১২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যুদ্ধের আগুনে গড়া নতুন ইরান: বিপ্লবের রাষ্ট্র থেকে জাতীয়তাবাদের রাষ্ট্রে রূপান্তর

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিচয়, আঞ্চলিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মূলত ধর্মীয় বিপ্লবী দর্শনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান হয়তো আর সেই পুরোনো কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের চাপ, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে দেশটি এমন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার বাস্তব হিসাব-নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বহু পর্যবেক্ষক মনে করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরান দুর্বল হয়েছে। কিন্তু অন্য একটি ব্যাখ্যাও সামনে আসছে। সেটি হলো, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে ভেঙে দেয়নি; বরং তাকে দ্রুত অভিযোজনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাষ্ট্রটি নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করতে বাধ্য হয়েছে এবং সেই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রশাসনিক, সামরিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন শুরু করেছে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রজন্মগত রূপান্তর। ইসলামি বিপ্লবের প্রথম সারির নেতারা এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছিলেন, যখন তাদের রাজনীতি গঠিত হয়েছিল রাজতন্ত্রবিরোধী সংগ্রাম, পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং বিপ্লবী আবেগের মধ্য দিয়ে। নতুন নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বিপ্লব ঘটায়নি; তারা বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রের ভেতরেই বেড়ে উঠেছে। ফলে তাদের কাছে রাষ্ট্র রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আদর্শিক আবেগ অপেক্ষাকৃত গৌণ।

এই প্রজন্ম নিজেদেরকে বিপ্লবের রক্ষক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখে। এ কারণেই তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা অতীতের মতো ক্রমাগত আদর্শিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না। বরং বাস্তববাদী নিরাপত্তা ও ক্ষমতার হিসাবকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত ধৈর্য এখন তাদের প্রধান সম্পদ।

যুদ্ধ ইরানের সামরিক চিন্তাকেও বদলে দিয়েছে। সামরিক শক্তির সরাসরি তুলনায় পিছিয়ে থেকেও কীভাবে প্রতিপক্ষের ব্যয় বাড়ানো যায়, কীভাবে প্রযুক্তিগত সুবিধাকে আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায় এবং কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে টিকে থাকা যায়—এসব প্রশ্ন এখন ইরানি কৌশলের কেন্দ্রে। এর ফলে দেশটির নিরাপত্তা ধারণা আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও বিকেন্দ্রীভূত হয়েছে।

Iran has a long history of violent suppression, but this time may be  different

একই সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অতীতে ইরানের মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে অনেকেই আদর্শিক সম্প্রসারণের হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগুলোকে ক্রমশ নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ লক্ষ্য আর বিপ্লব রপ্তানি নয়; বরং প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবিলার জন্য কৌশলগত গভীরতা নিশ্চিত করা।

দেশের অভ্যন্তরেও পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি পরিচয় ছিল রাষ্ট্রের বৈধতার প্রধান ভিত্তি। এখন তার পাশাপাশি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় পরিচয়। রাষ্ট্রের ভাষণে, গণমাধ্যমে এবং জনসমাবেশে “ইরান” ধারণাটি ক্রমশ “ইসলামি বিপ্লব” ধারণার সমান্তরালে উঠে আসছে। এটি কোনো গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ইঙ্গিত নয়; বরং রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা।

এই নতুন সামাজিক চুক্তির মূল কথা হলো—রাষ্ট্র যদি দেশকে রক্ষা করতে পারে, অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে জনগণের একটি বড় অংশ তাকে সমর্থন দিতে পারে। অর্থাৎ বৈধতার উৎস ধর্মীয় আদর্শ থেকে সরে এসে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার দিকে ঝুঁকছে।

তবে এই রূপান্তরকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক হবে না। যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য স্থায়ী বাস্তবতা নাও হতে পারে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমন, সামাজিক অসন্তোষ এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় এসব প্রশ্ন আড়ালে যেতে পারে, কিন্তু শান্তিকালে সেগুলো আবার সামনে ফিরে আসবে।

তবু একটি বিষয় স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানকে শুধু সামরিকভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবেও বদলে দিয়েছে। যে রাষ্ট্র একসময় নিজেকে মূলত বিপ্লবের ধারক হিসেবে তুলে ধরত, সেটি এখন ক্রমশ নিজেকে একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তন সফল হবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বোঝার জন্য পুরোনো ধারণাগুলো যে আর যথেষ্ট নয়, সেটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

যুদ্ধের আগুনে গড়া নতুন ইরান: বিপ্লবের রাষ্ট্র থেকে জাতীয়তাবাদের রাষ্ট্রে রূপান্তর

