পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে রুশ তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে ভারতের মোট তেল আমদানি ব্যয় এক মাসের ব্যবধানে বড় ধরনের লাফ দিয়েছে।
এপ্রিল মাসের বাণিজ্য তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের মোট তেল আমদানির মধ্যে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব মূল্যমানের হিসেবে প্রায় ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরিমাণের হিসেবে দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৪ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে।
আমদানির পরিমাণ ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে
মার্চ মাসে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরুর পর ভারতের মোট তেল আমদানি কমে গেলেও এপ্রিল মাসে তা আবার ঘুরে দাঁড়ায়। মার্চে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫৮ লাখ টন, এপ্রিল মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৫ লাখ টনের বেশি।
তবে শুধু আমদানির পরিমাণই নয়, তেলের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় আরও দ্রুত বেড়েছে। মার্চের তুলনায় এপ্রিলে ভারতের মোট তেল আমদানি বিল প্রায় ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
রুশ তেলের জন্য বেশি দাম দিচ্ছে ভারত
সম্প্রতি পর্যন্ত রাশিয়া ভারতকে ছাড়মূল্যে তেল সরবরাহ করলেও সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন উল্টো রুশ তেলের জন্য অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে ভারতকে।
এপ্রিল মাসে রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের জন্য ভারত গড়ে প্রতি টনে প্রায় ৮৬৫ ডলার পরিশোধ করেছে। অথচ সব দেশ মিলিয়ে আমদানি করা তেলের গড় মূল্য ছিল প্রতি টনে প্রায় ৭৮৭ ডলার।
ফলে রুশ তেলের ক্ষেত্রে প্রতি টনে প্রায় ৭৮ ডলার অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়েছে ভারতকে। মার্চ মাসে এই অতিরিক্ত মূল্য ছিল মাত্র প্রায় ১৫ ডলার। এক মাসের ব্যবধানে এই অতিরিক্ত মূল্য প্রায় ৪২৫ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব কমেছে
অন্যদিকে ভারতের তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। এপ্রিল মাসে ভারতের মোট তেল আমদানি ব্যয়ের মাত্র ২ দশমিক ৯ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা তেলের পেছনে। পরিমাণের হিসাবেও দেশটির অংশ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

দুই ক্ষেত্রেই এটি গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়। ফলে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, ভারত ক্রমশ রুশ তেলের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব কমছে।
ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে ভারতকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে, কিন্তু সেই তেলের জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির এই বাড়তি ব্যয় ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ার পাশাপাশি উচ্চমূল্যের কারণে এপ্রিল মাসে ভারতের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি কমে আট মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















