১১:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নতুন উষ্ণতা, পুরোনো সন্দেহ: চীন-ভারত সম্পর্কে কেন ‘সমঝোতা’ নয়, বরং ‘পরিচালিত সহাবস্থান’ই বাস্তবতা

ছয় বছর আগে লাদাখ সীমান্তে যে সংকট চীন ও ভারতের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল, আজ সেই দুই দেশ আবার সংলাপ, যোগাযোগ এবং সীমিত সহযোগিতার পথে হাঁটছে। সাম্প্রতিক বৈঠক, পুনরায় চালু হওয়া তীর্থযাত্রা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং নদীসংক্রান্ত আলোচনার পুনরুজ্জীবন দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দুই এশীয় শক্তি হয়তো অতীতের দ্বন্দ্ব পেছনে ফেলে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। সম্পর্কের এই উষ্ণতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে পুনর্মিলন বা প্রকৃত মৈত্রীর সূচনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। যা ঘটছে তা মূলত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি বাস্তববাদী প্রচেষ্টা, যার ভিত্তি বিশ্বাস নয়, বরং পারস্পরিক প্রয়োজন।

সংঘাতের মূল্য দুই দেশই বুঝেছে

২০২০ সালের পর থেকে ভারতকে উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখতে হয়েছে। এর অর্থ শুধু বাড়তি সামরিক ব্যয় নয়; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ ও ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত অগ্রাধিকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলে নয়াদিল্লির জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিবেশ অপরিহার্য।

অন্যদিকে চীনেরও হিসাব বদলেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, জনসংখ্যাগত চাপ বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সীমান্তে আরেকটি বড় উত্তেজনা ধরে রাখার বিশেষ লাভ নেই। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল রাখা বেইজিংকে তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকারে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দেয়।

ফলে উভয় পক্ষই উপলব্ধি করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি অবস্থান তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সীমান্ত বিরোধ আর একমাত্র নির্ধারক নয়

চীন-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই। অতীতে সীমান্ত সংকট দেখা দিলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রায় সব ক্ষেত্রই স্থবির হয়ে পড়ত। এখন দুই দেশ ধীরে ধীরে এমন একটি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সীমান্ত বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কিন্তু সেটি পুরো সম্পর্ককে জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

লাদাখের কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ সীমিত আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। তার সুযোগে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আবারও কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এটি সীমান্ত সমস্যার সমাধান নয়। বরং এটি সেই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক সচল রাখার প্রচেষ্টা।

প্রতীকী অগ্রগতি বাস্তব দ্বন্দ্ব দূর করে না

কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এমন প্রতীকী পদক্ষেপকে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কারণ অবিশ্বাসের প্রধান উৎসগুলো এখনও বহাল আছে। সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। উভয় দেশই সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। হিমালয় অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণও অব্যাহত রয়েছে। গালওয়ানের সংঘর্ষ ভারতের নিরাপত্তা মহলে যে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে, সেটিও সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

China and India rebuild trust on the path to reconciliation | East Asia  Forum

সীমান্তের বাইরেও প্রতিযোগিতা

দুই দেশের বিরোধ কেবল পাহাড়ি সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ভারত চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপস্থিতিকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখে, আর পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নয়াদিল্লির উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোও এখনও অমীমাংসিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত যে কৌশলগত অর্থনৈতিক সতর্কতা গ্রহণ করেছে, তা দেখায় যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি হলেও রাজনৈতিক সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি।

পানি হতে পারে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ

আগামী বছরগুলোতে পানি নিরাপত্তা চীন-ভারত সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তিব্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর চীনের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বহুদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর প্রবাহ, পানি বণ্টন এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরনের কৌশলগত সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।

আজকের সহযোগিতা তাই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মতবিরোধের নিশ্চয়তা দূর করে না।

সহযোগিতা নয়, নিয়ন্ত্রণই এখন লক্ষ্য

চীন ও ভারত উভয়ই উদীয়মান শক্তি। এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কৌশলগত কাঠামো নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। ভারত এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়ার পক্ষে, যেখানে কোনো একক শক্তি প্রাধান্য বিস্তার করবে না। চীনের অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন।

এই মৌলিক বাস্তবতা রাতারাতি বদলাবে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পর্কের নতুন সোনালি যুগের সূচনা হিসেবে দেখার কারণ নেই।

বরং যা ঘটছে তা হলো ঝুঁকি কমানোর জন্য নতুন সুরক্ষা কাঠামো তৈরির চেষ্টা। ইতিহাস বলে, চীন-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে সফল সময়গুলো বিশ্বাসের ওপর নয়, বরং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়েছিল।

আজও সেই পথই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

ভবিষ্যতে এই উষ্ণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার গতিপ্রকৃতি এবং বেইজিং ও নয়াদিল্লির রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী চাপ সামাল দিতে পারে তার ওপর। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা বন্ধুত্ব নয়, বরং পরিচালিত সহাবস্থান।

এশিয়ার ক্ষমতার রাজনীতির এই যুগে, সেটিই হয়তো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

নতুন উষ্ণতা, পুরোনো সন্দেহ: চীন-ভারত সম্পর্কে কেন ‘সমঝোতা’ নয়, বরং ‘পরিচালিত সহাবস্থান’ই বাস্তবতা