১২:৩১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিচয়, আঞ্চলিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মূলত ধর্মীয় বিপ্লবী দর্শনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান হয়তো আর সেই পুরোনো কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের চাপ, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে দেশটি এমন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার বাস্তব হিসাব-নিকাশ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বহু পর্যবেক্ষক মনে করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরান দুর্বল হয়েছে। কিন্তু অন্য একটি ব্যাখ্যাও সামনে আসছে। সেটি হলো, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে ভেঙে দেয়নি; বরং তাকে দ্রুত অভিযোজনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাষ্ট্রটি নিজের দুর্বলতা শনাক্ত করতে বাধ্য হয়েছে এবং সেই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রশাসনিক, সামরিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠন শুরু করেছে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রজন্মগত রূপান্তর। ইসলামি বিপ্লবের প্রথম সারির নেতারা এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছিলেন, যখন তাদের রাজনীতি গঠিত হয়েছিল রাজতন্ত্রবিরোধী সংগ্রাম, পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং বিপ্লবী আবেগের মধ্য দিয়ে। নতুন নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তারা বিপ্লব ঘটায়নি; তারা বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্রের ভেতরেই বেড়ে উঠেছে। ফলে তাদের কাছে রাষ্ট্র রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে আদর্শিক আবেগ অপেক্ষাকৃত গৌণ।

এই প্রজন্ম নিজেদেরকে বিপ্লবের রক্ষক হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখে। এ কারণেই তাদের রাজনৈতিক ভাষা ও কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা অতীতের মতো ক্রমাগত আদর্শিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে না। বরং বাস্তববাদী নিরাপত্তা ও ক্ষমতার হিসাবকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাষ্ট্রের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কৌশলগত ধৈর্য এখন তাদের প্রধান সম্পদ।

যুদ্ধ ইরানের সামরিক চিন্তাকেও বদলে দিয়েছে। সামরিক শক্তির সরাসরি তুলনায় পিছিয়ে থেকেও কীভাবে প্রতিপক্ষের ব্যয় বাড়ানো যায়, কীভাবে প্রযুক্তিগত সুবিধাকে আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায় এবং কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে টিকে থাকা যায়—এসব প্রশ্ন এখন ইরানি কৌশলের কেন্দ্রে। এর ফলে দেশটির নিরাপত্তা ধারণা আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও বিকেন্দ্রীভূত হয়েছে।

Iran has a long history of violent suppression, but this time may be  different

একই সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অতীতে ইরানের মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে অনেকেই আদর্শিক সম্প্রসারণের হাতিয়ার হিসেবে দেখতেন। কিন্তু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগুলোকে ক্রমশ নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ লক্ষ্য আর বিপ্লব রপ্তানি নয়; বরং প্রতিপক্ষের চাপ মোকাবিলার জন্য কৌশলগত গভীরতা নিশ্চিত করা।

দেশের অভ্যন্তরেও পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি পরিচয় ছিল রাষ্ট্রের বৈধতার প্রধান ভিত্তি। এখন তার পাশাপাশি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় পরিচয়। রাষ্ট্রের ভাষণে, গণমাধ্যমে এবং জনসমাবেশে “ইরান” ধারণাটি ক্রমশ “ইসলামি বিপ্লব” ধারণার সমান্তরালে উঠে আসছে। এটি কোনো গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ইঙ্গিত নয়; বরং রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা।

এই নতুন সামাজিক চুক্তির মূল কথা হলো—রাষ্ট্র যদি দেশকে রক্ষা করতে পারে, অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে জনগণের একটি বড় অংশ তাকে সমর্থন দিতে পারে। অর্থাৎ বৈধতার উৎস ধর্মীয় আদর্শ থেকে সরে এসে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তার দিকে ঝুঁকছে।

তবে এই রূপান্তরকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক হবে না। যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য স্থায়ী বাস্তবতা নাও হতে পারে। অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক দমন, সামাজিক অসন্তোষ এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় এসব প্রশ্ন আড়ালে যেতে পারে, কিন্তু শান্তিকালে সেগুলো আবার সামনে ফিরে আসবে।

তবু একটি বিষয় স্পষ্ট। সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানকে শুধু সামরিকভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবেও বদলে দিয়েছে। যে রাষ্ট্র একসময় নিজেকে মূলত বিপ্লবের ধারক হিসেবে তুলে ধরত, সেটি এখন ক্রমশ নিজেকে একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। এই পরিবর্তন সফল হবে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বোঝার জন্য পুরোনো ধারণাগুলো যে আর যথেষ্ট নয়, সেটি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।