মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির পেছনে যুদ্ধের শঙ্কা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৬৪ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার ৪২ সেন্টে। এর ফলে আগের সপ্তাহের মূল্যপতনের বেশিরভাগই পুনরুদ্ধার হয়েছে।

শান্তি আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা
সাম্প্রতিক হামলার ফলে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাও ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন হামলা সেই আশাবাদকে দুর্বল করে দিয়েছে।
এদিকে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষের তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।
ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার মধ্যে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ অনেক দেশই বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজে-কলমে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কাটাতে সক্ষম হবে না।
বাজারে সামনে কী অপেক্ষা করছে
বিশ্ব তেলবাজার এখন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সংঘাত আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। অন্যদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















