০২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
নতুন বাস্তবতা নাকি পুরোনো চক্র? সোনার বাজারের সামনে বড় প্রশ্ন দাউদি বোহরা রায় ঘিরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের পরিবারে হামলা-হুমকি, যুক্তরাজ্যেও তদন্ত টনি অ্যাওয়ার্ডসে ঝলমলে রাত, মঞ্চ মাতালেন পিংক; সেরা সম্মানে বাজিমাত নতুন ও পুরোনো প্রযোজনার বিশ্ব মহাসাগর সংকটে, জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী চাকরিতে ভাটা, বাড়ছে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ মিন্দানাও ভূমিকম্পের পর সাবাহ উপকূলে সুনামি সতর্কতা, সক্রিয় করা হলো সাইরেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি মন্ত্রীর লিথিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানো: নতুন উত্থান নাকি সাময়িক স্বস্তি? ডেকলান রাইসকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সহ-অধিনায়ক করলেন টুখেল জিএলপি-১ ওষুধের এক ডোজেই দুঃস্বপ্ন, নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন অভিনেত্রী মায়িম বিয়ালিক

হরমুজ সংকটের মধ্যেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ওপেক প্লাস। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হলেও জোটভুক্ত দেশগুলো জুলাই থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ জুলাই মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অনুমোদন করে। টানা চার মাস ধরে উৎপাদন কোটা বাড়ানোর এটি চতুর্থ সিদ্ধান্ত।

সরবরাহ সংকটের মধ্যেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান উৎপাদক দেশ গ্রাহকদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না।

OPEC+ likely to raise July oil output target despite Hormuz disruption,  sources say | Reuters

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক সদস্য দেশ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার বাস্তব প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন ছিল দৈনিক ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল। কিন্তু রপ্তানি সীমাবদ্ধতা ও সরবরাহ সমস্যার কারণে এপ্রিল মাসে তা নেমে আসে দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।

জুলাই থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইরাকের উৎপাদন কোটা দৈনিক ২৬ হাজার ব্যারেল বাড়বে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাস্তব উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কতটা হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

পুরোনো উৎপাদন কাটছাঁট প্রত্যাহারের পথে জোট

OPEC+ agrees to boost oil output when Strait of Hormuz reopens | The  Business Standard

২০২৩ সালে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমানে সেই কাটছাঁট ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। জুলাইয়ের পরও একই হারে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই অবশিষ্ট কাটছাঁটের বড় অংশ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে।

ওপেক প্লাসের এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২০২৬ সালের নীতি অপরিবর্তিত

একই দিনে অনুষ্ঠিত বৃহত্তর বৈঠকে ওপেক প্লাসের সব সদস্য দেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকা সামগ্রিক উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বর্তমানে যে ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, তা একসময় অতিরিক্ত সরবরাহের উদ্বেগেও রূপ নিতে পারে। ফলে আগামী কয়েক মাস বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

OPEC oil output falls to multi-decade low in April due to Hormuz disruptions

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বাস্তবতা নাকি পুরোনো চক্র? সোনার বাজারের সামনে বড় প্রশ্ন

হরমুজ সংকটের মধ্যেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের

১২:১০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে ওপেক প্লাস। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হলেও জোটভুক্ত দেশগুলো জুলাই থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ জুলাই মাস থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অনুমোদন করে। টানা চার মাস ধরে উৎপাদন কোটা বাড়ানোর এটি চতুর্থ সিদ্ধান্ত।

সরবরাহ সংকটের মধ্যেও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি প্রধান উৎপাদক দেশ গ্রাহকদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করতে পারছে না।

OPEC+ likely to raise July oil output target despite Hormuz disruption,  sources say | Reuters

এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক সদস্য দেশ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার বাস্তব প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন ছিল দৈনিক ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল। কিন্তু রপ্তানি সীমাবদ্ধতা ও সরবরাহ সমস্যার কারণে এপ্রিল মাসে তা নেমে আসে দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।

জুলাই থেকে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইরাকের উৎপাদন কোটা দৈনিক ২৬ হাজার ব্যারেল বাড়বে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বাস্তব উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কতটা হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

পুরোনো উৎপাদন কাটছাঁট প্রত্যাহারের পথে জোট

OPEC+ agrees to boost oil output when Strait of Hormuz reopens | The  Business Standard

২০২৩ সালে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বর্তমানে সেই কাটছাঁট ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। জুলাইয়ের পরও একই হারে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই অবশিষ্ট কাটছাঁটের বড় অংশ তুলে নেওয়া সম্ভব হবে।

ওপেক প্লাসের এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও ওমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২০২৬ সালের নীতি অপরিবর্তিত

একই দিনে অনুষ্ঠিত বৃহত্তর বৈঠকে ওপেক প্লাসের সব সদস্য দেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকা সামগ্রিক উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বর্তমানে যে ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে, তা একসময় অতিরিক্ত সরবরাহের উদ্বেগেও রূপ নিতে পারে। ফলে আগামী কয়েক মাস বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

OPEC oil output falls to multi-decade low in April due to Hormuz disruptions