সঙ্গীত, প্রেম, অপরাধ আর আত্মপরিচয়ের সন্ধান—সবকিছুকে এক সুতোয় গেঁথে বড় পর্দায় এসেছে ‘টিউনার’। প্রচলিত ধারার বাইরে তৈরি এই চলচ্চিত্রে একজন প্রতিভাবান পিয়ানো টিউনারের জীবন কীভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে অপরাধের জগতে জড়িয়ে পড়ে, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে আবেগঘন ও রোমাঞ্চকর ভঙ্গিতে।
প্রতিভাবান সঙ্গীতশিল্পীর ভাঙা স্বপ্ন
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র নিকি হোয়াইট। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান পিয়ানোবাদক। কিন্তু শ্রবণসংক্রান্ত একটি জটিল সমস্যার কারণে তার সঙ্গীতজীবন থমকে যায়। এরপর তিনি কিংবদন্তি পিয়ানো টিউনার হ্যারি হোরোভিটজের অধীনে কাজ শুরু করেন।
হ্যারির সঙ্গে নিউইয়র্ক শহরের নানা বাড়ি ও সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে নিকির জীবন এগোতে থাকে। হ্যারি শুধু একজন দক্ষ টিউনার নন, জীবনের নানা বিষয়ে অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন পরামর্শদাতাও।
প্রেম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নতুন সম্পর্ক
একটি সঙ্গীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিকির পরিচয় হয় রুথির সঙ্গে। প্রতিভাবান এই তরুণীর স্বপ্ন বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
তবে সম্পর্কের পাশাপাশি দুজনের মধ্যেই থাকে নিজস্ব স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা দ্বন্দ্ব। এই আবেগঘন সম্পর্ক গল্পটিকে আরও গভীরতা দিয়েছে।
অপরাধের জগতে অপ্রত্যাশিত প্রবেশ
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন নিকি আবিষ্কার করেন, তার এমন একটি বিশেষ দক্ষতা রয়েছে যা দিয়ে তিনি সিন্দুক খুলতে পারেন। একই সময়ে হ্যারির অসুস্থতা এবং চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর সংকট তাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।
এরপর একদল চতুর চোরের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরিস্থিতির চাপে নিকি এমন এক পথে হাঁটতে শুরু করেন, যা তাকে অপরাধের জগতে টেনে নিয়ে যায়। কিন্তু এই যাত্রা শুধু অর্থ বা বেঁচে থাকার নয়, নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধের সঙ্গেও লড়াই।
শক্তিশালী অভিনয় ও নির্মাণশৈলী
চলচ্চিত্রটির অন্যতম শক্তি এর চরিত্র নির্মাণ। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও মানবিক দিক গল্পকে বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। নিকির চরিত্রে অভিনয় গভীর আবেগ ও সংবেদনশীলতার ছাপ রেখে যায়।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীতও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাস্ত্রীয় সুর, জ্যাজ, বিষণ্ন আবহ এবং পিয়ানোর শক্তিশালী ব্যবহার দর্শককে চরিত্রগুলোর মানসিক জগতের আরও কাছে নিয়ে যায়। শব্দ পরিকল্পনাও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তৈরি, যা নিকির অভিজ্ঞতাকে অনুভব করতে সাহায্য করে।
শুধু অপরাধকাহিনি নয়
‘টিউনার’কে শুধুমাত্র অপরাধভিত্তিক চলচ্চিত্র বলা কঠিন। এটি একই সঙ্গে প্রেমের গল্প, শিল্পীর সংকটের গল্প এবং আত্মপরিচয় খোঁজার গল্প। যখন একজন শিল্পীর কাছ থেকে তার সবচেয়ে প্রিয় প্রকাশের মাধ্যম কেড়ে নেওয়া হয়, তখন তিনি কীভাবে নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পান—চলচ্চিত্রটি সেই প্রশ্নও উত্থাপন করে।
রোমাঞ্চ, আবেগ এবং মানবিকতার ভারসাম্য বজায় রেখে ‘টিউনার’ দর্শকদের শেষ পর্যন্ত গল্পের সঙ্গে বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
টিউনার চলচ্চিত্রে সঙ্গীত, প্রেম ও অপরাধের মিশেলে এক ভিন্নধর্মী গল্প। আত্মপরিচয় ও সংগ্রামের আবেগঘন উপস্থাপনই এর মূল আকর্ষণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