০১:৫৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ছয় বছর আগে লাদাখ সীমান্তে যে সংকট চীন ও ভারতের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল, আজ সেই দুই দেশ আবার সংলাপ, যোগাযোগ এবং সীমিত সহযোগিতার পথে হাঁটছে। সাম্প্রতিক বৈঠক, পুনরায় চালু হওয়া তীর্থযাত্রা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং নদীসংক্রান্ত আলোচনার পুনরুজ্জীবন দেখে অনেকের মনে হতে পারে যে দুই এশীয় শক্তি হয়তো অতীতের দ্বন্দ্ব পেছনে ফেলে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। সম্পর্কের এই উষ্ণতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাকে পুনর্মিলন বা প্রকৃত মৈত্রীর সূচনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। যা ঘটছে তা মূলত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি বাস্তববাদী প্রচেষ্টা, যার ভিত্তি বিশ্বাস নয়, বরং পারস্পরিক প্রয়োজন।

সংঘাতের মূল্য দুই দেশই বুঝেছে

২০২০ সালের পর থেকে ভারতকে উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখতে হয়েছে। এর অর্থ শুধু বাড়তি সামরিক ব্যয় নয়; একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ ও ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত অগ্রাধিকারের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলে নয়াদিল্লির জন্য একটি তুলনামূলক স্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিবেশ অপরিহার্য।

অন্যদিকে চীনেরও হিসাব বদলেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, জনসংখ্যাগত চাপ বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সীমান্তে আরেকটি বড় উত্তেজনা ধরে রাখার বিশেষ লাভ নেই। বরং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল রাখা বেইজিংকে তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রাধিকারে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দেয়।

ফলে উভয় পক্ষই উপলব্ধি করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি অবস্থান তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সীমান্ত বিরোধ আর একমাত্র নির্ধারক নয়

চীন-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন সম্ভবত এখানেই। অতীতে সীমান্ত সংকট দেখা দিলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রায় সব ক্ষেত্রই স্থবির হয়ে পড়ত। এখন দুই দেশ ধীরে ধীরে এমন একটি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সীমান্ত বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কিন্তু সেটি পুরো সম্পর্ককে জিম্মি করে রাখতে পারবে না।

লাদাখের কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ সীমিত আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে। তার সুযোগে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আবারও কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এটি সীমান্ত সমস্যার সমাধান নয়। বরং এটি সেই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক সচল রাখার প্রচেষ্টা।

প্রতীকী অগ্রগতি বাস্তব দ্বন্দ্ব দূর করে না

কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে এমন প্রতীকী পদক্ষেপকে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কারণ অবিশ্বাসের প্রধান উৎসগুলো এখনও বহাল আছে। সীমান্ত বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। উভয় দেশই সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। হিমালয় অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণও অব্যাহত রয়েছে। গালওয়ানের সংঘর্ষ ভারতের নিরাপত্তা মহলে যে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে, সেটিও সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

China and India rebuild trust on the path to reconciliation | East Asia  Forum

সীমান্তের বাইরেও প্রতিযোগিতা

দুই দেশের বিরোধ কেবল পাহাড়ি সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। ভারত চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপস্থিতিকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখে, আর পাকিস্তানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নয়াদিল্লির উদ্বেগের অন্যতম কারণ।

প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোও এখনও অমীমাংসিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত যে কৌশলগত অর্থনৈতিক সতর্কতা গ্রহণ করেছে, তা দেখায় যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি হলেও রাজনৈতিক সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি।

পানি হতে পারে ভবিষ্যতের নতুন চ্যালেঞ্জ

আগামী বছরগুলোতে পানি নিরাপত্তা চীন-ভারত সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তিব্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর চীনের বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বহুদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর প্রবাহ, পানি বণ্টন এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ধরনের কৌশলগত সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে।

আজকের সহযোগিতা তাই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মতবিরোধের নিশ্চয়তা দূর করে না।

সহযোগিতা নয়, নিয়ন্ত্রণই এখন লক্ষ্য

চীন ও ভারত উভয়ই উদীয়মান শক্তি। এশিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও কৌশলগত কাঠামো নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। ভারত এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়ার পক্ষে, যেখানে কোনো একক শক্তি প্রাধান্য বিস্তার করবে না। চীনের অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন।

এই মৌলিক বাস্তবতা রাতারাতি বদলাবে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পর্কের নতুন সোনালি যুগের সূচনা হিসেবে দেখার কারণ নেই।

বরং যা ঘটছে তা হলো ঝুঁকি কমানোর জন্য নতুন সুরক্ষা কাঠামো তৈরির চেষ্টা। ইতিহাস বলে, চীন-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে সফল সময়গুলো বিশ্বাসের ওপর নয়, বরং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়েছিল।

আজও সেই পথই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

ভবিষ্যতে এই উষ্ণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার গতিপ্রকৃতি এবং বেইজিং ও নয়াদিল্লির রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী চাপ সামাল দিতে পারে তার ওপর। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা বন্ধুত্ব নয়, বরং পরিচালিত সহাবস্থান।

এশিয়ার ক্ষমতার রাজনীতির এই যুগে, সেটিই হয়তো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।