যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে নতুন এক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাড়তি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে দেশটির চাকরির বাজারে স্থায়ী নিয়োগের গতি কমে গেছে, আর অস্থায়ী চাকরির সুযোগ বেড়েছে।
ব্যবসাগুলোর সতর্ক অবস্থান
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে এসে অপেক্ষাকৃত নমনীয় কর্মসংস্থান ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। অর্থনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবসাগুলো স্থায়ী কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী কর্মী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। এর পরিবর্তে অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তারা প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছে।

স্থায়ী নিয়োগে বড় ধাক্কা
মে মাসে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের হার গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত কমেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ব্যবসায়িক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে নতুন স্থায়ী পদ সৃষ্টি কমে এসেছে।
অন্যদিকে অস্থায়ী চাকরির প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক নিয়োগদাতা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ তাদের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশি কার্যকর।
চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে
ছাঁটাই, চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় আরও বেশি মানুষ নতুন চাকরির জন্য আবেদন করছেন।

প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় নতুন কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হারও সীমিত রয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির গতি খুবই ধীর।
স্বাস্থ্যসেবা খাত ব্যতিক্রম
অর্থনীতির বেশিরভাগ খাতে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ কমলেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। নার্সিং, চিকিৎসা এবং সেবামূলক খাতই একমাত্র ক্ষেত্র যেখানে স্থায়ী কর্মীর চাহিদা বেড়েছে।
অন্যদিকে খুচরা বিক্রয় খাতে স্থায়ী চাকরির সুযোগ সবচেয়ে বেশি কমেছে। এই খাতে ব্যয় সংকোচন এবং ভোক্তাদের সতর্ক খরচের প্রবণতা নিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ
দেশটিতে বেকারত্বের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির গতি কমে আসায় শ্রমবাজারের চাপ আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রবেশস্তরের চাকরির সংখ্যা কমে যাওয়ায় তরুণদের কর্মসংস্থান সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কাজ বা পড়াশোনার বাইরে থাকা তরুণদের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক মিলিয়নের বেশি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ও স্থানীয় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে স্থায়ী নিয়োগের গতি আরও মন্থর হতে পারে। ফলে অস্থায়ী কর্মসংস্থান আগামী মাসগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















