রকৃত প্রশ্ন হলো কত অস্ত্র কেনা হবে তা নয়; বরং কীভাবে এমন একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা বজায় রাখা যাবে, যেখানে প্রতিযোগিতা সংঘাতে রূপ নেবে না এবং উন্নয়নের অর্জন নিরাপত্তার নামে বিসর্জন দিতে হবে না। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অস্ত্রের চেয়ে কূটনীতির মূল্য এখনো কমে যায়নি। — থিতিনান পংসুধিরাক।